ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ — Bank Job
ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ: সাধারণ জ্ঞান, Bank Job পাঠ ও 0টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/1।
এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী
- পাকিস্তান আমল ও পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
- ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
- স্বাধিকার আন্দোলন ও ইংরেজ শাসনের অবসান-পরবর্তী রাজনীতি
- ছয় দফা আন্দোলন
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৭০ সালের নির্বাচন
- ১৯৭১ সালের মার্চ ও স্বাধীনতার পথে অগ্রযাত্রা
- অপারেশন সার্চলাইট ও গণহত্যা
- স্বাধীনতার ঘোষণা
- মুজিবনগর সরকার
- মহান মুক্তিযুদ্ধ
- মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স
- মুক্তিবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী
- মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
- বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযুদ্ধের খেতাব
- বিজয়, আত্মসমর্পণ ও স্বাধীনতা
পাকিস্তান আমল ও পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
Political Background of East Bengal under Pakistan
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হওয়ার পর পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয় এবং পরবর্তীকালে এর নাম পূর্ব পাকিস্তান হয়। ভৌগোলিকভাবে দুই অংশের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব থাকলেও কেন্দ্রীয় শাসন পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রভাষা, অর্থনৈতিক বণ্টন, প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি বাড়তে থাকে। এর ফলেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।
রাষ্ট্রভাষা, অর্থনৈতিক বণ্টন, প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি বাড়তে থাকে। এর ফলেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।
১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন
Language Movement of 1952
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিরোধ দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে। পূর্ব বাংলার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর একটি অংশ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নেয়। এর বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হয়।
বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তমদ্দুন মজলিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাষার দাবিতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদও গঠিত হয়।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ কয়েকজন শহীদ হন।
ভাষা আন্দোলনের ফলে বাংলা ভাষার দাবি আরও শক্তিশালী হয় এবং পরবর্তীতে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। এই আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবোধের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
২১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তমদ্দুন মজলিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাষার দাবিতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদও গঠিত হয়।
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ কয়েকজন শহীদ হন।
ভাষা আন্দোলনের ফলে বাংলা ভাষার দাবি আরও শক্তিশালী হয় এবং পরবর্তীতে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। এই আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবোধের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
২১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
United Front Election of 1954
পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগবিরোধী অবস্থান থেকে একটি নির্বাচনী জোট গঠন করে, যা যুক্তফ্রন্ট নামে পরিচিত। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল ছিল এই জোটের প্রধান অংশ।
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি ২১ দফা নামে পরিচিত ছিল। এর প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি ছিল।
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয়।
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি ২১ দফা নামে পরিচিত ছিল। এর প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি ছিল।
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয়।
স্বাধিকার আন্দোলনের বিকাশ
Growth of the Autonomy Movement
ভাষা আন্দোলনের পর পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের দাবি আরও বিস্তৃত হয়। কেন্দ্রীয় শাসনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরালো করতে থাকে।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উপলব্ধি করতে থাকে যে শুধু ভাষাগত অধিকার নয়, আর্থিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রেও স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন। এই দাবি পরবর্তীতে ছয় দফা কর্মসূচিতে সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উপলব্ধি করতে থাকে যে শুধু ভাষাগত অধিকার নয়, আর্থিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রেও স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন। এই দাবি পরবর্তীতে ছয় দফা কর্মসূচিতে সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে।
ছয় দফা আন্দোলন
Six Point Movement
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচি বাঙালির স্বাধিকারের রূপরেখা হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।
ছয় দফার মূল লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে প্রদেশের অর্থনীতি, রাজস্ব, বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রশাসনে অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। কর্মসূচিটি পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করলে কেন্দ্রীয় সরকার বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে গ্রেফতার করে।
ছয় দফা আন্দোলনের ফলে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি আরও সুস্পষ্ট ও সংগঠিত হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনতার আন্দোলনের দিকে রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হয়।
ছয় দফার মূল লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে প্রদেশের অর্থনীতি, রাজস্ব, বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রশাসনে অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। কর্মসূচিটি পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করলে কেন্দ্রীয় সরকার বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে গ্রেফতার করে।
ছয় দফা আন্দোলনের ফলে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি আরও সুস্পষ্ট ও সংগঠিত হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনতার আন্দোলনের দিকে রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হয়।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
Agartala Conspiracy Case
পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রধান অভিযুক্তদের অন্যতম।
এই মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ মামলাটি প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ অভিযুক্তদের মুক্তির দাবি জানায়।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের চাপে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করেন।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রধান অভিযুক্তদের অন্যতম।
এই মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ মামলাটি প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ অভিযুক্তদের মুক্তির দাবি জানায়।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের চাপে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করেন।
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
Mass Uprising of 1969
ছয় দফা, ছাত্রদের ১১ দফা, আগরতলা মামলা এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ একত্রিত হয়ে ১৯৬৯ সালে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
ছাত্রসমাজ এ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষও এতে যুক্ত হয়।
গণঅভ্যুত্থানে আসাদসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
এই গণআন্দোলনের ফলে আইয়ুব খান রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
ছাত্রসমাজ এ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষও এতে যুক্ত হয়।
গণঅভ্যুত্থানে আসাদসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
এই গণআন্দোলনের ফলে আইয়ুব খান রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন
General Election of 1970
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি ছয় দফাভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর জনগণের সমর্থন লাভ করে।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি ছয় দফাভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর জনগণের সমর্থন লাভ করে।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ ও স্বাধীনতার পথে অগ্রযাত্রা
March 1971 and the Road to Independence
১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তোলে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রশাসন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অমান্য করার প্রবণতা তৈরি হয়।
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বাঙালিকে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।
মার্চের শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী দমন-পীড়নের প্রস্তুতি নেয় এবং ২৫ মার্চ রাতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রশাসন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অমান্য করার প্রবণতা তৈরি হয়।
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বাঙালিকে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন।
মার্চের শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী দমন-পীড়নের প্রস্তুতি নেয় এবং ২৫ মার্চ রাতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
অপারেশন সার্চলাইট ও গণহত্যা
Operation Searchlight
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সামরিক দমন অভিযান শুরু করে, যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক হামলা চালানো হয়। ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য বাঙালি নিহত হন।
এই অভিযান বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত করে। বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
পরবর্তী নয় মাসে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক হামলা চালানো হয়। ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য বাঙালি নিহত হন।
এই অভিযান বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত করে। বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
পরবর্তী নয় মাসে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে।
স্বাধীনতার ঘোষণা
Declaration of Independence
২৫ মার্চ রাতের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার বার্তা বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়। এই ঘোষণার পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে।
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়। এই ঘোষণার পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে।
মুজিবনগর সরকার
Provisional Government of Bangladesh
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ রাজনৈতিক কাঠামো দেওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এপ্রিল ১৯৭১-এ দেওয়া হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানটির নাম মুজিবনগর রাখা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, শরণার্থী সহায়তা এবং প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এপ্রিল ১৯৭১-এ দেওয়া হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানটির নাম মুজিবনগর রাখা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, শরণার্থী সহায়তা এবং প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ
Liberation War of Bangladesh
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নয় মাসব্যাপী সশস্ত্র সংগ্রাম। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, পুলিশ, ইপিআর সদস্য ও সাধারণ জনগণ বিভিন্নভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়।
মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার জন্য সামরিক অঞ্চলভিত্তিক সেক্টর গঠন করা হয়। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার দায়িত্ব পালন করেন।
গেরিলা যুদ্ধ, সম্মুখযুদ্ধ, নৌ-অভিযান, ধ্বংসাত্মক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
যুদ্ধের শেষদিকে ভারতীয় সামরিক বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়। যৌথবাহিনীর অগ্রযাত্রায় পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমে পরাজিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার জন্য সামরিক অঞ্চলভিত্তিক সেক্টর গঠন করা হয়। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার দায়িত্ব পালন করেন।
গেরিলা যুদ্ধ, সম্মুখযুদ্ধ, নৌ-অভিযান, ধ্বংসাত্মক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
যুদ্ধের শেষদিকে ভারতীয় সামরিক বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়। যৌথবাহিনীর অগ্রযাত্রায় পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমে পরাজিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স
Sectors and Brigade Forces
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে বিভিন্ন সামরিক সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের নিজস্ব কমান্ড কাঠামো, যুদ্ধক্ষেত্র ও দায়িত্ব ছিল।
সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধের পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনীর কয়েকটি ব্রিগেড ফোর্সও গড়ে ওঠে। জেড ফোর্স, কে ফোর্স ও এস ফোর্স মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ব্রিগেড ফোর্স হিসেবে পরিচিত।
এই বাহিনীগুলো সম্মুখযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করে।
সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধের পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনীর কয়েকটি ব্রিগেড ফোর্সও গড়ে ওঠে। জেড ফোর্স, কে ফোর্স ও এস ফোর্স মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ব্রিগেড ফোর্স হিসেবে পরিচিত।
এই বাহিনীগুলো সম্মুখযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করে।
মুক্তিবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী
Freedom Forces
মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত ও অনিয়মিত উভয় ধরনের বাহিনী অংশ নেয়। মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্বতন্ত্র বাহিনী ও গেরিলা দল গড়ে ওঠে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্বে গঠিত প্রতিরোধ বাহিনীগুলো পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করা, অস্ত্র সংগ্রহ, গেরিলা আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার কাজ করে।
নৌ-কমান্ডো বাহিনী নদীবন্দর ও জাহাজে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে। অপারেশন জ্যাকপট এ ধরনের উল্লেখযোগ্য নৌ-কমান্ডো অভিযানের অন্যতম।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্বে গঠিত প্রতিরোধ বাহিনীগুলো পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করা, অস্ত্র সংগ্রহ, গেরিলা আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার কাজ করে।
নৌ-কমান্ডো বাহিনী নদীবন্দর ও জাহাজে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে। অপারেশন জ্যাকপট এ ধরনের উল্লেখযোগ্য নৌ-কমান্ডো অভিযানের অন্যতম।
মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা
International Support during the Liberation War
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে ভূমিকা রাখে। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সহযোগিতা প্রদানে ভারতের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে সহায়ক অবস্থান নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই বিভাজন মুক্তিযুদ্ধের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও মানবাধিকারকর্মী বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।
সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে সহায়ক অবস্থান নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই বিভাজন মুক্তিযুদ্ধের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও মানবাধিকারকর্মী বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
Swadhin Bangla Betar Kendra
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ কেন্দ্র থেকে সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, নাটক, ব্যঙ্গাত্মক অনুষ্ঠান এবং যুদ্ধসংক্রান্ত বার্তা প্রচার করা হতো।
চরমপত্র ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এম. আর. আখতার মুকুল এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
এ কেন্দ্র থেকে সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, নাটক, ব্যঙ্গাত্মক অনুষ্ঠান এবং যুদ্ধসংক্রান্ত বার্তা প্রচার করা হতো।
চরমপত্র ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এম. আর. আখতার মুকুল এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযুদ্ধের খেতাব
Gallantry Awards of the Liberation War
মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সাতজন মুক্তিযোদ্ধা এই খেতাবে ভূষিত হন।
সাত বীরশ্রেষ্ঠ হলেন—
১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
২। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
৩। সিপাহী হামিদুর রহমান
৪। সিপাহী মোস্তফা কামাল
৫। ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ
৭। ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠের পর বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক ছিল অন্যান্য বীরত্বসূচক খেতাব।
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সাতজন মুক্তিযোদ্ধা এই খেতাবে ভূষিত হন।
সাত বীরশ্রেষ্ঠ হলেন—
১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
২। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
৩। সিপাহী হামিদুর রহমান
৪। সিপাহী মোস্তফা কামাল
৫। ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ
৭। ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠের পর বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক ছিল অন্যান্য বীরত্বসূচক খেতাব।
বিজয়, আত্মসমর্পণ ও স্বাধীনতা
Victory and Surrender
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ অগ্রযাত্রায় পাকিস্তানি বাহিনী দ্রুত পরাজিত হতে থাকে।
১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিজয় অর্জন করে।
১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে।
১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিজয় অর্জন করে।
১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে।