শুদ্ধ বানান ও বাক্য শুদ্ধিকরণ — NTRCA school-2-level
শুদ্ধ বানান ও বাক্য শুদ্ধিকরণ: বাংলা, NTRCA school-2-level পাঠ ও 80টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/2।
এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী।
- বাংলা শুদ্ধ বানানের গুরুত্ব
- উ-কার, ঊ-কার ও দূর অর্থের শব্দ
- পূর্ণ, পুনঃ, জীবী ও আলি-জাত শব্দের বানান
- ষ, ণ, ন ও যুক্তবর্ণের ব্যবহার
- তৎসম, দেশ-জাতি-ভাষা ও স্ত্রীবাচক শব্দ
- সন্ধি, বিসর্গ ও বিদেশি শব্দের বানান
- শুদ্ধ-অশুদ্ধ বানানের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
- বাক্য শুদ্ধিকরণের মূলনীতি
- বানান ও সাধু-চলিত রীতির শুদ্ধতা
- বাচ্য, পুরুষ, লিঙ্গ ও বিভক্তির সামঞ্জস্য
- বচন, সমাস ও প্রত্যয়ের যথাযথ প্রয়োগ
- শব্দের অপপ্রয়োগ ও বাহুল্য বর্জন
- আরও গুরুত্বপূর্ণ বাক্য শুদ্ধিকরণ নীতি
- বহুনির্বাচনী প্রশ্নত্তর
বাংলা শুদ্ধ বানানের গুরুত্ব
Correct Bengali Spelling
বাংলা ভাষা সঠিকভাবে লিখতে শুদ্ধ বানানের নিয়ম জানা অপরিহার্য। শিক্ষক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় একটি শব্দের একাধিক কাছাকাছি বানান দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে শুদ্ধ রূপ নির্বাচন করতে বলা হয়। তাই শুধু শব্দ মুখস্থ না করে কোন পরিবেশে কোন বর্ণ, কার, যুক্তবর্ণ বা প্রত্যয় ব্যবহৃত হয় তা বোঝা প্রয়োজন।
বাংলা বানানে বিশেষভাবে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— ই-কার ও ঈ-কার, উ-কার ও ঊ-কার, ণ ও ন, ষ ও শ, রেফের অবস্থান, বিসর্গ, যুক্তবর্ণ, সংস্কৃতমূল শব্দ, বিদেশি শব্দ এবং সন্ধিজাত শব্দের গঠন।
বাংলা বানানে বিশেষভাবে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— ই-কার ও ঈ-কার, উ-কার ও ঊ-কার, ণ ও ন, ষ ও শ, রেফের অবস্থান, বিসর্গ, যুক্তবর্ণ, সংস্কৃতমূল শব্দ, বিদেশি শব্দ এবং সন্ধিজাত শব্দের গঠন।
উ-কার, ঊ-কার এবং দূর অর্থের শব্দ
কোনো শব্দে দূরত্ব বা দূরবর্তী অবস্থার অর্থ প্রকাশ পেলে অনেক ক্ষেত্রে ‘দূর’ অংশটি দীর্ঘ ঊ-কারসহ লেখা হয়। যেমন— দূরত্ব, দূরবর্তী, দূরারোগ্য, দূরদর্শী, দূরদৃষ্টি, দূরনীতি, দূরযোগ, দূরভাষ ইত্যাদি।
কিন্তু সব ক্ষেত্রেই ‘দুর’ বা ‘দূর’ একই নিয়মে লেখা যায় না। শব্দটির উৎস, অর্থ এবং গঠন অনুসারে রূপ নির্ধারণ করতে হয়। তাই শুধু উচ্চারণের ওপর নির্ভর করে বানান নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
কিন্তু সব ক্ষেত্রেই ‘দুর’ বা ‘দূর’ একই নিয়মে লেখা যায় না। শব্দটির উৎস, অর্থ এবং গঠন অনুসারে রূপ নির্ধারণ করতে হয়। তাই শুধু উচ্চারণের ওপর নির্ভর করে বানান নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
পূর্ণ, পুনঃ, জীবী ও আলি-জাত শব্দের বানান
‘পূর্ণ’ অর্থে ব্যবহৃত শব্দে ‘পূর্ণ’ অংশটি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন— পূর্ণতা, পূর্ণমান, সম্পূর্ণ, পরিপূর্ণ প্রভৃতি।
‘পুনঃ’ অর্থে পুনরায় বা আবার বোঝালে শব্দগঠনে পুনঃ বা পুনর্ জাতীয় রূপ দেখা যায়। যেমন— পুনঃপ্রকাশ, পুনর্গঠন, পুনর্নির্মাণ, পুনর্বিবেচনা, পুনর্বাসন ইত্যাদি। শব্দের পরবর্তী বর্ণের সঙ্গে সন্ধি বা যুক্তবর্ণের কারণে রূপে পরিবর্তন হতে পারে।
পেশা, অভ্যাস বা কোনো কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে ‘জীবী’ অংশ ব্যবহৃত হয়। যেমন— চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি।
যেসব বিশেষণ বা পদে ‘আলি’ জাতীয় প্রত্যয় থাকে, তাদের শুদ্ধ রূপ শব্দের প্রচলিত গঠন অনুসারে লিখতে হয়। যেমন— সোনালি, রূপালি, মিতালি জাতীয় শব্দে বানানের স্থির রূপ অনুসরণ করা দরকার।
‘পুনঃ’ অর্থে পুনরায় বা আবার বোঝালে শব্দগঠনে পুনঃ বা পুনর্ জাতীয় রূপ দেখা যায়। যেমন— পুনঃপ্রকাশ, পুনর্গঠন, পুনর্নির্মাণ, পুনর্বিবেচনা, পুনর্বাসন ইত্যাদি। শব্দের পরবর্তী বর্ণের সঙ্গে সন্ধি বা যুক্তবর্ণের কারণে রূপে পরিবর্তন হতে পারে।
পেশা, অভ্যাস বা কোনো কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে ‘জীবী’ অংশ ব্যবহৃত হয়। যেমন— চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি।
যেসব বিশেষণ বা পদে ‘আলি’ জাতীয় প্রত্যয় থাকে, তাদের শুদ্ধ রূপ শব্দের প্রচলিত গঠন অনুসারে লিখতে হয়। যেমন— সোনালি, রূপালি, মিতালি জাতীয় শব্দে বানানের স্থির রূপ অনুসরণ করা দরকার।
ষ, ণ, ন এবং যুক্তবর্ণের ব্যবহার
বাংলা বানানে ণত্ব ও ষত্ববিধি গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতমূল শব্দে নির্দিষ্ট ধ্বনি বা বর্ণের প্রভাবে ‘ন’-এর পরিবর্তে ‘ণ’ এবং ‘স’-এর পরিবর্তে ‘ষ’ হতে পারে। তাই কেবল উচ্চারণ দেখে বানান লিখলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যুক্তবর্ণের আগে বা পরে ই-কার, ঈ-কার, উ-কার বা ঊ-কারের ব্যবহারও নির্দিষ্ট বানানরীতি অনুযায়ী হয়। যেমন— তিরস্কার, পুরস্কার, নমস্কার প্রভৃতি শব্দে প্রচলিত সংস্কৃতমূল রূপ মানতে হবে।
একইভাবে বহুবর্ণবিশিষ্ট শব্দে যুক্তবর্ণের আগে ই-কার ব্যবহারের রীতি বিভিন্ন শব্দে দেখা যায়। যেমন— অধিকার, পরিকার, জ্যোতিক, নিষ্কলঙ্ক প্রভৃতি জাতীয় শব্দে শুদ্ধ রূপ মুখস্থ করার পাশাপাশি ধাতু ও উপসর্গের গঠন বোঝা প্রয়োজন।
যুক্তবর্ণের আগে বা পরে ই-কার, ঈ-কার, উ-কার বা ঊ-কারের ব্যবহারও নির্দিষ্ট বানানরীতি অনুযায়ী হয়। যেমন— তিরস্কার, পুরস্কার, নমস্কার প্রভৃতি শব্দে প্রচলিত সংস্কৃতমূল রূপ মানতে হবে।
একইভাবে বহুবর্ণবিশিষ্ট শব্দে যুক্তবর্ণের আগে ই-কার ব্যবহারের রীতি বিভিন্ন শব্দে দেখা যায়। যেমন— অধিকার, পরিকার, জ্যোতিক, নিষ্কলঙ্ক প্রভৃতি জাতীয় শব্দে শুদ্ধ রূপ মুখস্থ করার পাশাপাশি ধাতু ও উপসর্গের গঠন বোঝা প্রয়োজন।
তৎসম, দেশ-জাতি-ভাষা ও স্ত্রীবাচক শব্দ
তৎসম শব্দের বানান সাধারণত সংস্কৃতমূল রূপ অনুসরণ করে। তাই যে শব্দে দীর্ঘ ঈ-কার, ঊ-কার, ণ, ষ বা বিশেষ যুক্তবর্ণ আছে তা বাংলা উচ্চারণে সহজ হয়ে গেলেও বানানে মূল রূপ বজায় থাকে।
দেশ, জাতি ও ভাষার নামেও নির্দিষ্ট বানান অনুসরণ করতে হয়। যেমন— গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাইতি, বাংলাদেশি, বাঙালি, পাকিস্তানি, তুর্কি, জাপানি, হিন্দি, আরবি, ইংরেজি, ফারসি, নেপালি প্রভৃতি।
তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ ঈ-কার দেখা যায়। যেমন— নারী, জননী, সাক্ষী, যুবতী, তরুণী, মানবী ইত্যাদি। তবে প্রতিটি শব্দের প্রচলিত শুদ্ধ রূপ আলাদাভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
দেশ, জাতি ও ভাষার নামেও নির্দিষ্ট বানান অনুসরণ করতে হয়। যেমন— গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাইতি, বাংলাদেশি, বাঙালি, পাকিস্তানি, তুর্কি, জাপানি, হিন্দি, আরবি, ইংরেজি, ফারসি, নেপালি প্রভৃতি।
তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ ঈ-কার দেখা যায়। যেমন— নারী, জননী, সাক্ষী, যুবতী, তরুণী, মানবী ইত্যাদি। তবে প্রতিটি শব্দের প্রচলিত শুদ্ধ রূপ আলাদাভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
সন্ধি, বিসর্গ এবং বিদেশি শব্দের বানান
সন্ধিজাত শব্দে প্রথম ও দ্বিতীয় পদের মিলনে বানানের পরিবর্তন হতে পারে। যেমন— প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কৃতিত্ব, সর্পিণী প্রভৃতি শব্দে সংশ্লিষ্ট সন্ধি বা প্রত্যয়ের নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
বিসর্গযুক্ত তৎসম শব্দে বিসর্গ সব সময় দৃশ্যমান থাকে না। শব্দের পরবর্তী অংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে রূপ বদলে যেতে পারে। তাই অহংকার, সংস্কার, পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি শব্দের বানান স্বীকৃত রূপ অনুযায়ী লিখতে হবে।
বাংলা বানানে ‘অন্ত’ ও ‘ভূত’ জাতীয় গঠনেও সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন— অন্তর্ভুক্ত, অন্তর্গত, অন্তর্নিহিত, বহির্ভূত, দূরীভূত ইত্যাদি। শব্দের গঠন অনুসারে ‘উ-কার’ বা যুক্তবর্ণের রূপ নির্ধারিত হয়।
বিদেশি শব্দে সাধারণত বাংলা তৎসম শব্দের মতো ণত্ব-ষত্ব বা ঋ-কারের নিয়ম প্রয়োগ করা হয় না। স্টেশন, মাস্টার, পোস্টার, স্টুডিও, স্কুল, ট্রেন প্রভৃতি শব্দে চলিত বাংলায় প্রচলিত রূপই গ্রহণযোগ্য।
বিদেশি শব্দে ড, ঢ, ট, ঠ ইত্যাদি বর্ণের ব্যবহার বাংলা উচ্চারণরীতি অনুসারে হয়। একইভাবে বিদেশি শব্দে অপ্রয়োজনীয় ণ, ষ বা দীর্ঘ স্বর যোগ করা উচিত নয়।
বিসর্গযুক্ত তৎসম শব্দে বিসর্গ সব সময় দৃশ্যমান থাকে না। শব্দের পরবর্তী অংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে রূপ বদলে যেতে পারে। তাই অহংকার, সংস্কার, পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি শব্দের বানান স্বীকৃত রূপ অনুযায়ী লিখতে হবে।
বাংলা বানানে ‘অন্ত’ ও ‘ভূত’ জাতীয় গঠনেও সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন— অন্তর্ভুক্ত, অন্তর্গত, অন্তর্নিহিত, বহির্ভূত, দূরীভূত ইত্যাদি। শব্দের গঠন অনুসারে ‘উ-কার’ বা যুক্তবর্ণের রূপ নির্ধারিত হয়।
বিদেশি শব্দে সাধারণত বাংলা তৎসম শব্দের মতো ণত্ব-ষত্ব বা ঋ-কারের নিয়ম প্রয়োগ করা হয় না। স্টেশন, মাস্টার, পোস্টার, স্টুডিও, স্কুল, ট্রেন প্রভৃতি শব্দে চলিত বাংলায় প্রচলিত রূপই গ্রহণযোগ্য।
বিদেশি শব্দে ড, ঢ, ট, ঠ ইত্যাদি বর্ণের ব্যবহার বাংলা উচ্চারণরীতি অনুসারে হয়। একইভাবে বিদেশি শব্দে অপ্রয়োজনীয় ণ, ষ বা দীর্ঘ স্বর যোগ করা উচিত নয়।
গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানানের উদাহরণ
অদিতি
অনু
অপরাহ্ণ
অধিকার
পরিষ্কার
পুরস্কার
তিরস্কার
অমাবস্যা
অধ্যবসায়
অহোরাত্র
আদ্যক্ষর
বুদ্ধিজীবী
ক্ষীণজীবী
সমীচীন
ভাগীরথী
মনস্বী
ইতোমধ্যে
ইতঃপূর্বে
উপস্থিত
উৎকৃষ্ট
উজ্জ্বল
উজ্জ্বলা
উদাসীন
উচ্ছ্বাস
উপন্যাস
একত্র
ঐকতান
ঐকমত্য
কণিকা
কনীনিকা
অনু
অপরাহ্ণ
অধিকার
পরিষ্কার
পুরস্কার
তিরস্কার
অমাবস্যা
অধ্যবসায়
অহোরাত্র
আদ্যক্ষর
বুদ্ধিজীবী
ক্ষীণজীবী
সমীচীন
ভাগীরথী
মনস্বী
ইতোমধ্যে
ইতঃপূর্বে
উপস্থিত
উৎকৃষ্ট
উজ্জ্বল
উজ্জ্বলা
উদাসীন
উচ্ছ্বাস
উপন্যাস
একত্র
ঐকতান
ঐকমত্য
কণিকা
কনীনিকা
কার্পণ্য
কূপমণ্ডূক
গার্হস্থ্য
গড্ডলিকা
গুহ্য
চতুর
চক্ষুষ্মান
জ্যেষ্ঠ
তেজস্বিতা
দারিদ্র্য
দৈন্য
দৌরাত্ম্য
ব্যর্থ
দুরবস্থা
দুর্নীতি
ধরন
ধারণ
সাধারণ
নির্দেশ
নিরপরাধ
নিরীহ
নিশীথ
নিরীক্ষা
নীহারিকা
উদীচী
প্রতীতি
তিতিক্ষা
নির্মেষ
পিপীলিকা
কূপমণ্ডূক
গার্হস্থ্য
গড্ডলিকা
গুহ্য
চতুর
চক্ষুষ্মান
জ্যেষ্ঠ
তেজস্বিতা
দারিদ্র্য
দৈন্য
দৌরাত্ম্য
ব্যর্থ
দুরবস্থা
দুর্নীতি
ধরন
ধারণ
সাধারণ
নির্দেশ
নিরপরাধ
নিরীহ
নিশীথ
নিরীক্ষা
নীহারিকা
উদীচী
প্রতীতি
তিতিক্ষা
নির্মেষ
পিপীলিকা
মরীচিকা
শারীরিক
বীজিকা
পুষ্পমঞ্জুষা
পুণ্য
পূর্ণ
পূরণ
পুরোহিত
পৌরহিত্য
পরামর্শ
অণু
প্রাঙ্গণ
অরুণ
যক্ষ্মা
বিদ্বেষ
বিধান
বিদ্বেষী
ভাগীরথী
ভুবন
ভৌগোলিক
মধ্যাকর্ষণ
মধুসূদন
শ্রেষ্ঠা
মনস্বী
মুমূর্ষু
মুহূর্ত
মহৎ
মাহাত্ম্য
মুহূর্ত
মূর্ছনা
মনোমোহন
মনোচোর
শারীরিক
বীজিকা
পুষ্পমঞ্জুষা
পুণ্য
পূর্ণ
পূরণ
পুরোহিত
পৌরহিত্য
পরামর্শ
অণু
প্রাঙ্গণ
অরুণ
যক্ষ্মা
বিদ্বেষ
বিধান
বিদ্বেষী
ভাগীরথী
ভুবন
ভৌগোলিক
মধ্যাকর্ষণ
মধুসূদন
শ্রেষ্ঠা
মনস্বী
মুমূর্ষু
মুহূর্ত
মহৎ
মাহাত্ম্য
মুহূর্ত
মূর্ছনা
মনোমোহন
মনোচোর
মৃন্ময়
মৌন
রজত
রূপসী
লজ্জাকর
শশী
শশীভূষণ
সান্ত্বনা
শাশ্বত
শ্মশান
শিরশ্ছেদ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
গীতাঞ্জলি
সামাজিক
সজ্জিত
সম্ভাবনা
সম্ভোগ
সভ্য
স্বত্ব
স্বতঃস্ফূর্ত
সমর্থ
সামর্থ্য
সূচি
সূচিমিতা
সৌজন্যতা
সৌন্দর্য
সরস্বতী
আয়ত্ত
স্বায়ত্ত
তত্ত্বাবধায়ক
প্রতিযোগিতা
মৌন
রজত
রূপসী
লজ্জাকর
শশী
শশীভূষণ
সান্ত্বনা
শাশ্বত
শ্মশান
শিরশ্ছেদ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
গীতাঞ্জলি
সামাজিক
সজ্জিত
সম্ভাবনা
সম্ভোগ
সভ্য
স্বত্ব
স্বতঃস্ফূর্ত
সমর্থ
সামর্থ্য
সূচি
সূচিমিতা
সৌজন্যতা
সৌন্দর্য
সরস্বতী
আয়ত্ত
স্বায়ত্ত
তত্ত্বাবধায়ক
প্রতিযোগিতা
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রতিযোগী
প্রাণহানি
মেহমান
এতদ্দ্বারা
মুখস্থ
সরকারি
বেসরকারি
আণবিক
ক্ষয়িষ্ণু
রাশি
শ্রেণি
বিকেন্দ্রীকরণ
বিদ্বেষী
বিধান
বিক্ষোভ
ভুল
প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রতিযোগী
প্রাণহানি
মেহমান
এতদ্দ্বারা
মুখস্থ
সরকারি
বেসরকারি
আণবিক
ক্ষয়িষ্ণু
রাশি
শ্রেণি
বিকেন্দ্রীকরণ
বিদ্বেষী
বিধান
বিক্ষোভ
ভুল
উৎকণ্ঠা
উৎক্ষেপণ
উদ্বেগ
জ্যোতির্বিদ্যা
ঐক্যতান
ঐকমত্য
কথোপকথন
সৌজন্য
শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
প্রতিযোগী
প্রতিদ্বন্দ্বী
সৌন্দর্য
দারিদ্র্য
মুহূর্ত
মুমূর্ষু
নিরীহ
পিপীলিকা
উৎক্ষেপণ
উদ্বেগ
জ্যোতির্বিদ্যা
ঐক্যতান
ঐকমত্য
কথোপকথন
সৌজন্য
শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
প্রতিযোগী
প্রতিদ্বন্দ্বী
সৌন্দর্য
দারিদ্র্য
মুহূর্ত
মুমূর্ষু
নিরীহ
পিপীলিকা
বাক্য শুদ্ধিকরণের মূলনীতি
Sentence Correction
শুদ্ধ বাক্য গঠনের জন্য শুধু বানান ঠিক থাকলেই যথেষ্ট নয়। একই বাক্যের শব্দ নির্বাচন, ক্রিয়ার রূপ, বচন, পুরুষ, লিঙ্গ, বিভক্তি, সমাস, সাধু ও চলিত রীতি এবং অর্থগত সামঞ্জস্যও সঠিক হতে হয়।
একটি বাক্য ব্যাকরণগতভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও যদি তাতে অপ্রয়োজনীয় শব্দ, একই অর্থের পুনরাবৃত্তি বা ভুল শব্দপ্রয়োগ থাকে, তাহলে বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একটি বাক্য ব্যাকরণগতভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও যদি তাতে অপ্রয়োজনীয় শব্দ, একই অর্থের পুনরাবৃত্তি বা ভুল শব্দপ্রয়োগ থাকে, তাহলে বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বানান ও সাধু-চলিত রীতির শুদ্ধতা
প্রথমেই বাক্যের প্রতিটি শব্দের বানান শুদ্ধ হতে হবে। একটি মাত্র ভুল বানানও পুরো বাক্যকে অশুদ্ধ করে দিতে পারে।
একই বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার রূপ মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। চলিত রীতির বাক্যে চলিত ক্রিয়াপদ এবং সাধু রীতির বাক্যে সাধু ক্রিয়াপদ রাখতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে— ‘তিনি সেখানে গিয়ে কাজ করলেন’ চলিত রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে হঠাৎ সাধুরীতির ‘করিলেন’ যোগ করলে রীতিগত অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হবে।
একই বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার রূপ মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। চলিত রীতির বাক্যে চলিত ক্রিয়াপদ এবং সাধু রীতির বাক্যে সাধু ক্রিয়াপদ রাখতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে— ‘তিনি সেখানে গিয়ে কাজ করলেন’ চলিত রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে হঠাৎ সাধুরীতির ‘করিলেন’ যোগ করলে রীতিগত অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হবে।
বাচ্য, পুরুষ, লিঙ্গ ও বিভক্তির সামঞ্জস্য
বাক্যে কর্তা ও ক্রিয়ার মধ্যে বাচ্যগত সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। কর্তা যদি সক্রিয়ভাবে কাজটি করে, ক্রিয়াও সেই অনুযায়ী হবে। আবার কর্মবাচ্যে ক্রিয়ার রূপ ভিন্ন হবে।
লিঙ্গের ক্ষেত্রেও বিশেষ্য ও বিশেষণের মধ্যে অসামঞ্জস্য রাখা যাবে না। যে বিশেষণ স্ত্রী বা পুরুষবাচক বিশেষ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার রূপ অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
একই বাক্যে পুরুষের পরিবর্তন করা ঠিক নয়। প্রথম পুরুষ দিয়ে বাক্য শুরু হলে অকারণে মধ্যম বা তৃতীয় পুরুষে চলে যাওয়া বাক্যকে অশুদ্ধ করে।
বিভক্তির ব্যবহারেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোনো শব্দের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিভক্তি যোগ করলে বা প্রয়োজনীয় বিভক্তি বাদ দিলে বাক্যের গঠন বিকৃত হয়।
লিঙ্গের ক্ষেত্রেও বিশেষ্য ও বিশেষণের মধ্যে অসামঞ্জস্য রাখা যাবে না। যে বিশেষণ স্ত্রী বা পুরুষবাচক বিশেষ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার রূপ অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
একই বাক্যে পুরুষের পরিবর্তন করা ঠিক নয়। প্রথম পুরুষ দিয়ে বাক্য শুরু হলে অকারণে মধ্যম বা তৃতীয় পুরুষে চলে যাওয়া বাক্যকে অশুদ্ধ করে।
বিভক্তির ব্যবহারেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোনো শব্দের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিভক্তি যোগ করলে বা প্রয়োজনীয় বিভক্তি বাদ দিলে বাক্যের গঠন বিকৃত হয়।
বচন, সমাস ও প্রত্যয়ের যথাযথ ব্যবহার
একবচন ও বহুবচনের সামঞ্জস্য রক্ষা করা জরুরি। বহুবচন বোঝাতে একই সঙ্গে একাধিক বহুবচনসূচক চিহ্ন ব্যবহার করা উচিত নয়।
যেমন— ‘সকল ছাত্ররা’ বললে ‘সকল’ এবং ‘রা’ উভয়ই বহুবচন নির্দেশ করে। তাই শুদ্ধ রূপ হবে ‘সকল ছাত্র’ অথবা ‘ছাত্ররা’।
একইভাবে ‘সব লোকগুলো’ জাতীয় গঠনে একই অর্থের একাধিক বহুবচনসূচক চিহ্ন জমা হয়। বাক্যকে সংক্ষিপ্ত ও শুদ্ধ রাখতে একটি উপযুক্ত বহুবচনচিহ্নই যথেষ্ট।
সমাসবদ্ধ শব্দে গঠন অনুসারে শব্দরূপ ঠিক রাখতে হবে। সমাস ভেঙে ভুল বানান বা অপ্রয়োজনীয় প্রত্যয় ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধ হয়।
যেমন— ‘সকল ছাত্ররা’ বললে ‘সকল’ এবং ‘রা’ উভয়ই বহুবচন নির্দেশ করে। তাই শুদ্ধ রূপ হবে ‘সকল ছাত্র’ অথবা ‘ছাত্ররা’।
একইভাবে ‘সব লোকগুলো’ জাতীয় গঠনে একই অর্থের একাধিক বহুবচনসূচক চিহ্ন জমা হয়। বাক্যকে সংক্ষিপ্ত ও শুদ্ধ রাখতে একটি উপযুক্ত বহুবচনচিহ্নই যথেষ্ট।
সমাসবদ্ধ শব্দে গঠন অনুসারে শব্দরূপ ঠিক রাখতে হবে। সমাস ভেঙে ভুল বানান বা অপ্রয়োজনীয় প্রত্যয় ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধ হয়।
শব্দের অপপ্রয়োগ ও বাহুল্য বর্জন
একই অর্থের দুটি শব্দ পাশাপাশি ব্যবহার করলে অনেক সময় বাহুল্য সৃষ্টি হয়। যেমন— ‘সংবাদ সম্মেলন’ নিজেই একটি নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে; অপ্রয়োজনীয় সমার্থক শব্দ যোগ করার দরকার নেই।
‘সাক্ষরতা’ শব্দের অর্থ লেখাপড়া জানার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই যেখানে সাক্ষরতার কর্মসূচি বোঝানো হবে সেখানে অর্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
‘সার্থকতা’ এবং ‘সার্থক’ কাছাকাছি হলেও একই নয়। বিশেষ্য ও বিশেষণের রূপ আলাদা হওয়ায় বাক্যের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক রূপ নির্বাচন করতে হয়।
‘দুর্নিবার’ অর্থ এমন কিছু যা সহজে রোধ করা যায় না। তাই এর সঙ্গে একই অর্থের আরেকটি শব্দ অপ্রয়োজনে যোগ করলে শব্দবাহুল্য তৈরি হতে পারে।
‘সানন্দে’ শব্দের মধ্যেই আনন্দের অর্থ রয়েছে। তাই ‘সানন্দে আনন্দে’ জাতীয় পুনরুক্তি অশুদ্ধ।
‘সাক্ষরতা’ শব্দের অর্থ লেখাপড়া জানার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই যেখানে সাক্ষরতার কর্মসূচি বোঝানো হবে সেখানে অর্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
‘সার্থকতা’ এবং ‘সার্থক’ কাছাকাছি হলেও একই নয়। বিশেষ্য ও বিশেষণের রূপ আলাদা হওয়ায় বাক্যের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক রূপ নির্বাচন করতে হয়।
‘দুর্নিবার’ অর্থ এমন কিছু যা সহজে রোধ করা যায় না। তাই এর সঙ্গে একই অর্থের আরেকটি শব্দ অপ্রয়োজনে যোগ করলে শব্দবাহুল্য তৈরি হতে পারে।
‘সানন্দে’ শব্দের মধ্যেই আনন্দের অর্থ রয়েছে। তাই ‘সানন্দে আনন্দে’ জাতীয় পুনরুক্তি অশুদ্ধ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বাক্য শুদ্ধিকরণ নীতি
‘অপমান’ একটি বিশেষ্য, আর ‘অপমানিত’ বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক অবস্থা প্রকাশ করে। তাই ‘আমি অপমান হয়েছি’ না বলে ‘আমি অপমানিত হয়েছি’ লেখা শুদ্ধ।
‘মেধাবী’ নিজেই যোগ্যতা বা গুণ নির্দেশ করে। তাই অপ্রয়োজনে ‘অনেক মেধাবী’ জাতীয় গঠন প্রসঙ্গভেদে দুর্বল বা বাহুল্যপূর্ণ হতে পারে; প্রয়োজন অনুযায়ী ‘অত্যন্ত মেধাবী’ বা ‘খুব মেধাবী’ ব্যবহার করা যায়।
‘প্রতিযোগী’ এবং ‘প্রতিযোগিতা’ একই পদ নয়। ব্যক্তি বোঝাতে ‘প্রতিযোগী’ এবং প্রতিযোগিতার ঘটনাকে বোঝাতে ‘প্রতিযোগিতা’ ব্যবহৃত হয়।
‘বিবাদ’ এবং ‘বিবাদমান’ ভিন্ন অর্থ বহন করে। দুই পক্ষ বর্তমানে বিরোধে যুক্ত থাকলে ‘বিবাদমান দুই দল’ ধরনের রূপ অর্থগতভাবে সঠিক।
‘অসহ্য’ এবং ‘অসহনীয়’ একই মূল অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু বাক্যের গঠন অনুযায়ী একটির জায়গায় অন্যটি বসাতে হয়। একইভাবে ‘ব্যথা’ ও ‘ব্যথিত’ ভিন্ন পদ।
সমাসবদ্ধ শব্দে অপ্রয়োজনীয় আলাদা শব্দ যোগ করা ঠিক নয়। যেমন— ‘মহারাজা’ নিজেই একটি গঠিত শব্দ; এর সঙ্গে আবার একই অর্থের পুনরাবৃত্ত অংশ জুড়ে দেওয়া অশুদ্ধ।
কালবাচক শব্দ ব্যবহারে সময়ের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। ‘আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে’ এবং ‘গতকাল কলেজ বন্ধ ছিল’— এ ধরনের বাক্যে ক্রিয়ার কাল সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হয়।
বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার সামঞ্জস্য না থাকলে বাক্য অশুদ্ধ হয়। যেমন— ‘সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়’ এবং ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ’— এ ধরনের বাক্যে পদগুলোর সম্পর্ক স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘সশরীরে’ অর্থ নিজে উপস্থিত হওয়া। তাই ‘তিনি সশরীরে ঢাকায় থাকবেন’ জাতীয় বাক্যে শব্দটির অর্থ বিবেচনা করে ব্যবহার করতে হয়।
‘সম্মুখে’ বা ‘সামনে’ একই ধরনের স্থানার্থক শব্দ। একই অর্থের দুটি শব্দ পাশাপাশি বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় পুনরুক্তি করা উচিত নয়।
‘মেধাবী’ নিজেই যোগ্যতা বা গুণ নির্দেশ করে। তাই অপ্রয়োজনে ‘অনেক মেধাবী’ জাতীয় গঠন প্রসঙ্গভেদে দুর্বল বা বাহুল্যপূর্ণ হতে পারে; প্রয়োজন অনুযায়ী ‘অত্যন্ত মেধাবী’ বা ‘খুব মেধাবী’ ব্যবহার করা যায়।
‘প্রতিযোগী’ এবং ‘প্রতিযোগিতা’ একই পদ নয়। ব্যক্তি বোঝাতে ‘প্রতিযোগী’ এবং প্রতিযোগিতার ঘটনাকে বোঝাতে ‘প্রতিযোগিতা’ ব্যবহৃত হয়।
‘বিবাদ’ এবং ‘বিবাদমান’ ভিন্ন অর্থ বহন করে। দুই পক্ষ বর্তমানে বিরোধে যুক্ত থাকলে ‘বিবাদমান দুই দল’ ধরনের রূপ অর্থগতভাবে সঠিক।
‘অসহ্য’ এবং ‘অসহনীয়’ একই মূল অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু বাক্যের গঠন অনুযায়ী একটির জায়গায় অন্যটি বসাতে হয়। একইভাবে ‘ব্যথা’ ও ‘ব্যথিত’ ভিন্ন পদ।
সমাসবদ্ধ শব্দে অপ্রয়োজনীয় আলাদা শব্দ যোগ করা ঠিক নয়। যেমন— ‘মহারাজা’ নিজেই একটি গঠিত শব্দ; এর সঙ্গে আবার একই অর্থের পুনরাবৃত্ত অংশ জুড়ে দেওয়া অশুদ্ধ।
কালবাচক শব্দ ব্যবহারে সময়ের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। ‘আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে’ এবং ‘গতকাল কলেজ বন্ধ ছিল’— এ ধরনের বাক্যে ক্রিয়ার কাল সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হয়।
বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার সামঞ্জস্য না থাকলে বাক্য অশুদ্ধ হয়। যেমন— ‘সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়’ এবং ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ’— এ ধরনের বাক্যে পদগুলোর সম্পর্ক স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘সশরীরে’ অর্থ নিজে উপস্থিত হওয়া। তাই ‘তিনি সশরীরে ঢাকায় থাকবেন’ জাতীয় বাক্যে শব্দটির অর্থ বিবেচনা করে ব্যবহার করতে হয়।
‘সম্মুখে’ বা ‘সামনে’ একই ধরনের স্থানার্থক শব্দ। একই অর্থের দুটি শব্দ পাশাপাশি বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় পুনরুক্তি করা উচিত নয়।
বাক্য শুদ্ধিকরণে দ্রুত যাচাইয়ের কৌশল
বাক্য পরীক্ষা করার সময় প্রথমে বানান দেখুন।
এরপর কর্তা ও ক্রিয়ার মিল আছে কি না দেখুন।
সাধু ও চলিত ভাষার রীতি মিশে গেছে কি না যাচাই করুন।
একবচন ও বহুবচনের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না দেখুন।
লিঙ্গ, পুরুষ ও বিভক্তি সঠিক কি না পরীক্ষা করুন।
একই অর্থের শব্দ অপ্রয়োজনে দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে কি না খেয়াল করুন।
শব্দের অর্থ বাক্যের প্রসঙ্গের সঙ্গে মানানসই কি না যাচাই করুন।
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়াপদের রূপ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না দেখুন।
সবশেষে পুরো বাক্যটি পড়ে অর্থ স্বাভাবিক ও স্পষ্ট হচ্ছে কি না যাচাই করুন।
এরপর কর্তা ও ক্রিয়ার মিল আছে কি না দেখুন।
সাধু ও চলিত ভাষার রীতি মিশে গেছে কি না যাচাই করুন।
একবচন ও বহুবচনের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না দেখুন।
লিঙ্গ, পুরুষ ও বিভক্তি সঠিক কি না পরীক্ষা করুন।
একই অর্থের শব্দ অপ্রয়োজনে দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে কি না খেয়াল করুন।
শব্দের অর্থ বাক্যের প্রসঙ্গের সঙ্গে মানানসই কি না যাচাই করুন।
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়াপদের রূপ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না দেখুন।
সবশেষে পুরো বাক্যটি পড়ে অর্থ স্বাভাবিক ও স্পষ্ট হচ্ছে কি না যাচাই করুন।
- নিচের কোন শব্দটির বানান প্রমিত?
- নিশিথিনী
- নীশিথিনী
- নিশীথিনী
- নিশীথিনি
- স্বশাসিত বা নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থে কোন বানানটি শুদ্ধ?
- স্বায়ত
- স্বায়ত্ত্ব
- স্বায়ত্ত
- স্বায়ত্ব
- মৃত্যুপথযাত্রী অর্থবোধক শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- মুমুর্ষু
- মুমূর্ষু
- মুমূর্ষূ
- মুমুর্ষূ
- অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছন্দ বা সম্পন্ন অর্থে কোন বানানটি শুদ্ধ?
- সচ্ছল
- সছল
- স্বচ্ছল
- স্বছল
- নিচের কোন শব্দটির বানান শুদ্ধ?
- ডাইজিন
- দারিদ্রতা
- দুর্নীয়
- নুপুর
- নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
- নিরপরাধী
- দারিদ্রতা
- স্বার্থকতা
- প্রাণিকুল
- মৃত্যুপথযাত্রী বোঝাতে সঠিক বানানটি চিহ্নিত করো।
- মুমুর্ষ
- মুমূর্ষু
- মুমূর্ষূ
- মুমুর্ষু
- মাথা কেটে ফেলা অর্থবোধক শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- শিরোচ্ছেদ
- শিরশ্ছেদ
- শিরচ্ছেদ
- শীরোচ্ছেদ
- নিরপরাধ বা সহজ-সরল অর্থে শুদ্ধ শব্দটি কোনটি?
- কৌতুহল
- কৌতূহল
- কাথিত
- শ্রদ্ধাঞ্জলী
- বাংলা বানানে ণত্ববিধান প্রধানত কোন ধরনের শব্দের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়?
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ
- বিদেশি শব্দ
- দেশি শব্দ
- সব ধরনের শব্দ
- উপযুক্ত ও যথার্থ অর্থ প্রকাশ করে এমন শুদ্ধ বানানটি কোনটি?
- সমিচীন
- সমীচিন
- সমিচিন
- সমীচীন
- দিনের শেষ ভাগ অর্থবোধক শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- অপরাহ্ন
- অপরাহ্ণ
- অপরান্হ
- অপরাহ্ণ্
- ব্যাকরণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে বোঝাতে কোন শব্দটি শুদ্ধ?
- ব্যাকরণবিদ
- বৈয়াকরণ
- ব্যাকরণিক
- বৈয়াকরণিক
- সান্ত্বনা দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- শান্তনা
- সান্ত্বনা
- সান্তনা
- শান্ত্বনা
- চিরস্থায়ী অর্থ প্রকাশকারী শব্দটির শুদ্ধ বানান নির্বাচন করো।
- শাশ্বত
- শাস্বত
- শাশত
- শাশ্বত
- যে গুচ্ছে সব কটি বানান শুদ্ধ, সেটি নির্বাচন করো।
- মম, ভূবন, শ্রদ্ধাঞ্জলী
- সমীচিন, সৃষ্টি, সামর্থতা
- আকাঙ্ক্ষা, গ্রামীণ, দারিদ্র্য
- মূহূর্ত, মন্ত্রীসভা, ব্রাহ্মন
- অশান্ত, চঞ্চল বা অতি সক্রিয় অর্থে শুদ্ধ বানান কোনটি?
- দুরন্ত
- দোগী
- দুরন্ত্য
- দুর্বল
- কটু বা আঘাতকারী কথা বোঝাতে শুদ্ধ বানানটি কোনটি?
- কটূক্তি
- কাটূক্তি
- সকৌতুক
- সকট
- হীনতা বা দৈন্য বোঝাতে শুদ্ধ বানান কোনটি?
- দীনতা
- দৈনতা
- দীনত্বা
- দিনতা
- নিচের কোন বাক্যটির গঠন শুদ্ধ?
- কারো ফাল্গুন মাস, কারো সর্বনাশ
- সে প্রাণীদয়ায় দুর্বল
- আগামী শনিবার কলেজ বন্ধ থাকবে
- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে
- কোন বাক্যটিতে শব্দের ব্যবহার যথার্থ?
- আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত
- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত
- আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পন্য অনুচিত
- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পন্য অনুচিত
- নিচের কোন বাক্যটি অর্থ ও ব্যাকরণের দিক থেকে গ্রহণযোগ্য?
- সূর্য উদয় হয়েছে?
- তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি
- যুক্তি খণ্ডন হয়েছে কিন্তু যুক্তি মেলেনি
- বিধি লঙ্ঘন হয়েছে
- ‘বিদ্বান’ ও ‘মূর্খ’-এর তুলনায় কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠের
- নিচের কোন বাক্যটিতে শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ?
- সমুদ্রের পাখিই নীড় বাঁধে
- চোরটি সব মালসুদ্ধ ধরা পড়েছে
- তার বৈমাত্রেয় সহোদর অসুস্থ
- দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
- নিচের কোন বাক্যটি প্রমিত গঠনে লেখা?
- আমি সন্তোষ হলাম
- আমি সন্তোষিত হলাম
- আমি সন্তুষ্ট হলাম
- আমি সন্তুষ্টি হলাম
- নিচের বক্তব্যগুলোর মধ্যে শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করো।
- তিনি স্বীকৃতি বোঝাতে গেছেন
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়তর
- আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই
- প্রদত্ত কোনো বাক্যই শুদ্ধ নয়
- প্রদত্ত শব্দগুলোর মধ্যে কোনটি শুদ্ধ বানানে লেখা?
- শ্রদ্ধাঞ্জলী
- দারিদ্রতা
- বৈশিষ্ঠ্য
- উপযুক্ত
- নিচের কোন শব্দটির বানান শুদ্ধ?
- স্বায়ত্বশাসন
- শ্রদ্ধাঞ্জলী
- দারিদ্রতা
- উপযুক্ত
- ণত্ববিধির বিবেচনায় কোন বানানটি গ্রহণযোগ্য?
- পর্যন্ত
- মধ্যাহ্ন
- অপরাহ্ন
- সায়াহ্ন
- বিদেশি শব্দের বাংলা বানান সম্পর্কিত কোন বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য?
- মাস্টার
- পোশাক
- জিনিস
- পোস্ট মাস্টার
- সাধারণভাবে ণত্ববিধি প্রযোজ্য নয়— এমন উদাহরণ কোনটি?
- অমানুষ
- রতন
- আপন
- অনুষ্ঠান
- অল্প জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- কূপমন্ডুক
- কূপমণ্ডূক
- কুপমণ্ডূক
- কূপমন্ডূক
- রামায়ণের রচয়িতার নামের শুদ্ধ বানান কোনটি?
- বাল্মিকী
- বালমিকি
- বাল্মীকি
- বাল্মীকি
- খুব অল্প সময় বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- মুহুর্ত
- মূহুর্ত
- মুহূর্ত
- মূহূর্ত
- নিচের কোন বিদেশি শব্দটি প্রমিত বানানে লেখা?
- মাষ্টার
- পোশাক
- জিনিষ
- পোষ্ট অফিস
- ভয়াবহ বা আতঙ্কজনক দৃশ্য অর্থে শুদ্ধ বানান কোনটি?
- বিভিষিকা
- বিভীষিকা
- বীভিষিকা
- বিভীসিকা
- সর্বনিম্ন অর্থে শুদ্ধ বানানটি নির্বাচন করো।
- ন্যুনতম
- নুন্যতম
- ন্যূনতম
- নূন্যতম
- এখনো পর্যন্ত অর্থবোধক শব্দটির শুদ্ধ রূপ কোনটি?
- অত্যাধিক
- অদ্যাপি
- আদ্যাক্ষর
- আবিকার
- নিচের কোন প্রত্যয়যুক্ত রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয় না?
- সাপ
- স্বর
- রিষক
- বিক্ষ
- কর্মবিমুখতা বা নিষ্ক্রিয়তা অর্থে শুদ্ধ বানান কোনটি?
- আলস্যতা
- অলস্য
- আলস্য
- আলসতা
- মাথা ছেদন বোঝাতে কোন বানানটি প্রমিত?
- শিরোচ্ছেদ
- শিরচ্ছেদ
- শিরশ্ছেদ
- শীরশ্ছেদ
- নারীকে সম্মানসূচক সম্বোধনে নিচের কোন রূপটি যথাযথ?
- কল্যাণীয়েষু
- সুচরিতেষু
- শ্রদ্ধাস্পদেষু
- প্রীতিভাজনেষু
- ‘চক্ষু’ সম্পর্কিত বিশেষণটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- চক্ষুষমান
- চক্ষুষ্মান
- চক্ষুস্মান
- চক্ষুমান
- কোন শব্দটির প্রমিত রূপ নিচে দেওয়া হয়েছে?
- রূপানো
- রূপন
- রূপান
- রূপণ
- নিচের কোন বানানটি প্রমিত নয়?
- সমীচীন
- সান্ত্বনা
- মুমূর্ষু
- ফটোস্ট্যাট
- সর্বনিম্ন বোঝাতে কোন বানানটি সঠিক?
- ন্যুনতম
- নুন্যতম
- ন্যূনতম
- নূন্যতম
- কোন ধরনের শব্দে সাধারণত সংস্কৃতের মূর্ধন্য-ণ বিধান প্রয়োগ করা হয় না?
- তৎসম
- বিদেশি
- সংস্কৃতমূল
- সমাসবদ্ধ তৎসম
- অতি অল্প সময় অর্থে শব্দটির শুদ্ধ বানান কোনটি?
- মুহুর্ত
- মুহূর্ত
- মূহুর্ত
- মূহূর্ত
- কবি মধুসূদনের নামের শুদ্ধ রূপ কোনটি?
- মধুসুদন দত্ত
- মধুসূদন দত্ত
- মধুসূদন দত্ত
- মধূসুদন দত্ত
- ক্ষুধার কষ্টে আক্রান্ত বোঝাতে শুদ্ধ বানানটি কোনটি?
- ক্ষুধাপীড়িত
- ক্ষুধাপিড়িত
- ক্ষুধাপীরিত
- ক্ষুধাপীড়ীত