সমাস ও প্রত্যয় — NTRCA school-2-level

সমাস ও প্রত্যয়: বাংলা, NTRCA school-2-level পাঠ ও 129টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/3।

এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী।
সমাস
শব্দসংক্ষেপ ও একপদীকরণ
সমাসের মাধ্যমে দুই বা তার বেশি সম্পর্কযুক্ত পদকে সংক্ষেপ করে একটি নতুন পদ তৈরি করা হয়।
অর্থাৎ একাধিক পদের ভাব বা অর্থকে একটি পদে প্রকাশ করার প্রক্রিয়াকে সমাস বলা যায়।

সমাসের প্রধান উদ্দেশ্য ভাষাকে সংক্ষিপ্ত, সাবলীল ও অর্থঘন করা।
যেসব পদ আলাদাভাবে ব্যবহৃত হলে একটি বিস্তৃত ভাব প্রকাশ করে, সমাসের পরে সেগুলো একত্রিত হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত শব্দে পরিণত হয়।

উদাহরণঃ
সিংহ চিহ্নিত আসন → সিংহাসন
রাজাদের পথ → রাজপথ
নীল যে আকাশ → নীলাকাশ
প্রতি দিন → প্রতিদিন

সমাস গঠনের সময় মূল পদগুলোর পারস্পরিক অর্থগত সম্পর্ক ঠিক রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সমাসের প্রয়োজনীয় পরিভাষা
সমস্ত পদ
সমাসের মাধ্যমে যে নতুন পদটি তৈরি হয় তাকে সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদ বলা হয়।
যেমন, সিংহ চিহ্নিত আসন থেকে গঠিত সিংহাসন হলো সমস্ত পদ।

সমস্যমান পদ
যেসব পৃথক পদ পরস্পর যুক্ত হয়ে সমস্ত পদ সৃষ্টি করে, সেগুলো সমস্যমান পদ।
যেমন, নীল আকাশের ক্ষেত্রে নীল ও আকাশ সমস্যমান পদ।

পূর্বপদ
সমাসের অন্তর্ভুক্ত সমস্যমান পদগুলোর প্রথম পদকে পূর্বপদ বলা হয়।

পরপদ বা উত্তরপদ
সমাসের শেষ সমস্যমান পদকে পরপদ বা উত্তরপদ বলা হয়।

ব্যাসবাক্য
যে বাক্যাংশের সাহায্যে সমাসবদ্ধ পদকে বিশ্লেষণ করে তার অন্তর্নিহিত অর্থ প্রকাশ করা যায় তাকে ব্যাসবাক্য বলা হয়।
যেমন, সিংহাসন → সিংহ চিহ্নিত আসন।

সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু শব্দের বাহ্যিক গঠন নয়, ব্যাসবাক্যে কোন পদের অর্থ প্রধান তা লক্ষ্য করাও জরুরি।
সমাসের প্রধান প্রকার
বাংলা ব্যাকরণে প্রধানত ছয় ধরনের সমাস আলোচিত হয়।

১। দ্বন্দ্ব সমাস
২। কর্মধারয় সমাস
৩। তৎপুরুষ সমাস
৪। বহুব্রীহি সমাস
৫। দ্বিগু সমাস
৬। অব্যয়ীভাব সমাস

এগুলোর বাইরে নিত্য সমাস, প্রাদি সমাস ইত্যাদিও আলোচনায় আসে। তবে সমাস নির্ণয়ের মূল ভিত্তি হলো সমস্যমান পদগুলোর অর্থগত সম্পর্ক ও কোন পদের অর্থ প্রধান তা শনাক্ত করা।
দ্বন্দ্ব সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের অর্থই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলা হয়।
এর ব্যাসবাক্যে সাধারণত ও, এবং, আর ইত্যাদি সংযোজক অর্থ বিদ্যমান থাকে।

উদাহরণঃ
মাতা ও পিতা → মাতাপিতা
ভালো ও মন্দ → ভালোমন্দ
দেখা ও শোনা → দেখাশোনা

দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো একটি পদ অন্যটির অধীন নয়। উভয় পদ মিলেই সমস্ত পদের সম্পূর্ণ অর্থ তৈরি করে।
দ্বন্দ্ব সমাসের কয়েকটি ধরন
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
নিকট সম্পর্কযুক্ত বা একই ধরনের ভাব প্রকাশকারী পদ একত্র হলে এ ধরনের দ্বন্দ্ব হতে পারে।
উদাহরণঃ মা-বাবা, চাল-ডাল।

সমার্থক দ্বন্দ্ব
কাছাকাছি অর্থবিশিষ্ট দুই শব্দের সমন্বয় ঘটে।
উদাহরণঃ হাট-বাজার, কাজ-কর্ম।

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব
বিপরীত বা বিরোধী অর্থের শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
উদাহরণঃ দিন-রাত, ভালো-মন্দ, বড়-ছোট।

প্রায় সমার্থক দ্বন্দ্ব
অর্থের দিক থেকে খুব ঘনিষ্ঠ কিন্তু সম্পূর্ণ অভিন্ন নয়—এমন শব্দের সমন্বয়ে এ ধরনের গঠন হয়।

অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব
দেহের দুটি অঙ্গ নির্দেশকারী শব্দ মিলেও দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হতে পারে।
উদাহরণঃ হাত-পা, নাক-কান।

সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব
একাধিক সংখ্যাবাচক শব্দ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে এ ধরনের সমাস দেখা যায়।
উদাহরণঃ সাত-পাঁচ।
কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান হয় এবং পূর্বপদ পরপদকে বিশেষিত করে তাকে কর্মধারয় সমাস বলা হয়।

ব্যাসবাক্যে প্রায়ই যে, যিনি, যেটি, যারূপ, যার ন্যায় ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়।

উদাহরণঃ
নীল যে আকাশ → নীলাকাশ
মহৎ যে কীর্তি → মহাকীর্তি
নব যে বর্ষ → নববর্ষ

কর্মধারয় সমাস চেনার সময় দেখতে হবে পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণ বা তুলনামূলক নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে কি না।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যে একটি মধ্যবর্তী পদ বোঝা গেলেও সমস্ত পদে সেই মধ্যবর্তী পদটি লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলা হয়।

উদাহরণঃ
সিংহ চিহ্নিত আসন → সিংহাসন
পলাশ শোভিত রাত → পলাশরাত ধরনের গঠনে মধ্যবর্তী অর্থ অনুমিত থাকতে পারে।

এখানে ব্যাসবাক্যের একটি অংশ সমস্ত পদে সরাসরি উপস্থিত থাকে না।
উপমান কর্মধারয়
যে কর্মধারয় সমাসে একটি বস্তুর সঙ্গে অন্য একটি বস্তুর সত্য বা বাস্তবসম্মত সাদৃশ্য নির্দেশ করা হয় তাকে উপমান কর্মধারয় বলা হয়।

এক্ষেত্রে তুলনার ভিত্তি সাধারণত একটি গুণ।

উদাহরণঃ
তুষারের ন্যায় শুভ্র → তুষারশুভ্র
কাজলের ন্যায় কালো → কাজলকালো

এখানে তুষার ও কাজল উপমান এবং শুভ্র ও কালো তুলনার সাধারণ ধর্ম।
উপমিত কর্মধারয়
যখন দুটি বস্তুর মধ্যে তুলনা করা হয়, কিন্তু তাদের সাধারণ গুণটি সমস্ত পদে প্রকাশিত থাকে না, তখন উপমিত কর্মধারয় হয়।

উদাহরণঃ
পুরুষ সিংহের ন্যায় → পুরুষসিংহ
চাঁদের ন্যায় মুখ → চাঁদমুখ

এখানে তুলনার গুণটি সরাসরি বলা হয়নি; অর্থ থেকে তা বোঝা যায়।
রূপক কর্মধারয়
যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয়ের ওপর উপমানের পরিচয় সরাসরি আরোপ করা হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় বলা হয়।

এখানে কেবল তুলনা নয়, বরং একটি বস্তুকে অন্যটির রূপে কল্পনা করা হয়।

উদাহরণঃ
বিদ্যারূপ ধন → বিদ্যাধন
জীবনরূপ তরী → জীবনতরী
শোকরূপ অনল → শোকানল

রূপক কর্মধারয়ে উপমান ও উপমেয়ের সম্পর্ক কল্পনাভিত্তিক ও অধিক ঘনিষ্ঠ।
তৎপুরুষ সমাস
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান এবং পূর্বপদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।

ব্যাসবাক্যে বিভক্তি প্রকাশিত থাকলেও সমস্ত পদে সাধারণত সেই বিভক্তি আর দেখা যায় না।

তৎপুরুষ সমাসে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী বিভক্তির সম্পর্ক পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় তৎপুরুষ
ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে দ্বিতীয়ার অর্থ প্রকাশিত হলে দ্বিতীয় তৎপুরুষ হয়।

উদাহরণঃ
বিপদকে আপন্ন → বিপদাপন্ন
দুঃখকে প্রাপ্ত → দুঃখপ্রাপ্ত
তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাসবাক্যে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ থাকলে তৃতীয়া তৎপুরুষ হয়।

উদাহরণঃ
পদ দ্বারা দলিত → পদদলিত
মধু দিয়ে মাখা → মধুমাখা
চতুর্থী তৎপুরুষ
কোনো উদ্দেশ্য, নিমিত্ত বা জন্য অর্থে পূর্বপদের সঙ্গে চতুর্থীর সম্পর্ক থাকলে চতুর্থী তৎপুরুষ হয়।

উদাহরণঃ
কর্মের জন্য উপযোগী ভাবের সমাসে চতুর্থীর সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়।
পঞ্চমী তৎপুরুষ
হতে, থেকে, চেয়ে ইত্যাদি পঞ্চমী বিভক্তির অর্থ প্রকাশিত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ হয়।

উদাহরণঃ
বিলাত থেকে ফেরত → বিলাতফেরত
স্কুল থেকে পালানো → স্কুলপালানো
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাসবাক্যে র বা এর বিভক্তির সম্পর্ক থাকলে ষষ্ঠী তৎপুরুষ হয়।

উদাহরণঃ
রাজার পুত্র → রাজপুত্র
পথের রাজা → রাজপথ ধরনের অর্থসম্পর্ক বিশ্লেষণের সময় ব্যাসবাক্য ভালোভাবে নির্ণয় করতে হবে।
সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাসবাক্যে এ, তে ইত্যাদি সপ্তমী বিভক্তির অর্থ থাকলে সপ্তমী তৎপুরুষ হয়।

উদাহরণঃ
গাছে পাকা → গাছপাকা
বিশ্বে বিখ্যাত → বিশ্ববিখ্যাত
উপপদ তৎপুরুষ
যে তৎপুরুষ সমাসে পরপদটি কৃদন্ত এবং পূর্বপদ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকে, তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলা হয়।

উদাহরণঃ
পঙ্কে জন্মে যা → পঙ্কজ
জলে জন্মে যা → জলজ

এখানে কৃৎপ্রত্যয়যুক্ত পরপদের সঙ্গে পূর্বপদের সম্পর্কই সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য।
নঞ তৎপুরুষ
যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে ন, না, নাই বা অস্বীকৃতির ভাব থাকে তাকে নঞ তৎপুরুষ বলা হয়।

উদাহরণঃ
না জানা → অজানা
না আচার → অনাচার
নাই ভয় যার অর্থের গঠন বিশ্লেষণেও নঞভাব লক্ষ্য করা যায়।
বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটির অর্থই সরাসরি প্রধান নয়, বরং সমস্ত পদটি অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ধারণাকে নির্দেশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলা হয়।

উদাহরণঃ
নীল কণ্ঠ যার → নীলকণ্ঠ
দশ আনন যার → দশানন

এখানে সমস্ত পদটি কেবল নীল কণ্ঠ বা দশটি মুখের অর্থে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে।
ব্যতিহার বহুব্রীহি
যে বহুব্রীহি সমাসে একই কাজ বা ক্রিয়া পারস্পরিকভাবে সংঘটিত হওয়ার ভাব প্রকাশ পায় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলা হয়।

এ ধরনের সমস্ত পদে প্রায়ই পূর্ব ও পরপদে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।

উদাহরণঃ
কানে কানে যে কথা → কানাকানি
হাতে হাতে যে যুদ্ধ → হাতাহাতি
লাঠিতে লাঠিতে যে সংঘর্ষ → লাঠালাঠি
নঞ বহুব্রীহি
যে বহুব্রীহি সমাসের শুরুতে নঞর্থক অংশ থাকে এবং সমস্ত পদটি অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে নঞ বহুব্রীহি বলা হয়।

উদাহরণঃ
নাই ভয় যার → নির্ভয়
নাই উপায় যার → নিরুপায় ধরনের গঠন নঞভাব প্রকাশ করে।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থেকে যখন সমস্ত পদটি অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে, তখন সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি হয়।

উদাহরণঃ
তিন তার রয়েছে যার → সেতার ধরনের শব্দে সংখ্যাবাচক অর্থ থেকে বিশেষ নাম গঠিত হতে পারে।
অলুক বহুব্রীহি
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে সমস্ত পদেও বজায় থাকে তাকে অলুক বহুব্রীহি বলা হয়।

উদাহরণঃ
মাথায় পাগড়ি যার → মাথায়পাগড়ি ধরনের গঠনে বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে।

অলুক সমাস শনাক্ত করার প্রধান লক্ষণ হলো বিভক্তি সমস্ত পদেও দৃশ্যমান থাকা।
দ্বিগু সমাস
যে সমাসে পূর্ব???দ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদে সমষ্টি বা সমাহারের অর্থ প্রধান হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলা হয়।

দ্বিগু শব্দে দ্বি থাকলেও শুধু দুই সংখ্যাই বোঝায় না। অন্যান্য সংখ্যার মাধ্যমেও দ্বিগু সমাস গঠিত হয়।

চেনার সহজ কৌশলঃ
সংখ্যাবাচক পূর্বপদ + বিশেষ্য + সমাহারের ভাব → দ্বিগু সমাস

উদাহরণঃ
তিন ফলের সমাহার → ত্রিফলা
পাঁচ ভূতের সমাহার → পঞ্চভূত
ছয় ঋতুর সমাহার → ষড়ঋতু
নয় রত্নের সমাহার → নবরত্ন
সাত ঋষির সমাহার → সপ্তর্ষি

সমষ্টির অর্থ না থাকলে শুধু সংখ্যাবাচক শব্দ দেখেই দ্বিগু সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ সাধারণত অব্যয় এবং পূর্বপদের অর্থই প্রধান থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলা হয়।

এ ধরনের সমাসে উপ, অনু, প্রতি, যথা, আ, নির ইত্যাদি অব্যয়জাত অংশ দেখা যায়।

উদাহরণঃ
কূলের সমীপে → উপকূল
দিনে দিনে → প্রতিদিন
রীতিকে অনুসরণ করে → যথারীতি
শক্তিকে অতিক্রম না করে → যথাশক্তি

অব্যয়ীভাব সমাস চেনার সময় পূর্বপদের অব্যয়ধর্মিতা এবং তার অর্থের প্রাধান্য দুটোই লক্ষ্য করা দরকার।
নিত্য সমাস
যে সমাসবদ্ধ পদকে সাধারণ নিয়মে ব্যাসবাক্যে ভাঙলে প্রকৃত অর্থ ঠিকভাবে প্রকাশ পায় না এবং ব্যাখ্যার জন্য বাইরের অন্য একটি পদ গ্রহণ করতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলা হয়।

নিত্য সমাসের সমস্ত পদ প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই শব্দটি কেবল আক্ষরিকভাবে ভাঙলেই তার প্রকৃত অর্থ পাওয়া যায় না।

উদাহরণস্বরূপ, দেশান্তর শব্দটিকে কেবল দেশের অন্তর অর্থে নিলে যথার্থ অর্থ পাওয়া যায় না; প্রসঙ্গ অনুযায়ী অন্য দেশ অর্থটি বুঝতে হয়।

একইভাবে কিছু সমস্ত পদে মাত্র, অন্য ইত্যাদি ভাব গোপনে উপস্থিত থাকে।
প্রকৃতি
শব্দ বা ধাতুর মূল অংশ
শব্দ বা ধাতুর যে মূল অংশের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে প্রকৃতি বলা হয়।

প্রকৃতি প্রধানত দুই ধরনের।
১। ক্রিয়া প্রকৃতি
২। নাম প্রকৃতি

ক্রিয়া প্রকৃতি
ধাতু বা ক্রিয়ামূল যখন প্রত্যয় গ্রহণ করে নতুন শব্দ গঠন করে, তখন সেই ধাতুকে ক্রিয়া প্রকৃতি বলা হয়।

উদাহরণঃ
পড়্ + উয়া → পড়ুয়া

এখানে পড়্ ধাতু এবং উয়া প্রত্যয়। তাই পড়্ হলো ক্রিয়া প্রকৃতি।

নাম প্রকৃতি
শব্দমূল বা নামপদের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হলে সেই শব্দমূলকে নাম প্রকৃতি বলা হয়।

উদাহরণঃ
ঘর + আমি → ঘরামি ধরনের গঠনে ঘর নামমূল প্রকৃতি হিসেবে কাজ করে।
প্রত্যয়
ধাতু বা শব্দের মূল অংশের পরে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ সৃষ্টি করে তাকে প্রত্যয় বলা হয়।

প্রত্যয়ের নিজস্ব স্বাধীন ব্যবহার সাধারণত থাকে না। প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরই তা নতুন শব্দ গঠনে ভূমিকা রাখে।

প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য হলো নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা।

প্রত্যয় প্রধানত দুই ধরনের।
১। কৃৎপ্রত্যয়
২। তদ্ধিত প্রত্যয়
কৃৎপ্রত্যয়
ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে কৃৎপ্রত্যয় বলা হয়।

অর্থাৎ,
ক্রিয়া প্রকৃতি + কৃৎপ্রত্যয় → কৃদন্ত পদ

উদাহরণঃ
চল্ + অন → চলন
পড়্ + উয়া → পড়ুয়া

কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুর উচ্চারণ বা বানানে প্রয়োজন অনুসারে কিছু পরিবর্তনও ঘটতে পারে।
কৃৎপ্রত্যয়ের প্রধান বিভাগ
কৃৎপ্রত্যয়কে সাধারণভাবে বাংলা কৃৎপ্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়—এই দুই ভাগে আলোচনা করা হয়।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত দেশীয় প্রত্যয়ের পাশাপাশি সংস্কৃত উৎস থেকে আগত বহু কৃৎপ্রত্যয়ও প্রচলিত রয়েছে।

কোনো শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয়ের সময় ধাতুটি চিহ্নিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃদন্ত পদ
কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত ধাতু থেকে যে নতুন পদ গঠিত হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলা হয়।

যেমন,
পড়্ + উয়া → পড়ুয়া
নাচ্ + অন → নাচন ধরনের গঠনে প্রত্যয়যুক্ত নতুন শব্দ কৃদন্ত পদ।
তদ্ধিত প্রত্যয়
নাম প্রকৃতি বা শব্দমূলের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।

অর্থাৎ,
নাম প্রকৃতি + তদ্ধিত প্রত্যয় → তদ্ধিতান্ত পদ

উদাহরণঃ
মানব + ইক → মানবিক ধরনের শব্দে মূল নামপদের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি হয়।

তদ্ধিত প্রত্যয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি, গুণ, অবস্থা, সম্পর্ক, পেশা, উৎস, স্থান ইত্যাদি নানা অর্থ প্রকাশিত হতে পারে।
তদ্ধিত প্রত্যয়ের বিভাগ
উৎস ও ব্যবহারের ভিত্তিতে তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা, তৎসম বা সংস্কৃত এবং বিদেশি উৎসের প্রত্যয়সহ বিভিন্নভাবে আলোচনা করা হয়।

তদ্ধিত প্রত্যয় নির্ণয়ের সময় মূল শব্দটি ধাতু নয় বরং নাম বা শব্দমূল কি না তা আগে নির্ধারণ করা উচিত।
প্রাতিপদিক
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।

নামপদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হওয়ার আগের মূল রূপটি প্রাতিপদিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রাতিপদিক যখন তদ্ধিত প্রত্যয় গ্রহণ করে নতুন শব্দ তৈরি করে, তখন তাকে নাম প্রকৃতি হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

অন্যদিকে ধাতুর সঙ্গে কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হলে সেটি ক্রিয়া প্রকৃতির উদাহরণ।
গুণ ও বৃদ্ধি
কিছু কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে। এই স্বরপরিবর্তনের নির্দিষ্ট রূপকে গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয়।

গুণের সাধারণ ধারণা
কিছু স্বর প্রত্যয়ের প্রভাবে অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত স্বরে পরিবর্তিত হয়।

বৃদ্ধির সাধারণ ধারণা
গুণের তুলনায় আরও বিস্তৃত বা পরিবর্তিত স্বররূপ সৃষ্টি হলে তাকে বৃদ্ধি বলা হয়।

প্রকৃতি-প্রত্যয় বিশ্লেষণের সময় শব্দে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার আগে ও পরে স্বরের কী পরিবর্তন ঘটেছে তা লক্ষ্য করলে সঠিক প্রত্যয় শনাক্ত করা সহজ হয়।
প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়ে বিশেষ সতর্কতা
প্রত্যয় নির্ণয়ের সময় শুধু শব্দের শেষ অংশ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রথমে শব্দের প্রকৃত মূল বা প্রকৃতি বের করতে হবে।

একটি শব্দের দৃশ্যমান শেষাংশ সব সময় প্রত্যয় নাও হতে পারে। প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ফলে মূল প্রকৃতিতে স্বরপরিবর্তন, ব্যঞ্জনপরিবর্তন অথবা ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটতে পারে।

বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—
১। ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হলে কৃৎপ্রত্যয় নির্ণয়ের সম্ভাবনা থাকবে।
২। নাম বা শব্দমূলের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয় বিবেচনা করতে হবে।
৩। প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর নতুন শব্দের অর্থ আগের প্রকৃতির অর্থ থেকে সম্প্রসারিত বা পরিবর্তিত হতে পারে।
৪। বিভক্তি ও প্রত্যয় এক নয়। বিভক্তি সাধারণত পদের ব্যাকরণিক সম্পর্ক প্রকাশ করে, আর প্রত্যয় নতুন শব্দ গঠন করে।
৫। শব্দের প্রচলিত রূপ দেখে সরাসরি প্রকৃতি নির্ধারণ না করে সম্ভাব্য প্রত্যয় বাদ দিয়ে মূল অংশ নির্ণয় করতে হবে।
সমাস চেনার সহজ কৌশল
দ্বন্দ্ব → উভয় পদের অর্থ সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাসবাক্যে ও বা এবং ভাব থাকে।

কর্মধারয় → পরপদ প্রধান এবং পূর্বপদ সাধারণত পরপদকে বিশেষিত করে।

তৎপুরুষ → পরপদ প্রধান এবং পূর্বপদের বিভক্তি সাধারণত লোপ পায়।

বহুব্রীহি → পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটিই সরাসরি প্রধান নয়; সমস্ত পদ অন্য কিছুকে বোঝায়।

দ্বিগু → পূর্বে সংখ্যাবাচক পদ থাকে এবং সমাহারের অর্থ প্রধান হয়।

অব্যয়ীভাব → পূর্বপদ সাধারণত অব্যয় এবং পূর্বপদের অর্থ প্রধান থাকে।
কাছাকাছি সমাসের পার্থক্য
উপমান ও উপমিত কর্মধারয়
উপমান কর্মধারয়ে তুলনার সাধারণ গুণ প্রকাশিত থাকে।
উপমিত কর্মধারয়ে তুলনা থাকে কিন্তু সাধারণ গুণটি প্রকাশিত থাকে না।

উপমিত ও রূপক কর্মধারয়
উপমিত কর্মধারয়ে এক বস্তু অন্যটির ন্যায় বোঝায়।
রূপক কর্মধারয়ে একটি বস্তুকে অন্যটির রূপ হিসেবেই কল্পনা করা হয়।

দ্বিগু ও সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
দ্বিগুতে সংখ্যার সঙ্গে সমাহারের ভাব থাকে।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহিতে সমস্ত পদটি সংখ্যাসমষ্টিকে না বুঝিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তু নির্দেশ করে।

তৎপুরুষ ও কর্মধারয়
তৎপুরুষে বিভক্তিলোপের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মধারয়ে পূর্বপদ ও পরপদের বিশেষণ-বিশেষ্য বা তুলনামূলক সম্পর্ক প্রধান।
প্রকৃতি-প্রত্যয় চেনার সংক্ষিপ্ত কৌশল
প্রথমে গঠিত শব্দ থেকে সম্ভাব্য প্রত্যয় অংশ আলাদা করুন।
তারপর অবশিষ্ট অংশটি ধাতু নাকি নামমূল তা নির্ণয় করুন।

ধাতু হলে → ক্রিয়া প্রকৃতি → কৃৎপ্রত্যয়
নাম বা শব্দমূল হলে → নাম প্রকৃতি → তদ্ধিত প্রত্যয়

প্রয়োজনে শব্দের ধ্বনিগত পরিবর্তন, গুণ, বৃদ্ধি অথবা সন্ধিজনিত পরিবর্তন বিবেচনা করতে হবে।
  1. ‘তেপান্তর’ শব্দটি কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
    • দ্বন্দ্ব সমাস
    • অব্যয়ীভাব সমাস
    • দ্বিগু সমাস
    • কর্মধারয় সমাস
  2. সমাসবদ্ধ শব্দের যে অংশটির মাধ্যমে সমাসের ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে কী বলা হয়?
    • আকাশ
    • হাতপাখা
    • মুক্তিকা
    • সাগর
  3. নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
    • চিরসুখী
    • দশানন
    • গায়ে-হলুদ
    • কানাকানি
  4. নিচের কোন শব্দটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
    • ছেলেধরা
    • প্রতিবাদ
    • বিলাতফেরত
    • উপগ্রহ
  5. ‘কৃতবিদ্য’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • কৃত যে বিদ্য
    • কৃত যে বিদ্যা
    • কৃত বিদ্যা যার
    • কৃত হয়েছে যার বিদ্যা
  6. কোন সমাসে পরপদের অর্থ বেশি গুরুত্ব পায়?
    • অব্যয়ীভাব
    • বহুব্রীহি
    • দ্বন্দ্ব
    • কর্মধারয়
  7. ‘অনেক’ শব্দটি সমাসের বিচারে কোন ধরনের পদ?
    • অব্যয়
    • উপপদ
    • ন-ঞর্থক পদ
    • নিত্য সমাস
  8. নিচের কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
    • অন্যগৃহ
    • মিলের অভাব
    • স্ত্রীর অভাব
    • প্রকৃত গতি
  9. ‘উপকণ্ঠ’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • কণ্ঠের সমীপে
    • কণ্ঠের সদৃশ
    • উপ যে কণ্ঠ
    • কণ্ঠ পর্যন্ত
  10. নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
    • ভালোমন্দ
    • মধুমাখা
    • যথাসাধ্য
    • সত্যনিষ্ঠ
  11. নিচের কোনটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ?
    • সপ্তাহ
    • পরিক্রমণ
    • আমরণ
    • মনমাঝি
  12. নতুন শব্দ গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে কোনটি?
    • সন্ধি ও সমাস
    • সন্ধি ও কারক
    • সমাস ও পদ
    • প্রত্যয় ও পুরুষ
  13. ‘বীণাপাণি’ শব্দটি কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
    • দ্বন্দ্ব সমাস
    • কর্মধারয় সমাস
    • তৎপুরুষ সমাস
    • বহুব্রীহি সমাস
  14. সমাসের ধরন নির্ধারণ করো— ‘ধানের ক্ষেত’ থেকে গঠিত সমাসবদ্ধ পদ।
    • ষষ্ঠী তৎপুরুষ
    • বহুব্রীহি
    • কর্মধারয়
    • অব্যয়ীভাব
  15. ‘সিংহাসন’ শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
    • ষষ্ঠী তৎপুরুষ
    • মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
    • নিত্য সমাস
    • দ্বন্দ্ব সমাস
  16. ‘গোরক্ষগোল’ জাতীয় গঠনে কোন সমাস দেখা যায়?
    • উপমান কর্মধারয়
    • মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
    • দ্বন্দ্ব
    • দ্বিগু
  17. একটি বস্তুর সঙ্গে আরেকটি বস্তুর তুলনা করে প্রথমটিকে কী বলা হয়?
    • উপমিত
    • উপমান
    • উপমেয়
    • রূপক
  18. ‘চাঁদমুখ’ শব্দটির যথাযথ ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • চাঁদ মুখের ন্যায়
    • চাঁদের মতো মুখ
    • চাঁদ মুখ যার
    • মুখ চাঁদের ন্যায়
  19. ‘চাঁদমুখ’ কোন ধরনের সমাস?
    • উপমান কর্মধারয়
    • উপমিত কর্মধারয়
    • রূপক কর্মধারয়
    • অব্যয়ীভাব
  20. ‘ফুলকুমারী’ শব্দটির সমাস কোনটি?
    • উপমিত কর্মধারয়
    • উপমান কর্মধারয়
    • রূপক কর্মধারয়
    • ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  21. যে সমাসে পূর্বপদের সংখ্যাবাচক অর্থ এবং সমগ্র সমাহারের ধারণা থাকে, সেটি কোন সমাস?
    • দ্বন্দ্ব সমাস
    • রূপক সমাস
    • বহুব্রীহি সমাস
    • দ্বিগু সমাস
  22. ‘শতাব্দী’ শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
    • দ্বিগু সমাস
    • বহুব্রীহি সমাস
    • তৎপুরুষ সমাস
    • কর্মধারয় সমাস
  23. ‘সহোদর’ শব্দটি কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
    • দ্বন্দ্ব
    • তৎপুরুষ
    • বহুব্রীহি
    • অব্যয়ীভাব
  24. নিচের কোন শব্দটি বহুব্রীহি সমাসে গঠিত?
    • নিশাপতি
    • সিংহাসন
    • টাটকা
    • বনস্পতি
  25. ‘সোনামুখী’ শব্দটি কোন সমাস?
    • উপমান
    • উপমিত
    • রূপক
    • মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  26. ‘অর্ধ’ শব্দের সমাসবদ্ধ ব্যবহারে কোনটি সমাসমান পদ হতে পারে?
    • ধর্ম নেই যার
    • ধর্মহীন যে
    • ধর্মের অভাব
    • নেই ধর্ম যার
  27. ‘লাঠালাঠি’ কোন ধরনের সমাস?
    • প্রাদি সমাস
    • ব্যতিহার বহুব্রীহি
    • তৎপুরুষ সমাস
    • কর্মধারয় সমাস
  28. ‘কানাকানি’ শব্দটি কোন ধরনের সমাস?
    • বহুব্রীহি
    • কর্মধারয়
    • দ্বিগু
    • তৎপুরুষ
  29. নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
    • দশানন
    • হাতাহাতি
    • নদীমাতৃক
    • দিগন্ত
  30. ‘সমাস নিষ্পন্ন পদ’ বলতে কী বোঝায়?
    • সমাসমান পদ
    • সমস্ত পদ
    • ব্যাসবাক্য
    • উত্তরপদ
  31. দ্বিগু সমাসে সাধারণত কোন পদটি অর্থের দিক থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    • পরপদ
    • পূর্বপদ
    • উভয় পদ
    • অন্য পদ
  32. ‘নবপৃথিবী’ শব্দটির উপযুক্ত ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • নব ও পৃথিবী
    • নব পৃথিবী যার
    • নব পৃথিবীর ন্যায়
    • নব যে পৃথিবী
  33. বাংলা ভাষায় সমাসের রীতি প্রধানত কোন ভাষা থেকে এসেছে?
    • আরবি
    • ফারসি
    • সংস্কৃত
    • ইংরেজি
  34. ‘সমাস’ শব্দের মৌলিক অর্থ কোনটি?
    • বিশ্লেষণ
    • সংক্ষেপণ
    • সংযোজন
    • সংযোজন ও বিশ্লেষণ
  35. ‘মনমাঝি’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • মন ও মাঝি
    • মন মাঝির ন্যায়
    • মনরূপ মাঝি
    • মন যে মাঝি
  36. ‘গায়ে হলুদ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
    • তৎপুরুষ সমাস
    • কর্মধারয় সমাস
    • বহুব্রীহি সমাস
    • দ্বন্দ্ব সমাস
  37. নিচের কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ?
    • প্রতিবাদ
    • বিলাতফেরত
    • উপগ্রহ
    • ছেলেধরা
  38. ‘কর্তব্য’ শব্দটির যথাযথ প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের সমন্বয় কোনটি?
    • কব + তব্য
    • কব + তবা
    • কর্তা + তব্য
    • কৃ + তব্য
  39. ‘মানব’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
    • মনু + ষ
    • মনু + অব
    • মনু + অ
    • মা + নব
  40. কোনো নামশব্দে বিভক্তি যুক্ত না থাকলে সেই মূল রূপকে কী বলা হয়?
    • বিশেষ্য
    • সমাস
    • অব্যয়
    • প্রাতিপদিক
  41. ‘দর্শনীয়’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
    • দর্শন + ঈয়
    • দৃশ্ + অনীয়
    • দৃশ্ + নীয়
    • দর্শন + ঈয়
  42. ‘দীপ্যমান’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
    • দীপ্ + মান
    • দীপ্ + মানচ
    • দীপ্ + শানচ
    • দীপ + শানচ
  43. ‘নয়ন’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের সঠিক রূপ কোনটি?
    • নী + অন
    • নে + অন
    • নৈ + অন
    • নয় + ন
  44. ‘পাঠক’ শব্দটির যথাযথ প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
    • পাঠ + অক
    • পঠ্ + অক
    • পঠ্ + ঠক
    • পাঠ + ঠক
  45. প্রধানভাবে প্রত্যয়কে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
    • এক ভাগে
    • দুই ভাগে
    • তিন ভাগে
    • চার ভাগে
  46. নিচের কোন গঠনটি কৃৎপ্রত্যয়যুক্ত শব্দের উদাহরণ?
    • ঢাকা + ই
    • মিশ্ + উক
    • চোর + আ
    • সোনা + আলি
  47. যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেকটি পদের অর্থ সমানভাবে গুরুত্ব পায়, সেটি কোন সমাস?
    • দ্বন্দ্ব
    • দ্বিগু
    • তৎপুরুষ
    • বহুব্রীহি
  48. নিচের কোন শব্দটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
    • পঞ্চানন
    • বেয়াদব
    • দেশান্তর
    • ভালোমন্দ
  49. ‘কালান্তর’ শব্দটির যথাযথ ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • অন্য কাল
    • ক্ষুদ্র কাল
    • কালের অন্তর
    • কাল ও অন্তর
  50. ‘মুজিববর্ষ’ কোন ধরনের সমাস?
    • দ্বন্দ্ব সমাস
    • দ্বিগু সমাস
    • কর্মধারয় সমাস
    • অব্যয়ীভাব সমাস