ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান শাসনামল ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ — NTRCA school-level

ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান শাসনামল ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: সাধারণ জ্ঞান, NTRCA school-level পাঠ ও 19টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/1।

এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি
Background of the Language Movement
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলা হলেও রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রবণতা দেখালে পূর্ব বাংলায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগঠিত হতে শুরু করেন। ভাষা প্রশ্ন দ্রুত সাংস্কৃতিক দাবি থেকে রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে পরিণত হয়।
তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
Tamaddun Majlish and the State Language Movement
বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগঠিত প্রাথমিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তমদ্দুন মজলিস গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্য অনুযায়ী এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।

তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্রভাষা-সংক্রান্ত আলোচনা, লেখালেখি ও সাংগঠনিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের মাধ্যমে আন্দোলন আরও সুসংগঠিত হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
Language Movement of 1952
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। পূর্ব বাংলার জনগণ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন তীব্র করে।

২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের মিছিল ও সমাবেশ ঠেকাতে প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও শিক্ষার্থীরা তা অমান্য করে আন্দোলনে অংশ নেয়। পুলিশের গুলিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ হন। এই ঘটনা ভাষা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত জনআন্দোলনে পরিণত করে।

২১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তীতে বাঙালির ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়।
ভাষা শহীদ ও শহীদ মিনার
Language Martyrs and Shaheed Minar
ভাষা আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালী করে।

শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকার কাছে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে।
বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
National and International Recognition of Bangla
ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের স্মরণে দিনটি আন্তর্জাতিক পরিসরেও স্বীকৃতি লাভ করে। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাকিস্তান শাসনামলের সূচনা
Beginning of the Pakistan Period
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের পূর্বাংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

পাঠ্যে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিয়াকত আলী খান, প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে খাজা নাজিমুদ্দিনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য ক্রমশ তীব্র হতে থাকে।
আওয়ামী মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগ
Awami Muslim League and Awami League
পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রদত্ত পাঠ্যে সংগঠনটির প্রথম সভাপতি হিসেবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামসুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে সংগঠনের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নাম গ্রহণ করা হয়। দলটি পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তফ্রন্ট ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
United Front and the Election of 1954
পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।

পাঠ্য অনুযায়ী আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে অংশ নেয়। যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি ২১ দফা নামে পরিচিত ছিল।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণের কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়।
ছয় দফা আন্দোলন
Six-Point Movement
পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি সুস্পষ্ট করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ছয় দফার মূল লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করা এবং পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি, রাজস্ব, বৈদেশিক মুদ্রা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

ছয় দফা দ্রুত পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি শক্তিশালী করে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
Agartala Conspiracy Case
পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। মামলাটি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত হয়।

পাঠ্যে মামলার আনুষ্ঠানিক নাম হিসেবে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।

দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে সরকার মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
Mass Uprising of 1969
১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

এই আন্দোলনে আসাদসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ হন। শহীদ আসাদের স্মরণে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হয়।

গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচন
General Election of 1970
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের বিজয় শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ ও অসহযোগ আন্দোলন
March 1971 and Non-Cooperation Movement
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পর পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন কার্যত পূর্ব বাংলার প্রশাসনকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জনগণকে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। মার্চজুড়ে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অপারেশন সার্চলাইট
Operation Searchlight
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব বাংলায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত।

ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্র, সাধারণ মানুষ, পুলিশ ও প্রতিরোধকারী বাঙালিদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এই সামরিক অভিযান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ দেয়।
স্বাধীনতার ঘোষণা
Declaration of Independence
২৫ মার্চের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং দেশব্যাপী সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়।

পাঠ্যে স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম যুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করে জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার
First Provisional Government of Bangladesh
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও এই সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের সদস্য সংখ্যা পাঠ্যে ছয়জন উল্লেখ করা হয়েছে।
মুজিবনগর সরকার
Mujibnagar Government
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। পরে স্থানটির নাম মুজিবনগর রাখা হয়।

পাঠ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী অর্থ, বাণিজ্য ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে এবং এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন।

এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সামরিক প্রতিরোধ সমন্বয় করে।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সামরিক কাঠামো
Sectors and Military Structure of the Liberation War
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে যুদ্ধক্ষেত্রকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করা হয়। পাঠ্য অনুযায়ী মোট ১১টি সেক্টর ছিল।

প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে একজন সেক্টর কমান্ডার থাকতেন। বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি সেক্টরে কমান্ডার পরিবর্তনও হয়। রাজধানী ঢাকার বড় অংশ ২ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী। সামরিক পরিকল্পনা, সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ এবং গেরিলা কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
মুক্তিবাহিনী ও বিশেষ ফোর্স
Mukti Bahini and Special Forces
মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত সামরিক কাঠামো সাধারণভাবে মুক্তিবাহিনী নামে পরিচিত। সামরিক বাহিনীর সদস্য, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ এই যুদ্ধে অংশ নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনটি বিশেষ ব্রিগেড বা ফোর্স গঠনের উল্লেখ রয়েছে—
১। এস ফোর্স
২। কে ফোর্স
৩। জেড ফোর্স

এ ছাড়া নৌ-কমান্ডো, গেরিলা ইউনিট এবং স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনী শত্রুর যোগাযোগব্যবস্থা, ঘাঁটি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর আক্রমণ চালায়।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী
Bangladesh-India Joint Command
মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বাহিনী সমন্বিতভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। এই যৌথ সামরিক কাঠামোকে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বিত অভিযান দ্রুত অগ্রসর হয়।
মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি
Foreign Support and Opposition during the Liberation War
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। বিভিন্ন রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে।

পাঠ্যে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাংলাদেশের পক্ষে সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।

চীন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের প্রাথমিক পর্যায়ে আপত্তি জানায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক অবস্থান পাকিস্তানের প্রতি সহায়ক হলেও মার্কিন সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের মানবিক বিপর্যয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
Concert for Bangladesh
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থী সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করা হয়।

জর্জ হ্যারিসন এবং পণ্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা অংশ নেন।

এই কনসার্ট বাংলাদেশের মানবিক সংকট সম্পর্কে বিশ্বজনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
Killing of Intellectuals
মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী সংগঠন পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, লেখক ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এই হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন হতে যাওয়া দেশকে মেধাশূন্য করা।

বাংলাদেশে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
আত্মসমর্পণ ও বিজয়
Surrender and Victory
ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে যৌথ বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রায় পাকিস্তানি বাহিনী সামরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমে নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিজয় অর্জন করে।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ
Seven Bir Sreshtho
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।

সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন—
১। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
২। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান
৩। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল
৪। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
৫। বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৬। বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
৭। বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ

এই সাতজনের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাব
Gallantry Awards of the Liberation War
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়। গুরুত্বের ক্রমানুসারে চারটি প্রধান খেতাব হলো—

১। বীরশ্রেষ্ঠ
২। বীর উত্তম
৩। বীর বিক্রম
৪। বীর প্রতীক

পাঠ্যে মোট বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা \(676\) জন উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে—
বীরশ্রেষ্ঠ — \(7\) জন
বীর উত্তম — \(68\) জন
বীর বিক্রম — \(175\) জন
বীর প্রতীক — \(426\) জন

বীরশ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক সম্মান।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র
Liberation War Films and Documentaries
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বহু চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলো যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, গণহত্যা, শরণার্থী সংকট, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম ও সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরে।

প্রদত্ত পৃষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
‘ওরা ১১ জন’ — চাষী নজরুল ইসলাম
‘সংগ্রাম’ — চাষী নজরুল ইসলাম
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ — চাষী নজরুল ইসলাম
‘ধীরে বহে মেঘনা’ — আলমগীর কবির
‘আগামী’ — মোরশেদুল ইসলাম
‘আমার বন্ধু রাশেদ’ — মোরশেদুল ইসলাম
‘আগুনের পরশমণি’ — হুমায়ূন আহমেদ
‘শ্যামল ছায়া’ — হুমায়ূন আহমেদ
‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ — আলমগীর কবির
‘মাটির ময়না’ — তারেক মাসুদ

প্রামাণ্যচিত্রের মধ্যে জহির রায়হানের ‘Stop Genocide’ এবং ‘A State is Born’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দলিল হিসেবে বিবেচিত।
  1. ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব প্রথম কে উত্থাপন করেন?
    • ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
    • আবুল কাসেম
    • মওলানা ভাসানী
    • যোগেন্দ্রচন্দ্র ঘোষ
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন?
    • আবদুস সালাম
    • রফিক উদ্দিন
    • আবুল বরকত
    • সকলেই
  3. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি সংবলিত ডাকটিকিট প্রথম কোন দেশ প্রকাশ করে?
    • যুক্তরাষ্ট্র
    • যুক্তরাজ্য
    • ভারত
    • কানাডা
  4. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে প্রধান ভিত্তি হিসেবে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে?
    • ভাষা ও সংস্কৃতি
    • ধর্ম
    • আঞ্চলিকতা
    • রাজনীতি
  5. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কে?
    • নুরুল আমিন
    • লিয়াকত আলী খান
    • মোহাম্মদ আলী
    • খাজা নাজিমুদ্দিন
  6. বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার কোন দেশে নির্মিত হয়েছিল?
    • কানাডা
    • ইতালি
    • জাপান
    • দক্ষিণ আফ্রিকা
  7. বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৫২ সাল বিশেষভাবে কোন ঘটনার জন্য স্মরণীয়?
    • মুক্তিযুদ্ধ
    • ভাষা আন্দোলন
    • গণঅভ্যুত্থান
    • আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  8. শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয় কোন তারিখে?
    • ২ মার্চ ১৯৭০
    • ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
    • ২৬ মার্চ ১৯৭১
    • ২৩ মার্চ ১৯৭১
  9. ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
    • মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
    • শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
    • হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
    • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  10. বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিববর্ষ’-এর অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে কোন তারিখে শুরু হয়?
    • ১৭ মার্চ ২০২০
    • ১৭ মার্চ ২০১৯
    • ১৭ মার্চ ২০২১
    • ১৭ মার্চ ২০২২
  11. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয় কোন তারিখে?
    • ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
    • ২০ মার্চ ১৯৬৯
    • ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০
    • ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৮
  12. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
    • ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
    • তাজউদ্দীন আহমদ
    • সৈয়দ নজরুল ইসলাম
    • খন্দকার মোশতাক আহমদ
  13. মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর প্রধানত কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
    • ১ নম্বর সেক্টর
    • ৩ নম্বর সেক্টর
    • ২ নম্বর সেক্টর
    • ১০ নম্বর সেক্টর
  14. মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেন কতজন?
    • ৭ জন
    • ৬৮ জন
    • ১৭৫ জন
    • ৪২৬ জন
  15. বিশ্বশান্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন পদক লাভ করেন?
    • ফ্রিডম পদক
    • ম্যাগসেসে পদক
    • জওহরলাল নেহরু পদক
    • জুলিও কুরি শান্তি পদক
  16. স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
    • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
    • তাজউদ্দীন আহমদ
    • সৈয়দ নজরুল ইসলাম
    • আতাউর রহমান খান
  17. ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
    • ড. আতিউর রহমান
    • শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
    • ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
    • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  18. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম কোন জেলা শত্রুমুক্ত হয়?
    • মাগুরা
    • মেহেরপুর
    • যশোর
    • ময়মনসিংহ
  19. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দাবিটি কী ছিল?
    • বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া
    • পাটশিল্প জাতীয়করণ করা
    • চাকরিতে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা
    • পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা