কারক ও বিভক্তি — Primary Teacher
কারক ও বিভক্তি: বাংলা, Primary Teacher পাঠ ও 70টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/2।
এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী
- কারক ও বিভক্তির প্রাথমিক ধারণা
- বিভক্তি কী
- বাংলা শব্দবিভক্তির প্রকার
- কারক কী
- কর্তৃকারক
- কর্মকারক
- করণকারক
- সম্প্রদান কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক
- কারক নির্ণয়ের সহজ উপায়
- অপাদান ও অধিকরণ কারকের পার্থক্য
- গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
- পরীক্ষায় যেখানে ভুল হতে পারে
কারক ও বিভক্তির প্রাথমিক ধারণা
Case and Case-ending
বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন পদের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝাতে বিভক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, তা কারকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
একটি শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে তার সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে বিভক্তি যুক্ত হতে পারে। বিভক্তি যুক্ত হওয়ার পর শব্দটি বাক্যে পদ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়।
উদাহরণ—
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
এখানে ‘মা’, ‘শিশুকে’ ও ‘চাঁদ’—প্রত্যেকটি ক্রিয়ার সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক প্রকাশ করছে। তাই এগুলো আলাদা কারক নির্দেশ করে।
একটি শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে তার সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে বিভক্তি যুক্ত হতে পারে। বিভক্তি যুক্ত হওয়ার পর শব্দটি বাক্যে পদ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হয়।
উদাহরণ—
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
এখানে ‘মা’, ‘শিশুকে’ ও ‘চাঁদ’—প্রত্যেকটি ক্রিয়ার সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক প্রকাশ করছে। তাই এগুলো আলাদা কারক নির্দেশ করে।
বিভক্তি কী
Definition of Bibhakti
বাক্যের একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শব্দের সঙ্গে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলা হয়।
বিভক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে শব্দ বাক্যে একটি নির্দিষ্ট পদগত ভূমিকা লাভ করে।
সব ক্ষেত্রে বিভক্তি দৃশ্যমান হয় না। কোনো শব্দে দৃশ্যমান বিভক্তি না থাকলেও সেখানে শূন্য বিভক্তি ধরা হয়।
উদাহরণ—
গরু ঘাস খায়।
এখানে ‘গরু’ ও ‘ঘাস’-এর সঙ্গে কোনো দৃশ্যমান বিভক্তি নেই। তাই উভয়ের ক্ষেত্রেই শূন্য বিভক্তি রয়েছে।
বিভক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে শব্দ বাক্যে একটি নির্দিষ্ট পদগত ভূমিকা লাভ করে।
সব ক্ষেত্রে বিভক্তি দৃশ্যমান হয় না। কোনো শব্দে দৃশ্যমান বিভক্তি না থাকলেও সেখানে শূন্য বিভক্তি ধরা হয়।
উদাহরণ—
গরু ঘাস খায়।
এখানে ‘গরু’ ও ‘ঘাস’-এর সঙ্গে কোনো দৃশ্যমান বিভক্তি নেই। তাই উভয়ের ক্ষেত্রেই শূন্য বিভক্তি রয়েছে।
বাংলা শব্দবিভক্তির প্রকার
Types of Case-endings
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত প্রধান শব্দবিভক্তিগুলো নিচের মতো—
দ্বিতীয়া বিভক্তি সবসময় কেবল কর্মকারক বোঝাবে—এমন নয়। একই বিভক্তি বাক্যের অর্থ ও ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অনুযায়ী অন্য কারকেও ব্যবহৃত হতে পারে।
একইভাবে ‘কে’ বিভক্তি কর্মকারক ও সম্প্রদান কারক—দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কারক নির্ধারণ করতে তাই শুধু বিভক্তি নয়, ক্রিয়ার সঙ্গে অর্থগত সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে।
| বিভক্তি | প্রচলিত রূপ |
|---|---|
| প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি | ০, অ, আ, গণ |
| দ্বিতীয়া বিভক্তি | কে, রে |
| তৃতীয়া বিভক্তি | দ্বারা, দিয়া/দিয়ে, কর্তৃক |
| চতুর্থী বিভক্তি | কে, রে, নিমিত্তে, জন্য |
| পঞ্চমী বিভক্তি | হতে, হইতে, থেকে, চেয়ে |
| ষষ্ঠী বিভক্তি | র, এর |
| সপ্তমী বিভক্তি | এ, য়, তে |
একইভাবে ‘কে’ বিভক্তি কর্মকারক ও সম্প্রদান কারক—দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কারক নির্ধারণ করতে তাই শুধু বিভক্তি নয়, ক্রিয়ার সঙ্গে অর্থগত সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে।
কারক কী
Definition of Karok
‘কারক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো—যা ক্রিয়া সম্পাদন করে বা ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে অর্থগত সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
বাংলা ব্যাকরণে প্রধানত ছয় প্রকার কারক রয়েছে—
১। কর্তৃকারক
২। কর্মকারক
৩। করণকারক
৪। সম্প্রদান কারক
৫। অপাদান কারক
৬। অধিকরণ কারক
সম্বন্ধ পদকে সাধারণত কারকের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কারণ এটি সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন না করে এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্পর্ক নির্দেশ করে।
বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে অর্থগত সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
বাংলা ব্যাকরণে প্রধানত ছয় প্রকার কারক রয়েছে—
১। কর্তৃকারক
২। কর্মকারক
৩। করণকারক
৪। সম্প্রদান কারক
৫। অপাদান কারক
৬। অধিকরণ কারক
সম্বন্ধ পদকে সাধারণত কারকের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কারণ এটি সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন না করে এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্পর্ক নির্দেশ করে।
কর্তৃকারক
Nominative / Agentive Relation
যে ব্যক্তি বা বস্তু ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তা বলে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার সম্পর্ককে কর্তৃকারক বলা হয়।
কর্তৃকারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াকে ‘কে?’ বা ‘কারা?’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই সাধারণত কর্তৃকারক।
উদাহরণ—
গরু ঘাস খায়।
কে খায়? \(\Rightarrow\) গরু।
অতএব ‘গরু’ কর্তৃকারক। এখানে শূন্য বিভক্তি রয়েছে।
আমি কাল বাড়ি যাব।
কে যাবে? \(\Rightarrow\) আমি।
অতএব ‘আমি’ কর্তৃকারক।
কর্তৃকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি ছাড়াও অন্যান্য বিভক্তির ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
কর্তৃকারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াকে ‘কে?’ বা ‘কারা?’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই সাধারণত কর্তৃকারক।
উদাহরণ—
গরু ঘাস খায়।
কে খায়? \(\Rightarrow\) গরু।
অতএব ‘গরু’ কর্তৃকারক। এখানে শূন্য বিভক্তি রয়েছে।
আমি কাল বাড়ি যাব।
কে যাবে? \(\Rightarrow\) আমি।
অতএব ‘আমি’ কর্তৃকারক।
কর্তৃকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি ছাড়াও অন্যান্য বিভক্তির ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
কর্তৃকারকের বিশেষ রূপ
Special Forms of Subject
কর্তৃকারকের কয়েকটি বিশেষ ধরন রয়েছে। যেমন—
উহ্য কর্তা
কর্তা বাক্যে প্রকাশিত না থাকলেও ক্রিয়া দেখে তাকে বোঝা যায়।
যেমন—যাও।
এখানে কর্তা ‘তুমি’ উহ্য রয়েছে।
প্রযোজক কর্তা
যে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করায় তাকে প্রযোজক কর্তা বলা হয়।
যেমন—মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। এখানে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা।
প্রযোজ্য কর্তা
যাকে দিয়ে কাজ করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
উপরের উদাহরণে ‘শিশু’ প্রযোজ্য কর্তা।
ব্যতিহার কর্তা
যখন একাধিক কর্তা পারস্পরিকভাবে একই কাজ করে, তখন তাদের ব্যতিহার কর্তা বলা হয়।
যেমন—ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল।
উহ্য কর্তা
কর্তা বাক্যে প্রকাশিত না থাকলেও ক্রিয়া দেখে তাকে বোঝা যায়।
যেমন—যাও।
এখানে কর্তা ‘তুমি’ উহ্য রয়েছে।
প্রযোজক কর্তা
যে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করায় তাকে প্রযোজক কর্তা বলা হয়।
যেমন—মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। এখানে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা।
প্রযোজ্য কর্তা
যাকে দিয়ে কাজ করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
উপরের উদাহরণে ‘শিশু’ প্রযোজ্য কর্তা।
ব্যতিহার কর্তা
যখন একাধিক কর্তা পারস্পরিকভাবে একই কাজ করে, তখন তাদের ব্যতিহার কর্তা বলা হয়।
যেমন—ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল।
কর্মকারক
Objective Case
কর্তা যে ব্যক্তি বা বস্তুকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে সেই কর্মের সম্পর্ককে কর্মকারক বলা হয়।
কর্মকারক নির্ণয়ের সহজ প্রশ্ন—‘কী?’ বা ‘কাকে?’।
উদাহরণ—
বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
কাকে দিয়েছেন? \(\Rightarrow\) আমাকে।
কী দিয়েছেন? \(\Rightarrow\) ল্যাপটপ।
এখানে ‘আমাকে’ গৌণ কর্ম এবং ‘ল্যাপটপ’ মুখ্য কর্ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ডাক্তার ডাক।
কাকে ডাক? \(\Rightarrow\) ডাক্তার।
অতএব ‘ডাক্তার’ কর্মকারক; এখানে শূন্য বিভক্তি রয়েছে।
কর্মকারক নির্ণয়ের সহজ প্রশ্ন—‘কী?’ বা ‘কাকে?’।
উদাহরণ—
বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
কাকে দিয়েছেন? \(\Rightarrow\) আমাকে।
কী দিয়েছেন? \(\Rightarrow\) ল্যাপটপ।
এখানে ‘আমাকে’ গৌণ কর্ম এবং ‘ল্যাপটপ’ মুখ্য কর্ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ডাক্তার ডাক।
কাকে ডাক? \(\Rightarrow\) ডাক্তার।
অতএব ‘ডাক্তার’ কর্মকারক; এখানে শূন্য বিভক্তি রয়েছে।
মুখ্য ও গৌণ কর্ম
Direct and Indirect Object
একই বাক্যে দুটি কর্ম থাকলে একটি মুখ্য কর্ম এবং অন্যটি গৌণ কর্ম হতে পারে।
সাধারণভাবে প্রাণিবাচক বা ব্যক্তিবাচক কর্ম গৌণ কর্ম এবং বস্তুবাচক কর্ম মুখ্য কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ—
বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
‘আমাকে’ \(\Rightarrow\) গৌণ কর্ম
‘ল্যাপটপ’ \(\Rightarrow\) মুখ্য কর্ম
একই ধাতু থেকে ক্রিয়া ও কর্মপদ গঠিত হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলা হয়।
সাধারণভাবে প্রাণিবাচক বা ব্যক্তিবাচক কর্ম গৌণ কর্ম এবং বস্তুবাচক কর্ম মুখ্য কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ—
বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
‘আমাকে’ \(\Rightarrow\) গৌণ কর্ম
‘ল্যাপটপ’ \(\Rightarrow\) মুখ্য কর্ম
একই ধাতু থেকে ক্রিয়া ও কর্মপদ গঠিত হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলা হয়।
করণকারক
Instrumental Case
যার সাহায্যে, যে উপায় বা যে উপকরণের মাধ্যমে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে করণকারক বলা হয়।
করণকারক নির্ণয়ের প্রশ্ন—‘কী দিয়ে?’ বা ‘কী উপায়ে?’।
উদাহরণ—
পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে।
কী দিয়ে লিখছে? \(\Rightarrow\) কলম দিয়ে।
অতএব এটি করণকারক।
কীর্তিমানরা সাধনায় সিদ্ধ হন।
কী উপায়ে সিদ্ধ হন? \(\Rightarrow\) সাধনায়।
অতএব ‘সাধনায়’ করণকারক।
লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।
কী দিয়ে চাষ করা হয়? \(\Rightarrow\) লাঙল দিয়ে।
অতএব ‘লাঙল’ করণকারক।
মন দিয়ে পড়াশোনা কর।
কী দিয়ে পড়াশোনা কর? \(\Rightarrow\) মন দিয়ে।
অতএব ‘মন’ করণকারক।
করণকারক নির্ণয়ের প্রশ্ন—‘কী দিয়ে?’ বা ‘কী উপায়ে?’।
উদাহরণ—
পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে।
কী দিয়ে লিখছে? \(\Rightarrow\) কলম দিয়ে।
অতএব এটি করণকারক।
কীর্তিমানরা সাধনায় সিদ্ধ হন।
কী উপায়ে সিদ্ধ হন? \(\Rightarrow\) সাধনায়।
অতএব ‘সাধনায়’ করণকারক।
লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।
কী দিয়ে চাষ করা হয়? \(\Rightarrow\) লাঙল দিয়ে।
অতএব ‘লাঙল’ করণকারক।
মন দিয়ে পড়াশোনা কর।
কী দিয়ে পড়াশোনা কর? \(\Rightarrow\) মন দিয়ে।
অতএব ‘মন’ করণকারক।
সম্প্রদান কারক
Dative Case
যাকে কোনো বস্তু স্বত্ব ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে দান করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলা হয়।
অর্থাৎ দানের ক্ষেত্রে গ্রহীতা যখন কোনো কিছুর অধিকার লাভ করে, তখন সেই গ্রহীতার সঙ্গে ক্রিয়ার সম্পর্ক সম্প্রদান কারক হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদাহরণ—
ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।
কাকে দাও? \(\Rightarrow\) ভিখারিকে।
অতএব ‘ভিখারিকে’ সম্প্রদান কারক।
অসহায়কে খাদ্য দাও।
‘অসহায়কে’ সম্প্রদান কারক।
অন্ধজনে দেহ আলো।
‘অন্ধজনে’ সম্প্রদান কারক।
সমিতিতে চাঁদা দাও।
‘সমিতিতে’ সম্প্রদান কারক।
সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির ব্যবহার বেশি হলেও বাক্যের রূপ অনুযায়ী অন্যান্য বিভক্তিও দেখা যেতে পারে।
অর্থাৎ দানের ক্ষেত্রে গ্রহীতা যখন কোনো কিছুর অধিকার লাভ করে, তখন সেই গ্রহীতার সঙ্গে ক্রিয়ার সম্পর্ক সম্প্রদান কারক হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদাহরণ—
ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।
কাকে দাও? \(\Rightarrow\) ভিখারিকে।
অতএব ‘ভিখারিকে’ সম্প্রদান কারক।
অসহায়কে খাদ্য দাও।
‘অসহায়কে’ সম্প্রদান কারক।
অন্ধজনে দেহ আলো।
‘অন্ধজনে’ সম্প্রদান কারক।
সমিতিতে চাঁদা দাও।
‘সমিতিতে’ সম্প্রদান কারক।
সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির ব্যবহার বেশি হলেও বাক্যের রূপ অনুযায়ী অন্যান্য বিভক্তিও দেখা যেতে পারে।
অপাদান কারক
Ablative Case
যে ব্যক্তি, স্থান বা বস্তু থেকে কোনো কিছু বিচ্ছিন্ন, উৎপন্ন, নির্গত, পতিত, মুক্ত, ভীত, গৃহীত বা দূরীভূত হয়, তাকে অপাদান কারক বলা হয়।
অপাদান কারক সাধারণত ‘কী হতে?’ বা ‘কোথা থেকে?’ প্রশ্নের উত্তর দেয়।
উদাহরণ—
গাছ থেকে পাতা পড়ে।
কোথা থেকে পড়ে? \(\Rightarrow\) গাছ থেকে।
অতএব ‘গাছ’ অপাদান কারক।
জমি থেকে ফসল পাই।
কোথা থেকে ফসল পাই? \(\Rightarrow\) জমি থেকে।
অতএব ‘জমি’ অপাদান কারক।
দেশ থেকে হায়েনারা চলে গেছে।
কোথা থেকে চলে গেছে? \(\Rightarrow\) দেশ থেকে।
অতএব ‘দেশ’ অপাদান কারক।
বিপদ থেকে বাঁচাও।
কী থেকে বাঁচাও? \(\Rightarrow\) বিপদ থেকে।
অতএব ‘বিপদ’ অপাদান কারক।
বাঘে ভয় পায় না সে।
কী হতে ভয়? \(\Rightarrow\) বাঘ হতে।
অতএব ‘বাঘে’ অপাদান কারক।
বাবাকে বড় ভয় পাই।
কার থেকে ভয়? \(\Rightarrow\) বাবা হতে।
এখানে ‘বাবাকে’ অপাদান সম্পর্ক প্রকাশ করছে।
অপাদান কারক সাধারণত ‘কী হতে?’ বা ‘কোথা থেকে?’ প্রশ্নের উত্তর দেয়।
উদাহরণ—
গাছ থেকে পাতা পড়ে।
কোথা থেকে পড়ে? \(\Rightarrow\) গাছ থেকে।
অতএব ‘গাছ’ অপাদান কারক।
জমি থেকে ফসল পাই।
কোথা থেকে ফসল পাই? \(\Rightarrow\) জমি থেকে।
অতএব ‘জমি’ অপাদান কারক।
দেশ থেকে হায়েনারা চলে গেছে।
কোথা থেকে চলে গেছে? \(\Rightarrow\) দেশ থেকে।
অতএব ‘দেশ’ অপাদান কারক।
বিপদ থেকে বাঁচাও।
কী থেকে বাঁচাও? \(\Rightarrow\) বিপদ থেকে।
অতএব ‘বিপদ’ অপাদান কারক।
বাঘে ভয় পায় না সে।
কী হতে ভয়? \(\Rightarrow\) বাঘ হতে।
অতএব ‘বাঘে’ অপাদান কারক।
বাবাকে বড় ভয় পাই।
কার থেকে ভয়? \(\Rightarrow\) বাবা হতে।
এখানে ‘বাবাকে’ অপাদান সম্পর্ক প্রকাশ করছে।
অধিকরণ কারক
Locative Case
ক্রিয়া সম্পাদনের সময়, স্থান বা বিষয় যে পদ দ্বারা প্রকাশ পায়, তাকে অধিকরণ কারক বলা হয়।
অধিকরণ নির্ণয়ের প্রশ্ন—‘কোথায়?’, ‘কখন?’ বা ‘কী বিষয়ে?’।
উদাহরণ—
পুকুরে মাছ আছে।
কোথায় মাছ আছে? \(\Rightarrow\) পুকুরে।
অতএব ‘পুকুরে’ অধিকরণ কারক।
বনে বাঘ আছে।
কোথায় আছে? \(\Rightarrow\) বনে।
অতএব ‘বনে’ অধিকরণ কারক।
মাঠে নৌকা বাঁধা আছে।
কোথায়? \(\Rightarrow\) মাঠে।
অতএব ‘মাঠে’ অধিকরণ কারক।
মঙ্গলবারে ময়ূর নাচে।
কখন নাচে? \(\Rightarrow\) মঙ্গলবারে।
এটি কালাধিকরণ।
সকালে সূর্য ওঠে।
কখন ওঠে? \(\Rightarrow\) সকালে।
এখানেও অধিকরণ কারক।
সজীব ব্যাকরণে ভালো।
কী বিষয়ে ভালো? \(\Rightarrow\) ব্যাকরণে।
এটি বিষয়াধিকরণ।
অধিকরণ নির্ণয়ের প্রশ্ন—‘কোথায়?’, ‘কখন?’ বা ‘কী বিষয়ে?’।
উদাহরণ—
পুকুরে মাছ আছে।
কোথায় মাছ আছে? \(\Rightarrow\) পুকুরে।
অতএব ‘পুকুরে’ অধিকরণ কারক।
বনে বাঘ আছে।
কোথায় আছে? \(\Rightarrow\) বনে।
অতএব ‘বনে’ অধিকরণ কারক।
মাঠে নৌকা বাঁধা আছে।
কোথায়? \(\Rightarrow\) মাঠে।
অতএব ‘মাঠে’ অধিকরণ কারক।
মঙ্গলবারে ময়ূর নাচে।
কখন নাচে? \(\Rightarrow\) মঙ্গলবারে।
এটি কালাধিকরণ।
সকালে সূর্য ওঠে।
কখন ওঠে? \(\Rightarrow\) সকালে।
এখানেও অধিকরণ কারক।
সজীব ব্যাকরণে ভালো।
কী বিষয়ে ভালো? \(\Rightarrow\) ব্যাকরণে।
এটি বিষয়াধিকরণ।
অধিকরণ কারকের প্রধান ধরন
Types of Adhikaran
অধিকরণ প্রধানত স্থান, কাল ও বিষয় নির্দেশ করতে পারে।
স্থানাধিকরণ
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
যেমন—মাঠে ধান ফলেছে।
কালাধিকরণ
ক্রিয়া সংঘটনের সময় নির্দেশ করে।
যেমন—সকালে সূর্য ওঠে।
বিষয়াধিকরণ
কোনো কাজ বা গুণের বিষয় নির্দেশ করে।
যেমন—সজীব ব্যাকরণে ভালো।
স্থানাধিকরণ
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
যেমন—মাঠে ধান ফলেছে।
কালাধিকরণ
ক্রিয়া সংঘটনের সময় নির্দেশ করে।
যেমন—সকালে সূর্য ওঠে।
বিষয়াধিকরণ
কোনো কাজ বা গুণের বিষয় নির্দেশ করে।
যেমন—সজীব ব্যাকরণে ভালো।
কারক নির্ণয়ের সহজ উপায়
Easy Way to Identify Karok
কারক নির্ণয়ের সময় ক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন করতে হবে। নিচের কৌশলগুলো পরীক্ষায় দ্রুত উত্তর নির্ণয়ে সহায়ক—
কেবল বিভক্তি দেখে কারক নির্ণয় করলে ভুল হতে পারে। বাক্যের অর্থ এবং ক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদের সম্পর্ক—দুটিই বিবেচনা করতে হবে।
| প্রশ্ন | কারক |
|---|---|
| কে? কারা? | কর্তৃকারক |
| কী? কাকে? | কর্মকারক |
| কী দিয়ে? কী উপায়ে? | করণকারক |
| কাকে স্থায়ীভাবে দান করা হলো? | সম্প্রদান কারক |
| কোথা থেকে? কী হতে? | অপাদান কারক |
| কোথায়? কখন? কী বিষয়ে? | অধিকরণ কারক |
অপাদান ও অধিকরণ কারকের পার্থক্য
Difference between Apadan and Adhikaran
অপাদান ও অধিকরণ কারক আলাদা করতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে। মূল পার্থক্যটি অর্থে।
যদি কোনো স্থান, ব্যক্তি বা বস্তু থেকে কিছু বের হয়, বিচ্ছিন্ন হয়, পড়ে, উৎপন্ন হয় বা দূরে সরে যায়—তবে সেটি অপাদান কারক।
যদি কোনো স্থান, ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে বা উপরেই ক্রিয়াটি ঘটে বা অবস্থান বোঝায়—তবে সেটি অধিকরণ কারক।
তিল থেকে তেল হয়।
এখানে তিল থেকে তেল উৎপন্ন হচ্ছে। তাই ‘তিল থেকে’ অপাদান কারক।
তিলে তেল আছে।
এখানে তেল তিলের ভেতরে অবস্থান করছে। তাই ‘তিলে’ অধিকরণ কারক।
ছাদ থেকে পানি পড়ে।
পানি ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ছে। তাই ‘ছাদ থেকে’ অপাদান কারক।
ছাদে পানি পড়ে।
পানি ছাদের ওপর পড়ছে। তাই ‘ছাদে’ অধিকরণ কারক।
শিকল থেকে মুক্তি মিল।
এখানে শিকল থেকে বিচ্ছিন্নতার ভাব রয়েছে। তাই অপাদান কারক।
শিকলে মুক্তা আছে।
এখানে মুক্তার অবস্থান নির্দেশ করা হচ্ছে। তাই অধিকরণ কারক।
যদি কোনো স্থান, ব্যক্তি বা বস্তু থেকে কিছু বের হয়, বিচ্ছিন্ন হয়, পড়ে, উৎপন্ন হয় বা দূরে সরে যায়—তবে সেটি অপাদান কারক।
যদি কোনো স্থান, ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে বা উপরেই ক্রিয়াটি ঘটে বা অবস্থান বোঝায়—তবে সেটি অধিকরণ কারক।
তিল থেকে তেল হয়।
এখানে তিল থেকে তেল উৎপন্ন হচ্ছে। তাই ‘তিল থেকে’ অপাদান কারক।
তিলে তেল আছে।
এখানে তেল তিলের ভেতরে অবস্থান করছে। তাই ‘তিলে’ অধিকরণ কারক।
ছাদ থেকে পানি পড়ে।
পানি ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ছে। তাই ‘ছাদ থেকে’ অপাদান কারক।
ছাদে পানি পড়ে।
পানি ছাদের ওপর পড়ছে। তাই ‘ছাদে’ অধিকরণ কারক।
শিকল থেকে মুক্তি মিল।
এখানে শিকল থেকে বিচ্ছিন্নতার ভাব রয়েছে। তাই অপাদান কারক।
শিকলে মুক্তা আছে।
এখানে মুক্তার অবস্থান নির্দেশ করা হচ্ছে। তাই অধিকরণ কারক।
গুরুত্বপূর্ণ কারক-বিভক্তির উদাহরণ
Important Examples
| বাক্য | চিহ্নিত পদ | কারক |
|---|---|---|
| ডাক্তারের ডাক পড়েছে | ডাক্তারের | সম্বন্ধ পদ |
| ডাক্তার ডাক | ডাক্তার | কর্মকারক |
| আমাকে যেতে হবে | আমাকে | কর্তৃকারক-সম্পর্কিত ব্যবহার |
| আমাকে একটি বই দাও | আমাকে | কর্ম বা সম্প্রদান অর্থে প্রসঙ্গনির্ভর |
| আমার যাওয়া হয়নি | আমার | কর্তৃকারক-সম্পর্কিত ষষ্ঠী রূপ |
| হাসিনা ফুল তুলছে | ফুল | কর্মকারক |
| বনে ফুল ফোটে | বনে | অধিকরণ কারক |
| ফুলে মালা গাঁথা | ফুলে | করণকারক |
| গাছ থেকে পাতা পড়ে | গাছ থেকে | অপাদান কারক |
| পথে পথিক চলে | পথে | অধিকরণ কারক |
| আমরা ব্যাকরণে পড়ি | ব্যাকরণে | অধিকরণ কারক |
| মেঘে বৃষ্টি হয় | মেঘে | অপাদান-অর্থ প্রকাশ করতে পারে |
পরীক্ষায় যেখানে ভুল হতে পারে
Common Mistakes in Examination
১। শুধু বিভক্তি দেখে কারক নির্ধারণ করা যাবে না
একই বিভক্তি ভিন্ন বাক্যে ভিন্ন কারক প্রকাশ করতে পারে।
২। ‘কে’ দেখলেই কর্মকারক নয়
‘কে’ কর্মকারক, সম্প্রদান কারক কিংবা বিশেষ প্রয়োগে অন্য সম্পর্কও প্রকাশ করতে পারে।
৩। ‘থেকে’ থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপাদান
যদি বিচ্ছেদ, উৎস, উৎপত্তি, ভয়, মুক্তি বা দূরত্ব বোঝায়, তবে অপাদান কারক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৪। ‘এ’, ‘তে’ থাকলেই অধিকরণ নয়
অর্থ অনুযায়ী একই বিভক্তি অন্য কারকেও ব্যবহৃত হতে পারে।
৫। করণ ও অপাদান গুলিয়ে ফেলা যাবে না
কী দিয়ে কাজ হচ্ছে \(\Rightarrow\) করণকারক।
কোথা থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন বা উৎপন্ন হচ্ছে \(\Rightarrow\) অপাদান কারক।
৬। অপাদান ও অধিকরণে অবস্থান বনাম বিচ্ছেদ দেখুন
‘তিলে তেল আছে’ \(\Rightarrow\) অধিকরণ।
‘তিল থেকে তেল হয়’ \(\Rightarrow\) অপাদান।
৭। সম্বন্ধ পদ কারক নয়
ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত অনেক পদ এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্পর্ক প্রকাশ করে, কিন্তু সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত না হলে তা কারক নয়; সম্বন্ধ পদ।
একই বিভক্তি ভিন্ন বাক্যে ভিন্ন কারক প্রকাশ করতে পারে।
২। ‘কে’ দেখলেই কর্মকারক নয়
‘কে’ কর্মকারক, সম্প্রদান কারক কিংবা বিশেষ প্রয়োগে অন্য সম্পর্কও প্রকাশ করতে পারে।
৩। ‘থেকে’ থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপাদান
যদি বিচ্ছেদ, উৎস, উৎপত্তি, ভয়, মুক্তি বা দূরত্ব বোঝায়, তবে অপাদান কারক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৪। ‘এ’, ‘তে’ থাকলেই অধিকরণ নয়
অর্থ অনুযায়ী একই বিভক্তি অন্য কারকেও ব্যবহৃত হতে পারে।
৫। করণ ও অপাদান গুলিয়ে ফেলা যাবে না
কী দিয়ে কাজ হচ্ছে \(\Rightarrow\) করণকারক।
কোথা থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন বা উৎপন্ন হচ্ছে \(\Rightarrow\) অপাদান কারক।
৬। অপাদান ও অধিকরণে অবস্থান বনাম বিচ্ছেদ দেখুন
‘তিলে তেল আছে’ \(\Rightarrow\) অধিকরণ।
‘তিল থেকে তেল হয়’ \(\Rightarrow\) অপাদান।
৭। সম্বন্ধ পদ কারক নয়
ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত অনেক পদ এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্পর্ক প্রকাশ করে, কিন্তু সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত না হলে তা কারক নয়; সম্বন্ধ পদ।
দ্রুত পুনরাবৃত্তি
Quick Revision
কর্তা চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কে? কারা?
কর্ম চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কী? কাকে?
করণ চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কী দিয়ে? কী উপায়ে?
সম্প্রদান চেনার মূল ধারণা \(\Rightarrow\) স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে কিছু দান করা
অপাদান চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কোথা থেকে? কী হতে?
অধিকরণ চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কোথায়? কখন? কী বিষয়ে?
যে ক্রিয়া করে \(\Rightarrow\) কর্তা
যাকে বা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া হয় \(\Rightarrow\) কর্ম
যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় \(\Rightarrow\) করণ
যাকে দান করা হয় \(\Rightarrow\) সম্প্রদান
যা থেকে বিচ্ছেদ, উৎপত্তি বা দূরত্ব বোঝায় \(\Rightarrow\) অপাদান
যে স্থান, সময় বা বিষয়ে ক্রিয়া সংঘটিত হয় \(\Rightarrow\) অধিকরণ
শব্দের সঙ্গে দৃশ্যমান বিভক্তি না থাকলে \(\Rightarrow\) শূন্য বিভক্তি
‘র’, ‘এর’ \(\Rightarrow\) ষষ্ঠী বিভক্তির প্রচলিত রূপ
‘এ’, ‘তে’ \(\Rightarrow\) সপ্তমী বিভক্তির প্রচলিত রূপ
‘থেকে’, ‘হতে’ \(\Rightarrow\) পঞ্চমী বিভক্তির প্রচলিত রূপ
‘দিয়ে’, ‘দ্বারা’, ‘কর্তৃক’ \(\Rightarrow\) তৃতীয়া বিভক্তির প্রচলিত রূপ
কর্ম চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কী? কাকে?
করণ চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কী দিয়ে? কী উপায়ে?
সম্প্রদান চেনার মূল ধারণা \(\Rightarrow\) স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে কিছু দান করা
অপাদান চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কোথা থেকে? কী হতে?
অধিকরণ চেনার প্রশ্ন \(\Rightarrow\) কোথায়? কখন? কী বিষয়ে?
যে ক্রিয়া করে \(\Rightarrow\) কর্তা
যাকে বা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া হয় \(\Rightarrow\) কর্ম
যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় \(\Rightarrow\) করণ
যাকে দান করা হয় \(\Rightarrow\) সম্প্রদান
যা থেকে বিচ্ছেদ, উৎপত্তি বা দূরত্ব বোঝায় \(\Rightarrow\) অপাদান
যে স্থান, সময় বা বিষয়ে ক্রিয়া সংঘটিত হয় \(\Rightarrow\) অধিকরণ
শব্দের সঙ্গে দৃশ্যমান বিভক্তি না থাকলে \(\Rightarrow\) শূন্য বিভক্তি
‘র’, ‘এর’ \(\Rightarrow\) ষষ্ঠী বিভক্তির প্রচলিত রূপ
‘এ’, ‘তে’ \(\Rightarrow\) সপ্তমী বিভক্তির প্রচলিত রূপ
‘থেকে’, ‘হতে’ \(\Rightarrow\) পঞ্চমী বিভক্তির প্রচলিত রূপ
‘দিয়ে’, ‘দ্বারা’, ‘কর্তৃক’ \(\Rightarrow\) তৃতীয়া বিভক্তির প্রচলিত রূপ
- ‘কারক’ \(কৃ+অক\) শব্দটির অর্থ কী?
- যা পদকে সম্পাদন করে
- যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
- যা সমাস সম্পাদন করে
- বাক্যের প্রতিটি শব্দের সঙ্গে অন্বয় সাধনের জন্য যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের কী বলা হয়?
- কারক
- বিভক্তি
- সমাস
- সম্বন্ধ পদ
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলা হয়?
- বিশেষণ পদের
- অব্যয় পদের
- নাম পদের
- ক্রিয়া বিশেষণ পদের
- ‘বুলবুলিতে ধান খেয়েছে’—বাক্যে ‘বুলবুলিতে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- করণে সপ্তমী
- অধিকরণে সপ্তমী
- কর্তৃকারকে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- ‘আমাকে যেতে হবে’—বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
- কর্মে দ্বিতীয়া
- করণে দ্বিতীয়া
- অপাদানে দ্বিতীয়া
- ‘সকলকে মরতে হবে’—বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
- কর্মকারকে দ্বিতীয়া
- অপাদানে দ্বিতীয়া
- অধিকরণে দ্বিতীয়া
- ‘ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তায় প্রথমা
- কর্তায় দ্বিতীয়া
- কর্তায় সপ্তমী
- কর্মে দ্বিতীয়া
- ‘দশে মিলে করি কাজ’—বাক্যে ‘দশে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
- সম্প্রদান কারকে সপ্তমী
- কর্তৃকারকে সপ্তমী
- কর্তৃকারকে চতুর্থী
- ‘তাকে দিয়ে কিছু হবে না’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
- কর্মে দ্বিতীয়া
- করণে দ্বিতীয়া
- অধিকরণে দ্বিতীয়া
- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
- ছাগলে কিনা খায়
- টাকায় টাকা আনে
- আরেফ বই পড়ে
- ডাক্তার ডাক
- নিচের কোনটি কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ?
- কোদালে মাটি কাটব
- জাহাজ চট্টগ্রাম ছাড়ল
- সাপে হাসি বেদে চেনে
- আমারে তুমি রক্ষা করো
- ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’—এখানে কোন কারকে কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
- অপাদানে শূন্য
- কর্মে সপ্তমী
- কর্তায় সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- ‘পরীক্ষা এলেই তার চোখে জল ঝরে’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে শূন্য
- অপাদানে সপ্তমী
- অপাদানে পঞ্চমী
- অধিকরণে ষষ্ঠী
- ‘অর্থহীনে ত্যাগ কর’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে সপ্তমী
- অধিকরণে সপ্তমী
- সম্প্রদানে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- কর্তা যা দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদন করেন তাকে কী বলে?
- করণ কারক
- কর্মকারক
- অপাদান কারক
- কর্তৃকারক
- ‘কালির দাগ দাও’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- অধিকরণে শূন্য
- অপাদানে শূন্য
- করণে ষষ্ঠী
- কর্মে দ্বিতীয়া
- ‘জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তায় সপ্তমী
- কর্মে দ্বিতীয়
- অধিকরণে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- ‘আলোয় আঁধার কাটে’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- অধিকরণে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- কর্তায় সপ্তমী
- ‘আলোয় আঁধার দূর হয়’—বাক্যে ‘আলোয়’ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
- অপাদান
- করণ
- সম্প্রদান
- অধিকরণ
- ‘ব্যায়ামে শরীর ভাল থাকে’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- করণে সপ্তমী
- কর্মে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- অধিকরণে সপ্তমী
- ‘ব্যায়ামে শরীর ভালো হয়’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মকারকে সপ্তমী
- করণ কারকে সপ্তমী
- অপাদান কারকে সপ্তমী
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী
- ‘অহংকার পতনের মূল’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে শূন্য
- করণে শূন্য
- অপাদানে শূন্য
- অধিকরণে শূন্য
- নিচের কোনটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ?
- কালির দাগ সহজে ওঠে না
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর
- দুধ থেকে দই হয়
- এ বছর খুব বন্যা হয়েছে
- ‘তিনি চোখে দেখেন না’—বাক্যে ‘চোখে’ কোন কারক?
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- সম্প্রদান কারক
- অধিকরণ কারক
- ‘অন্ধ শোকে কাতর’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়
- করণ কারকে সপ্তমী
- অপাদান কারকে সপ্তমী
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী
- ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মকারকে দ্বিতীয়া
- করণ কারকে ষষ্ঠী
- অপাদান কারকে ষষ্ঠী
- অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী
- ‘লাঠির মারে সাপটি মারা পড়ল’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
- কর্মকারকে ষষ্ঠী
- করণ কারকে ষষ্ঠী
- অপাদান কারকে ষষ্ঠী
- ‘ছাত্ররা বল খেলে’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে শূন্য
- করণে শূন্য
- অপাদানে পঞ্চমী
- সম্প্রদানে শূন্য
- ‘নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে শূন্য
- করণে শূন্য
- অপাদানে শূন্য
- সম্প্রদানে শূন্য
- ‘টাকায় কি না হয়’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- অপাদানে সপ্তমী
- কর্মে শূন্য
- করণে সপ্তমী
- কর্তায় দ্বিতীয়া
- ‘টাকায় অসাধ্য সাধন হয়’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মকারকে সপ্তমী
- করণ কারকে সপ্তমী
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী
- অপাদান কারকে সপ্তমী
- ‘তাহলে তুমি লাঠি খেলতে জান না’—এখানে ‘লাঠি’ কোন কারক ও বিভক্তি?
- কর্তায় তৃতীয়া
- কর্মে প্রথমা
- করণে তৃতীয়া
- করণে প্রথমা
- নিচের কোন বাক্যে করণ কারকে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
- ঘোড়াকে চাবুক মার
- ডাক্তার ডাক
- গাড়ি স্টেশন ছেড়েছে
- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে
- ‘আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়’—বাক্যে ‘ছলনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- করণে সপ্তমী
- অধিকরণে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- কর্মে সপ্তমী
- ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে প্রথমা
- অপাদানে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- করণে শূন্য
- ‘অন্ধজনে দেহ আলো’—এখানে ‘অন্ধজনে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে সপ্তমী
- কর্তৃকারকে শূন্য
- সম্প্রদানে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- ‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’—এখানে ‘দ??সে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- করণে সপ্তমী
- কর্মে সপ্তমী
- অধিকরণে পঞ্চমী
- সম্প্রদানে সপ্তমী
- ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- সম্প্রদানে ষষ্ঠী
- কর্মে সপ্তমী
- সম্প্রদানে সপ্তমী
- অপাদানে ষষ্ঠী
- ‘গুরুজনে ভক্তি কর’—‘গুরুজনে’ কোন কারক?
- কর্তৃকারক
- করণ কারক
- কর্মকারক
- সম্প্রদান কারক
- ‘সব ঝিনুকে মুক্তা মিলে না’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তায় দ্বিতীয়া
- অপাদানে সপ্তমী
- কর্মে দ্বিতীয়া
- অধিকরণে সপ্তমী
- ‘সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না’—এখানে ‘মেঘে’ কোন কারক?
- কর্মকারক
- অপাদান কারক
- সম্প্রদান কারক
- অধিকরণ কারক
- ‘পরাজয়ে ডরে না বীর’—নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে দ্বিতীয়া
- করণে সপ্তমী
- অপাদানে পঞ্চমী
- অপাদানে সপ্তমী
- ‘টাকায় টাকা হয়’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- অপাদানে সপ্তমী
- অধিকরণে সপ্তমী
- ‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে?’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে দ্বিতীয়া
- অপাদানে সপ্তমী
- করণে সপ্তমী
- অপাদানে পঞ্চমী
- ‘গাড়ি স্টেশন ছাড়ল’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্তায় শূন্য
- কর্মে শূন্য
- অপাদানে শূন্য
- অধিকরণে শূন্য
- ‘যেখানে বাঘের ভয় নেই’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মে ষষ্ঠী
- কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
- অপাদানে ষষ্ঠী
- অধিকরণে ষষ্ঠী
- ‘যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- অপাদানে ষষ্ঠী
- কর্মে ষষ্ঠী
- অপাদানে সপ্তমী
- করণে শূন্য
- ‘পাপে বিরত হও’—‘পাপে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- কর্মকারকে তৃতীয়া
- অপাদান কারকে শূন্য
- অপাদান কারকে সপ্তমী
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী
- ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা’—বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- করণে সপ্তমী
- অপাদানে পঞ্চমী
- অপাদানে সপ্তমী
- কর্তায় শূন্য
- অধিকরণ কারক কত প্রকার?
- দুই প্রকার
- তিন প্রকার
- চার প্রকার
- পাঁচ প্রকার