লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, সন্ধি ও শুদ্ধ বানান — Primary Teacher
লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, সন্ধি ও শুদ্ধ বানান: বাংলা, Primary Teacher পাঠ ও 45টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/1।
এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী
- লিঙ্গ
- লিঙ্গের প্রকারভেদ
- স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন
- লিঙ্গের বিশেষ নিয়ম
- সংখ্যাবাচক শব্দ
- অঙ্কবাচক সংখ্যা
- পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা
- ক্রম বা পূরণবাচক সংখ্যা
- তারিখবাচক সংখ্যা
- সন্ধি
- সন্ধির উদ্দেশ্য
- গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি বিচ্ছেদ
- শুদ্ধ-অশুদ্ধ বানান
- বাংলা বানানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
- ই-কার ও উ-কারের ব্যবহার
- শ, ষ ও স ব্যবহারের নিয়ম
- ন ও ণ ব্যবহারের নিয়ম
- গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানান
লিঙ্গ
Gender
যে বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কোনো শব্দে পুরুষ, স্ত্রী অথবা উভয় লিঙ্গের ধারণা প্রকাশ পায়, তাকে ব্যাকরণে লিঙ্গ বলা হয়।
বাংলায় ব্যক্তি বা প্রাণী বোঝাতে ব্যবহৃত অনেক শব্দে স্বাভাবিকভাবেই লিঙ্গের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন—
বাপ — পুরুষবাচক
মা — স্ত্রীবাচক
ভাই — পুরুষবাচক
বোন — স্ত্রীবাচক
ছেলে — পুরুষবাচক
মেয়ে — স্ত্রীবাচক
বাংলা ভাষায় সংস্কৃতের মতো সব বিশেষ্য বা বিশেষণের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যাকরণগত লিঙ্গ পরিবর্তন নেই। সাধারণত অর্থগত বা প্রাকৃতিক লিঙ্গই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলায় ব্যক্তি বা প্রাণী বোঝাতে ব্যবহৃত অনেক শব্দে স্বাভাবিকভাবেই লিঙ্গের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন—
বাপ — পুরুষবাচক
মা — স্ত্রীবাচক
ভাই — পুরুষবাচক
বোন — স্ত্রীবাচক
ছেলে — পুরুষবাচক
মেয়ে — স্ত্রীবাচক
বাংলা ভাষায় সংস্কৃতের মতো সব বিশেষ্য বা বিশেষণের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যাকরণগত লিঙ্গ পরিবর্তন নেই। সাধারণত অর্থগত বা প্রাকৃতিক লিঙ্গই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
লিঙ্গের প্রধান রূপ
বাংলা শব্দের লিঙ্গকে প্রধানত কয়েকভাবে বোঝা যায়।
১। পুরুষবাচক শব্দ
২। স্ত্রীবাচক শব্দ
৩। উভয়লিঙ্গ শব্দ
৪। নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
কেবল পুরুষবাচক
কিছু শব্দ শুধু পুরুষ বোঝায়।
যেমন— কবিরাজ, চাকর, কৃতদার ইত্যাদি।
কেবল স্ত্রীবাচক
কিছু শব্দ শুধু স্ত্রী অর্থ প্রকাশ করে।
যেমন— সতীন, সখী, সধবা ইত্যাদি।
উভয়লিঙ্গ
কিছু শব্দ পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কেই বোঝাতে পারে।
যেমন— জন, শিশু, সন্তান, শিল্পী, শিক্ষক ইত্যাদি।
১। পুরুষবাচক শব্দ
২। স্ত্রীবাচক শব্দ
৩। উভয়লিঙ্গ শব্দ
৪। নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
কেবল পুরুষবাচক
কিছু শব্দ শুধু পুরুষ বোঝায়।
যেমন— কবিরাজ, চাকর, কৃতদার ইত্যাদি।
কেবল স্ত্রীবাচক
কিছু শব্দ শুধু স্ত্রী অর্থ প্রকাশ করে।
যেমন— সতীন, সখী, সধবা ইত্যাদি।
উভয়লিঙ্গ
কিছু শব্দ পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কেই বোঝাতে পারে।
যেমন— জন, শিশু, সন্তান, শিল্পী, শিক্ষক ইত্যাদি।
একই শব্দের পুরুষ ও স্ত্রীবাচক পৃথক রূপ
বাংলায় কিছু শব্দের পুরুষ ও স্ত্রীবাচক রূপ সম্পূর্ণ আলাদা।
যেমন—
দেবর — ননদ
ভাই — বোন
শিক্ষক — শিক্ষয়িত্রী বা শিক্ষিকা
দাদা — দিদি
বৌদি — দাদার স্ত্রী অর্থে ব্যবহৃত
কিছু ক্ষেত্রে একই মূল শব্দের সঙ্গে ভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক রূপ গঠন করা হয়।
যেমন—
দেবর — ননদ
ভাই — বোন
শিক্ষক — শিক্ষয়িত্রী বা শিক্ষিকা
দাদা — দিদি
বৌদি — দাদার স্ত্রী অর্থে ব্যবহৃত
কিছু ক্ষেত্রে একই মূল শব্দের সঙ্গে ভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক রূপ গঠন করা হয়।
কুল-উপাধিভিত্তিক স্ত্রীবাচক শব্দ
কিছু উপাধি বা বংশপরিচয়বাচক শব্দে পৃথক স্ত্রীবাচক রূপ দেখা যায়।
যেমন—
ঘোষ — ঘোষজা
ঠাকুর — ঠাকুরানী
এ ধরনের শব্দে সামাজিক ও প্রচলিত ব্যবহারের ভিত্তিতে স্ত্রীবাচক রূপ নির্ধারিত হয়।
যেমন—
ঘোষ — ঘোষজা
ঠাকুর — ঠাকুরানী
এ ধরনের শব্দে সামাজিক ও প্রচলিত ব্যবহারের ভিত্তিতে স্ত্রীবাচক রূপ নির্ধারিত হয়।
বিশেষণ সাধারণত লিঙ্গভেদে পরিবর্তিত হয় না
বাংলায় বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের লিঙ্গ অনুসারে রূপ পরিবর্তন করে না।
যেমন—
সুন্দর বালক
সুন্দর বালিকা
এখানে ‘সুন্দর’ শব্দটি উভয় ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
একইভাবে—
মেয়েটি পাগল হয়ে গেছে
ছেলেটি পাগল হয়ে গেছে
এখানেও বিশেষণের রূপ অপরিবর্তিত।
যেমন—
সুন্দর বালক
সুন্দর বালিকা
এখানে ‘সুন্দর’ শব্দটি উভয় ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
একইভাবে—
মেয়েটি পাগল হয়ে গেছে
ছেলেটি পাগল হয়ে গেছে
এখানেও বিশেষণের রূপ অপরিবর্তিত।
স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন
Formation of Feminine Words
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রত্যয় যুক্ত করে বহু স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। বাংলা ও সংস্কৃতমূল শব্দে প্রত্যয়ের ধরন এক নয়।
প্রচলিত স্ত্রীপ্রত্যয়ের মধ্যে—
ঈ, নী, আনী, ইনী, উনী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
প্রচলিত স্ত্রীপ্রত্যয়ের মধ্যে—
ঈ, নী, আনী, ইনী, উনী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
ঈ-প্রত্যয়
কিছু পুরুষবাচক শব্দে ঈ-জাতীয় প্রত্যয় যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক রূপ তৈরি হয়।
যেমন—
বেঠা ধরনের পুরুষরূপ থেকে স্ত্রীবাচক রূপ গঠনের ক্ষেত্রে ঈ-প্রত্যয়ের ব্যবহার দেখা যায়।
যেমন—
বেঠা ধরনের পুরুষরূপ থেকে স্ত্রীবাচক রূপ গঠনের ক্ষেত্রে ঈ-প্রত্যয়ের ব্যবহার দেখা যায়।
নী-প্রত্যয়
নী-প্রত্যয় বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন—
কুমার — কুমারনী
জেলে — জেলেনী
মজুর — মজুরনী
যোগী — যোগিনী
শব্দভেদে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় মূল শব্দের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে।
যেমন—
কুমার — কুমারনী
জেলে — জেলেনী
মজুর — মজুরনী
যোগী — যোগিনী
শব্দভেদে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় মূল শব্দের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে।
আনী ও ইনী জাতীয় প্রত্যয়
কিছু পুরুষবাচক শব্দে আনী বা ইনী-জাতীয় প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ হয়।
যেমন—
ঠাকুর — ঠাকুরানী
চাকর — চাকরানী
কানুন — কানুনিনী জাতীয় গঠনে শব্দরূপের পরিবর্তন দেখা যায়।
যেমন—
ঠাকুর — ঠাকুরানী
চাকর — চাকরানী
কানুন — কানুনিনী জাতীয় গঠনে শব্দরূপের পরিবর্তন দেখা যায়।
সংস্কৃত স্ত্রীপ্রত্যয়
সংস্কৃতমূল পুরুষবাচক শব্দে আ, ঈ, আনী, নী, ইকা প্রভৃতি প্রত্যয়ের সাহায্যে স্ত্রীবাচক রূপ গঠিত হয়।
উদাহরণ—
মৃত — মৃতা
বিবাহিত — বিবাহিতা
মাননীয় — মাননীয়া
প্রথম — প্রথমা
জাতি বা শ্রেণিবাচক অর্থেও স্ত্রীপ্রত্যয়ের ব্যবহার পাওয়া যায়।
উদাহরণ—
মৃত — মৃতা
বিবাহিত — বিবাহিতা
মাননীয় — মাননীয়া
প্রথম — প্রথমা
জাতি বা শ্রেণিবাচক অর্থেও স্ত্রীপ্রত্যয়ের ব্যবহার পাওয়া যায়।
ইকা-প্রত্যয়
কিছু শব্দে ইকা জাতীয় প্রত্যয় স্ত্রীবাচকতা প্রকাশ করে।
যেমন—
বালক — বালিকা
নায়ক — নায়িকা
গায়ক — গায়িকা
সেবক — সেবিকা
তবে সব শব্দে একইভাবে প্রত্যয় যোগ করা যায় না। প্রচলিত শুদ্ধ রূপ অনুসরণ করতে হয়।
যেমন—
বালক — বালিকা
নায়ক — নায়িকা
গায়ক — গায়িকা
সেবক — সেবিকা
তবে সব শব্দে একইভাবে প্রত্যয় যোগ করা যায় না। প্রচলিত শুদ্ধ রূপ অনুসরণ করতে হয়।
লিঙ্গের বিশেষ নিয়ম
কিছু শব্দে স্ত্রীবাচকতা প্রকাশ করতে মূল শব্দের আগে বা পরে স্ত্রীবাচক নির্দেশক অন্য একটি শব্দ যুক্ত করা হয়।
যেমন—
কবি — মহিলা কবি
ডাক্তার — মহিলা ডাক্তার
শিল্পী — নারী শিল্পী
পুলিশ — মহিলা পুলিশ
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রী বোঝাতে আলাদা শব্দ জোড়া ব্যবহৃত হয়।
যেমন—
বাবা — মা
ভাই — বোন
ছেলে — মেয়ে
সাহেব — বিবি
জামাই — মেয়ে
বর — কনে
যেমন—
কবি — মহিলা কবি
ডাক্তার — মহিলা ডাক্তার
শিল্পী — নারী শিল্পী
পুলিশ — মহিলা পুলিশ
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রী বোঝাতে আলাদা শব্দ জোড়া ব্যবহৃত হয়।
যেমন—
বাবা — মা
ভাই — বোন
ছেলে — মেয়ে
সাহেব — বিবি
জামাই — মেয়ে
বর — কনে
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
যেসব স্ত্রীবাচক শব্দের কোনো স্বতন্ত্র পুরুষবাচক প্রতিরূপ প্রচলিত নেই, সেগুলোকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে ধরা হয়।
যেমন—
সতীন
সখী
সধবা
বিধবা
অর্ধাঙ্গিনী
সপত্নী
দাই
অপ্সরা
অক্ষকুমারী জাতীয় শব্দ
যেমন—
সতীন
সখী
সধবা
বিধবা
অর্ধাঙ্গিনী
সপত্নী
দাই
অপ্সরা
অক্ষকুমারী জাতীয় শব্দ
সংখ্যাবাচক শব্দ
Numeral Words
যে শব্দের মাধ্যমে সংখ্যা, গণনা, পরিমাণ, ক্রম বা তারিখের ধারণা প্রকাশ করা হয়, তাকে সংখ্যাবাচক শব্দ বলা হয়।
বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দ প্রধানত চার প্রকার—
১। অঙ্কবাচক
২। পরিমাণ বা গণনাবাচক
৩। ক্রম বা পূরণবাচক
৪। তারিখবাচক
বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দ প্রধানত চার প্রকার—
১। অঙ্কবাচক
২। পরিমাণ বা গণনাবাচক
৩। ক্রম বা পূরণবাচক
৪। তারিখবাচক
অঙ্কবাচক সংখ্যা
অঙ্ক বা সংখ্যার প্রতীক দিয়ে কোনো পরিমাণ বোঝালে তাকে অঙ্কবাচক সংখ্যা বলা হয়।
যেমন—
১, ২, ৩, ৪, ৫ ইত্যাদি।
বাংলায় সংখ্যাগণনার মূল একক ‘এক’। একের সঙ্গে পরবর্তী সংখ্যা যুক্ত হয়ে ধারাবাহিক গণনা গড়ে ওঠে।
যেমন—
১, ২, ৩, ৪, ৫ ইত্যাদি।
বাংলায় সংখ্যাগণনার মূল একক ‘এক’। একের সঙ্গে পরবর্তী সংখ্যা যুক্ত হয়ে ধারাবাহিক গণনা গড়ে ওঠে।
পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা
যে সংখ্যাবাচক শব্দ কোনো বস্তু বা ব্যক্তির মোট পরিমাণ প্রকাশ করে তাকে পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা বলা হয়।
যেমন—
এক
দুই
তিন
চার
পাঁচ
ছয়
সাত
আট
নয়
দশ
এগার
বারো
তেরো
চৌদ্দ
পনেরো
উনিশ
বিশ
একুশ ইত্যাদি।
যেমন—
এক
দুই
তিন
চার
পাঁচ
ছয়
সাত
আট
নয়
দশ
এগার
বারো
তেরো
চৌদ্দ
পনেরো
উনিশ
বিশ
একুশ ইত্যাদি।
ক্রম বা পূরণবাচক সংখ্যা
শ্রেণি, সারি বা কোনো ধারাবাহিক অবস্থানে ব্যক্তি বা বস্তুর ক্রম বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রমবাচক বা পূরণবাচক সংখ্যা বলে।
যেমন—
প্রথম
দ্বিতীয়
তৃতীয়
চতুর্থ
পঞ্চম
ষষ্ঠ
সপ্তম
অষ্টম
নবম
দশম
একাদশ
দ্বাদশ
ত্রয়োদশ
চতুর্দশ
পঞ্চদশ
উনবিংশ
বিংশ
একবিংশ ইত্যাদি।
যেমন—
প্রথম
দ্বিতীয়
তৃতীয়
চতুর্থ
পঞ্চম
ষষ্ঠ
সপ্তম
অষ্টম
নবম
দশম
একাদশ
দ্বাদশ
ত্রয়োদশ
চতুর্দশ
পঞ্চদশ
উনবিংশ
বিংশ
একবিংশ ইত্যাদি।
তারিখবাচক সংখ্যা
বাংলা মাসের তারিখ প্রকাশে ব্যবহৃত বিশেষ সংখ্যারূপকে তারিখবাচক সংখ্যা বলা হয়।
যেমন—
পহেলা
দোসরা
তেসরা
চৌঠা
পাঁচই
ছয়ই
সাতই
আটই
নয়ই
দশই
এগারই
বারই
তেরই
চৌদ্দই
পনেরই
উনিশে
বিশে
একুশে ইত্যাদি।
যেমন—
পহেলা
দোসরা
তেসরা
চৌঠা
পাঁচই
ছয়ই
সাতই
আটই
নয়ই
দশই
এগারই
বারই
তেরই
চৌদ্দই
পনেরই
উনিশে
বিশে
একুশে ইত্যাদি।
সন্ধি
Sandhi
পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলনের ফলে যখন উভয় ধ্বনি বা তাদের কোনো একটি ধ্বনিগতভাবে পরিবর্তিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে সন্ধি বলা হয়।
সন্ধিতে সাধারণত দুটি শব্দের সংযোগস্থলে ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে এবং তার ফলে একটি নতুন শব্দরূপ সৃষ্টি হয়।
যেমন—
নর + অধম → নরাধম
পিতৃ + আলয় → পিত্রালয় জাতীয় সন্ধিগত রূপ
সন্ধি নতুন প্রত্যয়জাত শব্দ তৈরির প্রক্রিয়া নয়; এটি মূলত ধ্বনির মিলনজনিত পরিবর্তন।
সন্ধিতে সাধারণত দুটি শব্দের সংযোগস্থলে ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে এবং তার ফলে একটি নতুন শব্দরূপ সৃষ্টি হয়।
যেমন—
নর + অধম → নরাধম
পিতৃ + আলয় → পিত্রালয় জাতীয় সন্ধিগত রূপ
সন্ধি নতুন প্রত্যয়জাত শব্দ তৈরির প্রক্রিয়া নয়; এটি মূলত ধ্বনির মিলনজনিত পরিবর্তন।
সন্ধির উদ্দেশ্য
সন্ধি ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য দুটি—
১। উচ্চারণকে সহজ ও স্বাভাবিক করা
২। ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা
অর্থাৎ পাশাপাশি ধ্বনির মিলনের ফলে উচ্চারণের জড়তা কমে এবং শব্দের ধ্বনিসৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
১। উচ্চারণকে সহজ ও স্বাভাবিক করা
২। ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা
অর্থাৎ পাশাপাশি ধ্বনির মিলনের ফলে উচ্চারণের জড়তা কমে এবং শব্দের ধ্বনিসৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
সন্ধির প্রকার
বাংলা সন্ধি প্রধানত দুই ভাগে আলোচনা করা হয়—
১। স্বরসন্ধি
২। ব্যঞ্জনসন্ধি
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সন্ধির সংজ্ঞার পাশাপাশি সন্ধি-বিচ্ছেদ এবং সন্ধিজাত শব্দ শনাক্তকরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১। স্বরসন্ধি
২। ব্যঞ্জনসন্ধি
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সন্ধির সংজ্ঞার পাশাপাশি সন্ধি-বিচ্ছেদ এবং সন্ধিজাত শব্দ শনাক্তকরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি বিচ্ছেদ
পরীক্ষায় বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি সন্ধি-বিচ্ছেদ নিচে পুনর্গঠিতভাবে দেওয়া হলো—
দ্যুলোক → দিব্ + লোক
মহর্ষি → মহা + ঋষি
স্বাগত → সু + আগত
গবেষণা → গো + এষণা
সিংহাসন → সিংহ + আসন
অতীত → অতি + ইত
আশাতীত → আশা + অতীত
নবোদয় → নব + উদয়
কথোপকথন → কথা + উপকথন
স্বচ্ছ → সু + অচ্ছ
সপ্তর্ষি → সপ্ত + ঋষি
শীতার্ত → শীত + ঋত জাতীয় গঠন
দৈনিক → দিন + এক জাতীয় ধ্বনিপরিবর্তন
প্রত্যেক সন্ধির ক্ষেত্রে ধ্বনির পরিবর্তন দেখে বিচ্ছেদ করতে হবে; শুধু শব্দের দৃশ্যমান অংশ ভেঙে দিলেই শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ হয় না।
দ্যুলোক → দিব্ + লোক
মহর্ষি → মহা + ঋষি
স্বাগত → সু + আগত
গবেষণা → গো + এষণা
সিংহাসন → সিংহ + আসন
অতীত → অতি + ইত
আশাতীত → আশা + অতীত
নবোদয় → নব + উদয়
কথোপকথন → কথা + উপকথন
স্বচ্ছ → সু + অচ্ছ
সপ্তর্ষি → সপ্ত + ঋষি
শীতার্ত → শীত + ঋত জাতীয় গঠন
দৈনিক → দিন + এক জাতীয় ধ্বনিপরিবর্তন
প্রত্যেক সন্ধির ক্ষেত্রে ধ্বনির পরিবর্তন দেখে বিচ্ছেদ করতে হবে; শুধু শব্দের দৃশ্যমান অংশ ভেঙে দিলেই শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ হয় না।
প্রত্যহ → প্রতি + অহ
অত্যন্ত → অতি + অন্ত
ইত্যাদি → ইতি + আদি
উন্নত → উদ্ + নত
উন্নতি → উদ্ + নীতি
উচ্ছ্বাস → উৎ + শ্বাস
দোলনা → দুল + না
নমস্কার → নমঃ + কার
পুরস্কার → পুরঃ + কার
অত্যন্ত → অতি + অন্ত
ইত্যাদি → ইতি + আদি
উন্নত → উদ্ + নত
উন্নতি → উদ্ + নীতি
উচ্ছ্বাস → উৎ + শ্বাস
দোলনা → দুল + না
নমস্কার → নমঃ + কার
পুরস্কার → পুরঃ + কার
উৎপল → উৎ + পল
সংবাদ → সম্ + বাদ
সংবিধান → সম্ + বিধান
সংসার → সম্ + সার
বিচ্ছেদ → বি + ছেদ
জগদীশ → জগৎ + ঈশ
দিগন্ত → দিক্ + অন্ত
পরস্পর → পর + পর
সংবাদ → সম্ + বাদ
সংবিধান → সম্ + বিধান
সংসার → সম্ + সার
বিচ্ছেদ → বি + ছেদ
জগদীশ → জগৎ + ঈশ
দিগন্ত → দিক্ + অন্ত
পরস্পর → পর + পর
আরও পরীক্ষোপযোগী সন্ধি
আশ্রয় → আ + শ্রয় জাতীয় গঠন
উদ্যোগ → উৎ + যোগ
উদ্ঘাটন → উৎ + ঘাটন
সংগীত → সম্ + গীত
সংলাপ → সম্ + লাপ
সংহার → সম্ + হার
উদ্যোগ → উৎ + যোগ
উদ্ঘাটন → উৎ + ঘাটন
সংগীত → সম্ + গীত
সংলাপ → সম্ + লাপ
সংহার → সম্ + হার
নিরাময় → নিঃ + আময় জাতীয় রূপ
নিরাশা → নিঃ + আশা
নিরীহ → নিঃ + ঈহ জাতীয় ধ্বনিপরিবর্তন
দুর্নীতি → দুঃ + নীতি
দুর্যোগ → দুঃ + যোগ
নিরাশা → নিঃ + আশা
নিরীহ → নিঃ + ঈহ জাতীয় ধ্বনিপরিবর্তন
দুর্নীতি → দুঃ + নীতি
দুর্যোগ → দুঃ + যোগ
শুদ্ধ-অশুদ্ধ বানান
Correct Bengali Spelling
বাংলা বানানে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার, ণত্ব-ষত্ব, রেফ, বিসর্গ, যুক্তবর্ণ ও বিদেশি শব্দের বানান সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানতে হয়।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শুদ্ধ বানান শনাক্তকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শুধু শব্দ মুখস্থ না করে বানানের নিয়ম বুঝে শেখা অধিক কার্যকর।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শুদ্ধ বানান শনাক্তকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শুধু শব্দ মুখস্থ না করে বানানের নিয়ম বুঝে শেখা অধিক কার্যকর।
বাংলা বানানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
বাংলা বানানে কয়েকটি বহুল পরীক্ষিত নিয়ম হলো—
১। কিছু উপসর্গযুক্ত শব্দে উ-কার বা ঊ-কার নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যবহৃত হয়।
২। পূর্ণ ও পুনঃ জাতীয় শব্দের বানান এক নয়।
৩। জীবী জাতীয় শব্দের শেষে সাধারণত দীর্ঘ ঈ-কার দেখা যায়।
৪। আলি-যুক্ত অনেক বিশেষণবাচক শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হয়।
৫। আবলি-জাতীয় প্রত্যয়ে ই-কারের ব্যবহার হয়।
৬। অঞ্জলি-যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হয়।
৭। ষত্ব ও ণত্ব বিধান অনুসারে ষ এবং ণ ব্যবহৃত হয়।
৮। বিদেশি শব্দে সাধারণত বাংলা ণত্ব-ষত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয় না।
৯। দেশ, জাতি ও ভাষার নামের ক্ষেত্রে ই-কার বা ঈ-কার নির্দিষ্ট প্রচলিত রূপে ব্যবহার করতে হয়।
১০। স্ত্রীবাচক শব্দের প্রত্যয়গত বানান বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হয়।
১। কিছু উপসর্গযুক্ত শব্দে উ-কার বা ঊ-কার নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যবহৃত হয়।
২। পূর্ণ ও পুনঃ জাতীয় শব্দের বানান এক নয়।
৩। জীবী জাতীয় শব্দের শেষে সাধারণত দীর্ঘ ঈ-কার দেখা যায়।
৪। আলি-যুক্ত অনেক বিশেষণবাচক শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হয়।
৫। আবলি-জাতীয় প্রত্যয়ে ই-কারের ব্যবহার হয়।
৬। অঞ্জলি-যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হয়।
৭। ষত্ব ও ণত্ব বিধান অনুসারে ষ এবং ণ ব্যবহৃত হয়।
৮। বিদেশি শব্দে সাধারণত বাংলা ণত্ব-ষত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয় না।
৯। দেশ, জাতি ও ভাষার নামের ক্ষেত্রে ই-কার বা ঈ-কার নির্দিষ্ট প্রচলিত রূপে ব্যবহার করতে হয়।
১০। স্ত্রীবাচক শব্দের প্রত্যয়গত বানান বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হয়।
দুর্ ও দূর-এর ব্যবহার
বাংলায় ‘দুর্’ উপসর্গটি সাধারণত কষ্ট, মন্দ, বিপরীত বা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যেমন—
দুরবস্থা
দুর্বল
দুর্নীতি
দুর্যোগ
দুর্নাম
অন্যদিকে ‘দূর’ শব্দটি দূরত্বের অর্থ প্রকাশ করে।
যেমন—
দূরবর্তী
দূরদৃষ্টি
দূরদেশ
দূরত্ব
তাই দুর্ এবং দূর-এর অর্থ ও বানান এক নয়।
যেমন—
দুরবস্থা
দুর্বল
দুর্নীতি
দুর্যোগ
দুর্নাম
অন্যদিকে ‘দূর’ শব্দটি দূরত্বের অর্থ প্রকাশ করে।
যেমন—
দূরবর্তী
দূরদৃষ্টি
দূরদেশ
দূরত্ব
তাই দুর্ এবং দূর-এর অর্থ ও বানান এক নয়।
পূর্ণ ও পুনঃ-এর ব্যবহার
‘পূর্ণ’ শব্দ দ্বারা সম্পূর্ণ বা পরিপূর্ণ অর্থ বোঝানো হয়।
যেমন—
পূর্ণিমা
পূর্ণমান
পূর্ণতা
‘পুনঃ’ বা পুনর্ জাতীয় অংশ দ্বারা আবার বা দ্বিতীয়বার অর্থ বোঝানো হয়।
যেমন—
পুনর্গঠন
পুনর্মিলন
পুনর্নির্মাণ
পুনর্বিবেচনা
পুনরায়
যেমন—
পূর্ণিমা
পূর্ণমান
পূর্ণতা
‘পুনঃ’ বা পুনর্ জাতীয় অংশ দ্বারা আবার বা দ্বিতীয়বার অর্থ বোঝানো হয়।
যেমন—
পুনর্গঠন
পুনর্মিলন
পুনর্নির্মাণ
পুনর্বিবেচনা
পুনরায়
জীবী-যুক্ত শব্দ
জীবী অর্থে ব্যবহৃত শব্দের শেষে সাধারণত দীর্ঘ ঈ-কার দেখা যায়।
যেমন—
চাকরিজীবী
পেশাজীবী
শ্রমজীবী
কৃষিজীবী
আইনজীবী
বুদ্ধিজীবী
যেমন—
চাকরিজীবী
পেশাজীবী
শ্রমজীবী
কৃষিজীবী
আইনজীবী
বুদ্ধিজীবী
ই-কার ও ঈ-কারের ব্যবহার
বাংলা বানানে হ্রস্ব ই ও দীর্ঘ ঈ ব্যবহারের পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। কোনো শব্দ সংস্কৃতমূল হলেও বাংলা প্রচলিত বানানে তার রূপ পরিবর্তিত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ স্ত্রীবাচক, জাতিবাচক, পেশাবাচক বা প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই বা ঈ নির্দিষ্ট প্রচলিত রীতিতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন—
পিপীলিকা
তিথিকা জাতীয় শব্দে ই-কারের ব্যবহার লক্ষ্য করতে হয়।
পরীক্ষায় বানান নির্বাচন করার সময় শব্দের উচ্চারণ দেখে অনুমান না করে প্রমিত বানান স্মরণ করা উত্তম।
উদাহরণস্বরূপ স্ত্রীবাচক, জাতিবাচক, পেশাবাচক বা প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই বা ঈ নির্দিষ্ট প্রচলিত রীতিতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন—
পিপীলিকা
তিথিকা জাতীয় শব্দে ই-কারের ব্যবহার লক্ষ্য করতে হয়।
পরীক্ষায় বানান নির্বাচন করার সময় শব্দের উচ্চারণ দেখে অনুমান না করে প্রমিত বানান স্মরণ করা উত্তম।
উ-কার ও ঊ-কারের ব্যবহার
কিছু শব্দে হ্রস্ব উ এবং কিছু শব্দে দীর্ঘ ঊ ব্যবহৃত হয়। উচ্চারণ কাছাকাছি হলেও বানানভেদে শব্দ অশুদ্ধ হতে পারে।
যেমন—
মুহূর্ত
মুমূর্ষু
দূর
দূরত্ব
দূরবীক্ষণ
এ ধরনের শব্দে উচ্চারণের ওপর নির্ভর না করে অভিধানসম্মত বানান ব্যবহার করা উচিত।
যেমন—
মুহূর্ত
মুমূর্ষু
দূর
দূরত্ব
দূরবীক্ষণ
এ ধরনের শব্দে উচ্চারণের ওপর নির্ভর না করে অভিধানসম্মত বানান ব্যবহার করা উচিত।
শ, ষ ও স ব্যবহারের নিয়ম
বাংলা বানানে শ, ষ ও স ব্যবহারে সংস্কৃতজাত শব্দের ব্যুৎপত্তিগত নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ণত্ব ও ষত্ব বিধান অনুযায়ী কিছু ধ্বনির আগে বা পরে ‘স’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ষ’ হতে পারে।
তবে বিদেশি শব্দে সাধারণত সংস্কৃতের ষত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয় না। তাই বিদেশি শব্দের প্রচলিত বাংলা বানান অনুসরণ করতে হবে।
যেমন বিদেশি উৎসের শব্দে—
স্টেশন
স্টুডিও
কলেজ
ব্যারিস্টার
হাসপাতালজাত শব্দে প্রচলিত বানানই গ্রহণযোগ্য।
বিশেষ করে ণত্ব ও ষত্ব বিধান অনুযায়ী কিছু ধ্বনির আগে বা পরে ‘স’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ষ’ হতে পারে।
তবে বিদেশি শব্দে সাধারণত সংস্কৃতের ষত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয় না। তাই বিদেশি শব্দের প্রচলিত বাংলা বানান অনুসরণ করতে হবে।
যেমন বিদেশি উৎসের শব্দে—
স্টেশন
স্টুডিও
কলেজ
ব্যারিস্টার
হাসপাতালজাত শব্দে প্রচলিত বানানই গ্রহণযোগ্য।
ন ও ণ ব্যবহারের নিয়ম
সংস্কৃতজাত শব্দে ণত্ব বিধান অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ণ’ হয়।
বিশেষ করে র, ঋ, ষ প্রভৃতি ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ন ধ্বনির পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।
বাংলা তৎসম শব্দে ণত্ব বিধান গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিদেশি ও অনেক দেশি শব্দে সাধারণত এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয় না।
বিশেষ করে র, ঋ, ষ প্রভৃতি ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ন ধ্বনির পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।
বাংলা তৎসম শব্দে ণত্ব বিধান গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিদেশি ও অনেক দেশি শব্দে সাধারণত এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয় না।
রেফের পরে দ্বিত্ব
বাংলা বানানে রেফের পরে ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। বর্তমান প্রমিত বানানে অনেক পুরোনো দ্বিত্ববর্ণ সরলীকৃত হয়েছে।
তাই শব্দের আধুনিক প্রমিত রূপই গ্রহণ করা উচিত।
তাই শব্দের আধুনিক প্রমিত রূপই গ্রহণ করা উচিত।
দেশ, জাতি ও ভাষার নামের বানান
দেশ, জাতি ও ভাষার নাম লেখার ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রমিত বানান অনুসরণ করতে হয়।
উদাহরণ—
চীন
জাপান
বাংলাদেশ
বাঙালি
পাকিস্তানি
তুর্কি
একই মূল শব্দ জাতি বা ভাষা বোঝাতে ভিন্ন প্রত্যয় গ্রহণ করতে পারে।
উদাহরণ—
চীন
জাপান
বাংলাদেশ
বাঙালি
পাকিস্তানি
তুর্কি
একই মূল শব্দ জাতি বা ভাষা বোঝাতে ভিন্ন প্রত্যয় গ্রহণ করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানান
পরীক্ষা
নিরীক্ষা
নিশীথিনী
নীহারিকা
উদীচী
প্রতীতি
তিতিক্ষা
মনীষা
শারীরিক
বীজীবিকা জাতীয় রূপে সতর্কতা
পুঙ্খানুপুঙ্খ
পুরোহিত
সৌরভ
পরমায়ু
ভুবন
প্রাঙ্গণ
অঙ্গ
যক্ষ্মা
বিদেশ
নিদান
নিরীক্ষা
নিশীথিনী
নীহারিকা
উদীচী
প্রতীতি
তিতিক্ষা
মনীষা
শারীরিক
বীজীবিকা জাতীয় রূপে সতর্কতা
পুঙ্খানুপুঙ্খ
পুরোহিত
সৌরভ
পরমায়ু
ভুবন
প্রাঙ্গণ
অঙ্গ
যক্ষ্মা
বিদেশ
নিদান
মুমূর্ষু
মুহূর্ত
মধ্যাহ্ন
মনোযোগ
মনস্তাপ
মৃন্ময়
মৌনতা
রাজকীয়
ক্ষমা
নকশাকার
শশীভূষণ
শাশ্বত
শ্মশান
নির্দেশ
প্রজ্বলন
নীতিজ্ঞান
সামাজিক
সদ্যোজাত
সম্বর্ধনা
সম্ভাবনা
মুহূর্ত
মধ্যাহ্ন
মনোযোগ
মনস্তাপ
মৃন্ময়
মৌনতা
রাজকীয়
ক্ষমা
নকশাকার
শশীভূষণ
শাশ্বত
শ্মশান
নির্দেশ
প্রজ্বলন
নীতিজ্ঞান
সামাজিক
সদ্যোজাত
সম্বর্ধনা
সম্ভাবনা
সম্মতি
সম্ভব
স্বত্ব
স্বাস্থ্য
তত্ত্বাবধায়ক
প্রতিযোগিতা
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রতিযোগী
প্রত্যাশা
মেহমান
এতদ্দ্বারা
মুহূর্ত
সরকারি
বেসরকারি
সম্ভব
স্বত্ব
স্বাস্থ্য
তত্ত্বাবধায়ক
প্রতিযোগিতা
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রতিযোগী
প্রত্যাশা
মেহমান
এতদ্দ্বারা
মুহূর্ত
সরকারি
বেসরকারি
আমিষ
দেহাশীষ জাতীয় বানানে সতর্কতা
রানি
শ্রেণি
বিদেশি
বিধান
বিশ্লেষণ
ভুল
দারিদ্র্য
সৌন্দর্য
দেনা
দৌরাত্ম্য
ধ্বনি
ধারণ
নিরাপদ
নিরীহ
দেহাশীষ জাতীয় বানানে সতর্কতা
রানি
শ্রেণি
বিদেশি
বিধান
বিশ্লেষণ
ভুল
দারিদ্র্য
সৌন্দর্য
দেনা
দৌরাত্ম্য
ধ্বনি
ধারণ
নিরাপদ
নিরীহ
শুদ্ধ বানান চেনার কৌশল
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বানান শনাক্ত করার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়—
১। ই এবং ঈ কোনটি প্রমিত তা দেখুন।
২। উ এবং ঊ ব্যবহারের পার্থক্য দেখুন।
৩। ন ও ণ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।
৪। শ, ষ ও স-এর অবস্থান যাচাই করুন।
৫। রেফের পরে অপ্রয়োজনীয় দ্বিত্ব আছে কি না দেখুন।
৬। বিসর্গযুক্ত শব্দের সঠিক রূপ স্মরণ করুন।
৭। বিদেশি শব্দে সংস্কৃত বানানের নিয়ম জোর করে প্রয়োগ করবেন না।
৮। প্রত্যয় যুক্ত হলে মূল শব্দের পরিবর্তন হয়েছে কি না লক্ষ্য করুন।
৯। উচ্চারণের ওপর নির্ভর করে বানান অনুমান না করে অভিধানসম্মত রূপ অনুসরণ করুন।
১। ই এবং ঈ কোনটি প্রমিত তা দেখুন।
২। উ এবং ঊ ব্যবহারের পার্থক্য দেখুন।
৩। ন ও ণ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।
৪। শ, ষ ও স-এর অবস্থান যাচাই করুন।
৫। রেফের পরে অপ্রয়োজনীয় দ্বিত্ব আছে কি না দেখুন।
৬। বিসর্গযুক্ত শব্দের সঠিক রূপ স্মরণ করুন।
৭। বিদেশি শব্দে সংস্কৃত বানানের নিয়ম জোর করে প্রয়োগ করবেন না।
৮। প্রত্যয় যুক্ত হলে মূল শব্দের পরিবর্তন হয়েছে কি না লক্ষ্য করুন।
৯। উচ্চারণের ওপর নির্ভর করে বানান অনুমান না করে অভিধানসম্মত রূপ অনুসরণ করুন।
পরীক্ষোপযোগী সংক্ষিপ্ত পুনরালোচনা
লিঙ্গ ও সংখ্যা
পুরুষবাচক — পুরুষ বোঝায়
স্ত্রীবাচক — স্ত্রী বোঝায়
উভয়লিঙ্গ — উভয়কে বোঝাতে পারে
অঙ্কবাচক — সংখ্যার প্রতীক
গণনাবাচক — মোট পরিমাণ
ক্রমবাচক — অবস্থানের ক্রম
তারিখবাচক — মাসের তারিখ
পুরুষবাচক — পুরুষ বোঝায়
স্ত্রীবাচক — স্ত্রী বোঝায়
উভয়লিঙ্গ — উভয়কে বোঝাতে পারে
অঙ্কবাচক — সংখ্যার প্রতীক
গণনাবাচক — মোট পরিমাণ
ক্রমবাচক — অবস্থানের ক্রম
তারিখবাচক — মাসের তারিখ
সন্ধি ও বানান
সন্ধি — পাশাপাশি ধ্বনির মিলন
সন্ধির উদ্দেশ্য — সহজ উচ্চারণ ও ধ্বনিমাধুর্য
স্বচ্ছ বানান — অভিধানসম্মত রূপ
ণত্ব — ন ও ণ ব্যবহারের নিয়ম
ষত্ব — স ও ষ ব্যবহারের নিয়ম
বিদেশি শব্দ — প্রচলিত বাংলা রূপ গুরুত্বপূর্ণ
সন্ধি — পাশাপাশি ধ্বনির মিলন
সন্ধির উদ্দেশ্য — সহজ উচ্চারণ ও ধ্বনিমাধুর্য
স্বচ্ছ বানান — অভিধানসম্মত রূপ
ণত্ব — ন ও ণ ব্যবহারের নিয়ম
ষত্ব — স ও ষ ব্যবহারের নিয়ম
বিদেশি শব্দ — প্রচলিত বাংলা রূপ গুরুত্বপূর্ণ
- পরস্পর কাছাকাছি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে কী বলে?
- সন্ধি
- সমাস
- কারক
- প্রত্যয়
- সন্ধির প্রধান সুবিধা কী?
- উচ্চারণের সুবিধা
- লেখার সুবিধা
- শোনার সুবিধা
- পড়ার সুবিধা
- সন্ধির উদ্দেশ্য কোনটি?
- শব্দের মিলন
- ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি
- শব্দগত মাধুর্য সৃষ্টি
- বর্ণের মিল
- কোন বাংলা পদের সঙ্গে সাধারণত সন্ধি হয় না?
- বিশেষ্য
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- অব্যয়
- ‘পর্যালোচনা’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- পর্য+আলোচনা
- পরি+আলোচনা
- পর্যা+আলোচনা
- পর্য+আলোচনা
- ‘স্বাগত’-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কী?
- সু+আগত
- স্বা+গত
- স+গত
- সা+আগত
- ‘পরীক্ষা’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কী হবে?
- পরী+ঈক্ষা
- পরি+ঈক্ষা
- পরী+ইক্ষা
- পরি+ইক্ষা
- ‘উল্লাস’-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- উৎ+লাস
- উদ+লাস
- উল+লাস
- উঃ+লাস
- ‘উন্নত’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- উৎ+নীত
- উৎ+নত
- উন্নী+ত
- উন+নত
- ‘দ্যুলোক’ শব্দের যথার্থ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- দ্যু+লোক
- দিব+লোক
- দি+লোক
- দিঃ+লোক
- ‘দোলনা’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
- দুল্+না
- দোল+না
- দোল+অনা
- দ্বিরুক্ত
- ‘নিরাময়’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- নিরা+ময়
- নির+ময়
- নিঃ+আময়
- নিঃ+ময়
- ‘সংবাদ’-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কী?
- সং+বাদ
- সং+আবাদ
- সম্+বাদ
- সুম্+বাদ
- ‘অলংকার’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কী?
- অলম্+কার
- অলং+কার
- অল+কার
- অলঙ্ক+কার
- ‘দুর্নীতি’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- দুঃ+নীতি
- দুর+নীতি
- দুর্ন+নীতি
- দুঃন+নীতি
- ‘সাহচর্য’ শব্দের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
- সাহ+চর+য
- সহচর+য-ফলা
- সহচর+য
- সাহচর+য
- ‘মৌচাক’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ হবে—
- মৌড়+এক
- মৌড়ি+এক
- মধু+চাক
- মৌচ+এক
- ‘রবীন্দ্র’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কী?
- রবি+ইন্দ্র
- রবি+ঈন্দ্র
- রবী+ইন্দ্র
- রবী+ঈন্দ্র
- ‘প্রত্যাশা’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
- প্রতি+আশা
- প্রত্যঃ+আশা
- প্রত্য+আশা
- প্রতি+শা
- ‘অহরহ’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কী?
- অহঃ+হর
- অহ+হর
- অহ+অহ
- অহঃ+অহ
- ‘উৎকর্ষতা’ কী কারণে অশুদ্ধ?
- সন্ধিজনিত
- প্রত্যয়জনিত
- উপসর্গজনিত
- বিভক্তিজনিত
- শুদ্ধ বানানের শব্দগুচ্ছ কোনটি?
- ভবিষ্যৎ, ভৌগলিক, ক্ষমা
- স্বাস্থ্যশাসন, অভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক
- যশোলাভ, সদ্যোজাত, সম্পৃক্ত
- ঐক্যতান, কেবলমাত্র, উপরোক্ত
- কোন বানানটি শুদ্ধ?
- সুচিস্মিতা
- সুচিস্মিতা
- সুচীস্মিতা
- শুচিস্মিতা
- শুদ্ধ বানান কোনটি?
- মুমুর্ষ
- মুমূর্ষু
- মুমূর্ষ
- মুমুর্ষু
- শুদ্ধ বানানটি নির্দেশ কর।
- মুহূর্মুহূ
- মুহুমুহু
- মূহুর্মুহু
- মুহুর্মুহু
- কোন বানানটি শুদ্ধ?
- বিভীষিকা
- বিভীষিকা
- বীভিষিকা
- বীভীষিকা
- কোন বাংলা বানানটি শুদ্ধ?
- সৌজন্যতা
- সৌজন্যতা
- সৌজন
- সৌজন্য
- নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লিখিত?
- শিরচ্ছেদ
- শিরচ্ছেদ
- শিরোচ্ছেদ
- শিরোচ্ছেদ
- শুদ্ধ বানান কোনটি?
- সমীচিন
- সমীচীন
- সমিচিন
- সমিচীন
- নির্ভুল বানান কোনটি?
- স্বায়ত্ত
- স্বায়ত্ব
- স্বায়ত্ব
- স্বায়ত্ত
- কোন বানানটি শুদ্ধ?
- সংস্রষ্টক
- সংশোধক
- সংসৃষ্টক
- শংসৃষ্টক
- কোনটি শুদ্ধ বানান?
- সন্ন্যাসী
- সন্যাসী
- সনাসী
- সন্নাসী
- কোন বানানটি শুদ্ধ?
- সান্ত্বনা
- শান্তনা
- সান্তনা
- শান্ত্বনা
- কোন বানানটি শুদ্ধ?
- বুদ্ধিজীবি
- বুদ্ধিজীবী
- বুদ্ধিজিবি
- বুদ্ধিজীবী
- কোন বানানটি শুদ্ধ?
- নিরীহ
- নিরীহ
- নীরিহ
- নীরীহ
- নিচের কোন বানানটি বাংলায় শুদ্ধ রূপ?
- সংস্রষ্টক
- শংস্রষ্টক
- শংসৃষ্টক
- সংসৃষ্টক
- নিচের শব্দসমূহের মধ্যে অশুদ্ধ শব্দটি চিহ্নিত কর।
- বীণাপাণি
- মূঢ়
- চরিত্র
- ঐতিহ্য
- নিচের শব্দসমূহের মধ্যে অশুদ্ধ শব্দটি চিহ্নিত কর।
- বীণাপাণি
- মূঢ়
- চরিত্র
- ঐতিহ্য
- কোন বানানটি শুদ্ধ তা নির্দেশ কর।
- গুঞ্জনা
- গুঞ্জনা
- গুঞ্জনা
- গুঞ্জনা
- বিশুদ্ধ বানান কোনটি?
- আয়ত্ত
- আয়ত্ব
- আয়ত্ত্ব
- আয়ত্তাধীন
- নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
- শ্রদ্ধাঞ্জলি
- শ্রদ্ধাঞ্জলি
- শ্রদ্ধাঞ্জলী
- শ্রদ্ধাঞ্জলী
- কোনটি শুদ্ধ?
- সারথী
- সারথি
- সাড়থী
- সাড়থি
- কোন শব্দের বানান অশুদ্ধ?
- বৈশিষ্ট্য
- সম্প্রদায়
- ঘনিষ্ঠ
- দৈর্ঘ্য
- কোন শব্দের বানান শুদ্ধ?
- শাশুড়ি
- শাশুড়ী
- সাশুড়ি
- শাশড়ি
- কোন বানানটি অশুদ্ধ?
- পিপীলিকা
- মরীচিকা
- শারীরিক
- উন্মীলিত