সাধারণ বিজ্ঞান — Primary Teacher

সাধারণ বিজ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান, Primary Teacher পাঠ ও 450টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/9।

এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী
পদার্থ ও সাধারণ বিজ্ঞানের মৌলিক তথ্য
Basic Scientific Facts
প্রকৃতিতে বিভিন্ন মৌল ও যৌগের ভৌত ধর্ম একে অপরের থেকে ভিন্ন। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে অধিকাংশ ধাতু কঠিন হলেও পারদ তরল অবস্থায় থাকে। অন্যদিকে ব্রোমিন হলো স্বাভাবিক অবস্থায় তরল অধাতু।

হাইড্রোজেন অত্যন্ত হালকা গ্যাস। পর্যায় সারণির মৌলগুলোর মধ্যে এর পারমাণবিক ভর সর্বনিম্ন। হাইড্রোজেন দাহ্য হলেও নিজে দহনকে সহায়তা করে না।

পারদ একটি ধাতু হলেও কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে। এ কারণে অতীতে থার্মোমিটারসহ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্রে পারদের ব্যবহার ব্যাপক ছিল।

পটাশিয়াম অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু। পানি ও বায়ুর সঙ্গে এটি দ্রুত বিক্রিয়া করতে পারে। এ ধরনের সক্রিয় ধাতুকে সাধারণত খোলা অবস্থায় রাখা যায় না।

প্লাটিনাম একটি মূল্যবান ধাতু। রাসায়নিকভাবে তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় হওয়ায় এটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, অলংকার ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

পৃথিবীর ভূত্বকে বিভিন্ন মৌল পাওয়া গেলেও সব মৌলের পরিমাণ সমান নয়। সিলিকন ভূত্বকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান এবং বিভিন্ন সিলিকেট খনিজের প্রধান অংশ।

বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। জীবদেহের প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড গঠনে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ জীব বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না।
খাদ্য, পুষ্টি ও খাদ্য উপাদান
Food and Nutrition
জীবদেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, শক্তি উৎপাদন এবং স্বাভাবিক দেহক্রিয়া পরিচালনার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। খাদ্য থেকে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি পাওয়া যায়।

কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান শক্তিদায়ক খাদ্য উপাদান। ভাত, রুটি, আলু ও বিভিন্ন শস্যে এর পরিমাণ বেশি থাকে।

প্রোটিন দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ডাল প্রোটিনের উল্লেখযোগ্য উৎস।

স্নেহ বা ফ্যাট শক্তির ঘনীভূত উৎস। এটি দেহে শক্তি সঞ্চয় করে এবং বিভিন্ন অঙ্গকে সুরক্ষা দেয়।

মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হিসেবে খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

সুষম খাদ্যে প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট উপাদান বেশি থাকলেই খাদ্য সুষম হয় না।
ভিটামিন ও অভাবজনিত রোগ
Vitamins and Deficiency Diseases
ভিটামিন অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিনের অভাবে নির্দিষ্ট ধরনের রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ভিটামিন A
ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেহের বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ভিটামিন B1
ভিটামিন B1-এর ঘাটতির সঙ্গে বেরিবেরি রোগের সম্পর্ক রয়েছে। হাত-পায়ের দুর্বলতা, পেশির সমস্যা ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন B2
ভিটামিন B2-এর অভাবে মুখ, জিহ্বা ও ঠোঁটের কোণে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।

ভিটামিন B12
ভিটামিন B12 রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন C
ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ দেখা দিতে পারে। মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁতের গোড়া থেকে রক্তপাত এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এর লক্ষণগুলোর মধ্যে পড়ে।

ভিটামিন D
শিশুদের ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেট রোগ হতে পারে। এতে হাড় দুর্বল ও বাঁকা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মানবদেহে ভিটামিন D তৈরির প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়।

ভিটামিন E
ভিটামিন E দেহের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং প্রজননস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

ভিটামিন K
রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভিটামিন K প্রয়োজনীয়। এর অভাবে রক্তক্ষরণ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন B-সমূহ ও ভিটামিন C উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ভিটামিন A, D, E ও K চর্বিতে দ্রবণীয়।
উদ্ভিদ ও সালোকসংশ্লেষণ
Plant Physiology and Photosynthesis
সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলা হয়।

সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থান হলো উদ্ভিদের সবুজ পাতা। পাতার কোষে থাকা ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তি শোষণ করে।

সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। উৎপন্ন শর্করায় সূর্যের শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত থাকে।

পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে প্রধানত গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।

উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের সাহায্যে পানি ও দ্রবীভূত খনিজ লবণ গ্রহণ করে। মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

উদ্ভিদদেহে পানি বাষ্প আকারে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলা হয়। প্রস্বেদন উদ্ভিদের পানির ভারসাম্য ও খনিজ পরিবহনে সহায়তা করে।

মূলরোমের মাধ্যমে মাটি থেকে পানি প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিস্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থলজ উদ্ভিদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে জলজ উদ্ভিদের তুলনায় সালোকসংশ্লেষণের উপযোগী আলো সহজলভ্য হয়।
রূপান্তরিত পাতা, মূল ও কাণ্ড
Modified Leaves, Roots and Stems
উদ্ভিদের পাতা, মূল বা কাণ্ড অনেক সময় স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য গঠনগতভাবে পরিবর্তিত হয়। এ ধরনের অঙ্গকে রূপান্তরিত অঙ্গ বলা হয়।

পাতা থেকে বংশবিস্তার
পাথরকুচির পাতার কিনারায় নতুন চারা সৃষ্টি হয়। ফলে এর পাতা অঙ্গজ বংশবিস্তারে অংশ নেয়।

পাতার কাজ করা রূপান্তরিত কাণ্ড
ফণীমনসার মতো উদ্ভিদে পানি সংরক্ষণ ও বাষ্পীভবন কমানোর জন্য প্রকৃত পাতা ক্ষুদ্র বা কাঁটায় রূপান্তরিত হতে পারে। সবুজ কাণ্ড তখন সালোকসংশ্লেষণের কাজ করে।

খাদ্য সঞ্চয়কারী রূপান্তরিত মূল
মিষ্টি আলুর স্ফীত অংশ মূলের পরিবর্তিত রূপ। এতে খাদ্য সঞ্চিত থাকে।

ভূগর্ভস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড
আলু একটি রূপান্তরিত ভূগর্ভস্থ কাণ্ড। এর গায়ে থাকা চোখ বা কুঁড়ি থেকে নতুন গাছ জন্মাতে পারে।

আদা, হলুদ ও কচুর মতো অনেক উদ্ভিদেও ভূগর্ভস্থ কাণ্ড খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গজ বংশবিস্তারে সহায়তা করে।
বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা
Important Branches of Science
নিউরোলজি — স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়ুসম্পর্কিত বিদ্যা।

ফাইকোলজি — শৈবালবিষয়ক বিদ্যা।

মাইকোলজি — ছত্রাকবিষয়ক বিদ্যা।

জিওলজি — পৃথিবীর গঠন, শিলা ও ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের বিদ্যা।

হাইড্রোলজি — পানি, তার বণ্টন ও প্রবাহসম্পর্কিত বিদ্যা।

টক্সিকোলজি — বিষ ও বিষক্রিয়াবিষয়ক বিদ্যা।

ইকোলজি — জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিদ্যা।

অর্নিথোলজি — পাখিবিষয়ক বিদ্যা।

পোমোলজি — ফল ও ফলচাষবিষয়ক বিদ্যা।
হেলমিনথোলজি — পরজীবী কৃমিবিষয়ক বিদ্যা।

মাইক্রোবায়োলজি — অণুজীববিষয়ক বিদ্যা।

এমব্রায়োলজি — ভ্রূণের সৃষ্টি ও বিকাশবিষয়ক বিদ্যা।

হেমাটোলজি — রক্ত ও রক্তের রোগবিষয়ক বিদ্যা।

এপিডেমিওলজি — রোগের বিস্তার ও জনসমষ্টিতে রোগের ধরনবিষয়ক বিদ্যা।

ভাইরোলজি — ভাইরাসবিষয়ক বিদ্যা।

অ্যানথ্রোপোলজি — মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ ও বৈশিষ্ট্যবিষয়ক বিদ্যা।

এন্টোমোলজি — কীটপতঙ্গবিষয়ক বিদ্যা।

অস্টিওলজি — অস্থিবিষয়ক বিদ্যা।
বিভিন্ন ধরনের চাষ ও পালনবিদ্যা
Important Culture and Farming Terms
এপিকালচার বা Apiculture — মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদনবিষয়ক চাষপদ্ধতি।

এভিকালচার বা Aviculture — পাখি পালনবিষয়ক কার্যক্রম।

পিসিকালচার বা Pisciculture — মাছ চাষবিষয়ক বিদ্যা।

সেরিকালচার বা Sericulture — রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদনবিষয়ক বিদ্যা।

Prawn culture — চিংড়ি চাষ।

Frog culture — ব্যাঙ চাষ।

Pearl culture — মুক্তা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ঝিনুক পালন।

Horticulture — ফল, ফুল, শাকসবজি ও উদ্যানজাত ফসলের চাষবিদ্যা।

Animal husbandry — গবাদিপশু পালন, প্রজনন ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিদ্যা।

Poultry farming — হাঁস-মুরগি পালন ও উৎপাদনব্যবস্থা।
বিজ্ঞানী, আবিষ্কার ও উদ্ভাবন
Scientists, Discoveries and Inventions
অ্যারিস্টটল — প্রাণিবিজ্ঞানের প্রাচীন পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।

আন্দ্রেয়াস ভেসালিয়াস — মানবদেহের অঙ্গসংস্থানবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

উইলিয়াম হার্ভে — রক্ত সঞ্চালনের ধারণা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

এডওয়ার্ড জেনার — গুটিবসন্ত প্রতিরোধে টিকাদান পদ্ধতির উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত।

অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক — অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে অণুজীব পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

লুই পাস্তুর — জীবাণুবিজ্ঞান, পাস্তুরাইজেশন ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ।

রোনাল্ড রস — ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ও মশার ভূমিকা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

চার্লস ব্যাবেজ — আধুনিক কম্পিউটারের ধারণার অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত।
জেমস ওয়াট — বাষ্পীয় ইঞ্জিনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রবার্ট হুক — অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কর্ক পর্যবেক্ষণ করে কোষ বা Cell শব্দটি ব্যবহার করেন।

আইজ্যাক নিউটন — বলবিদ্যা, মহাকর্ষ ও আলোকবিজ্ঞানে মৌলিক অবদান রাখেন।

মাইকেল ফ্যারাডে — তড়িৎচুম্বকীয় আবেশসংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল — টেলিফোনের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত।

জন লোগি বেয়ার্ড — প্রাথমিক টেলিভিশন প্রযুক্তির অগ্রদূতদের একজন।

গুলিয়েলমো মার্কনি — বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাইট ভ্রাতৃদ্বয় — নিয়ন্ত্রিত শক্তিচালিত বিমান উড্ডয়নের অগ্রদূত।
গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ
Important Chemical Substances
চক প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বোনেটজাত পদার্থ দিয়ে তৈরি। ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের রাসায়নিক সংকেত \(\mathrm{CaCO_3}\)।

চুনের গুরুত্বপূর্ণ একটি রূপ ক্যালসিয়াম অক্সাইড। এর রাসায়নিক সংকেত \(\mathrm{CaO}\)।

ব্লিচিং পাউডার জীবাণুনাশক ও কাপড় সাদা করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এর প্রচলিত সংকেত \(\mathrm{Ca(OCl)Cl}\)।

বেকিং পাউডার রান্নায় ব্যবহৃত একটি মিশ্র পদার্থ। উত্তপ্ত বা আর্দ্র পরিবেশে এর উপাদানগুলোর বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, ফলে কেক বা অন্যান্য বেকারি খাদ্য ফুলে ওঠে।

পটাশ অ্যালাম একটি দ্বৈত সালফেটজাত লবণ। পানি পরিশোধনসহ বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার রয়েছে।

জিংক অক্সাইড \(\mathrm{ZnO}\) সাদা রঙের পদার্থ এবং বিভিন্ন শিল্প ও ঔষধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

নাইট্রাস অক্সাইড \(\mathrm{N_2O}\) লাফিং গ্যাস নামে পরিচিত।

সালফার ডাই-অক্সাইড \(\mathrm{SO_2}\) বায়ুদূষণ ও এসিড বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস।
ধাতু, সংকর ধাতু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
Metals and Alloys
লোহা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। বিশুদ্ধ লোহার তুলনায় বিভিন্ন সংকর লোহা অধিক ব্যবহারোপযোগী।

ইস্পাত মূলত লোহাভিত্তিক সংকর ধাতু। এতে কার্বনের উপস্থিতি লোহার যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে।

স্টেইনলেস স্টিলে লোহা ছাড়াও ক্রোমিয়াম ও অন্যান্য ধাতু থাকে। ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি মরিচা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ব্রোঞ্জ বা কাঁসা হলো তামা ও টিনের সংকর ধাতু।

পিতল বা Brass হলো তামা ও দস্তার সংকর ধাতু।

সোল্ডার সাধারণত এমন সংকর ধাতু যা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় গলে এবং দুটি ধাতব অংশ সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একক
Important Scientific Units
কাজের SI একক — জুল।

শক্তির SI একক — জুল।

বলের SI একক — নিউটন।

ক্ষমতার SI একক — ওয়াট।

বিদ্যুৎ প্রবাহের SI একক — অ্যাম্পিয়ার।

বৈদ্যুতিক রোধের SI একক — ওহম।

বৈদ্যুতিক চার্জের SI একক — কুলম্ব।

তাপমাত্রার SI একক — কেলভিন।

কম্পাঙ্কের একক — হার্টজ।

বিদ্যুৎশক্তির বাণিজ্যিক একক হিসেবে কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যবহৃত হয়।
ট্রান্সফরমার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র
Transformer and Electronic Devices
ট্রান্সফরমার এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহে ভোল্টেজের মান পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সফরমারের কাজ তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের নীতির ওপর নির্ভরশীল।

স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
যে ট্রান্সফরমার ইনপুটের তুলনায় বেশি ভোল্টেজের আউটপুট দেয় তাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার বলা হয়। এর সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে সাধারণত প্রাইমারি কুণ্ডলীর তুলনায় বেশি পাক থাকে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূরে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় ভোল্টেজ বাড়িয়ে প্রবাহ কমিয়ে শক্তির অপচয় কমানোর কাজে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার গুরুত্বপূর্ণ।

স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার
যে ট্রান্সফরমার ইনপুটের তুলনায় কম ভোল্টেজের আউটপুট দেয় তাকে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার বলা হয়। এর সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে প্রাইমারির তুলনায় পাকের সংখ্যা কম থাকে।

চার্জার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোল্টেজ কমাতে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হয়।

রেকটিফায়ার
রেকটিফায়ার পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ AC-কে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ DC-তে রূপান্তর করে।

ইনভার্টার
ইনভার্টার DC বৈদ্যুতিক শক্তিকে AC বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

অ্যামপ্লিফায়ার
অ্যামপ্লিফায়ার দুর্বল বৈদ্যুতিক সংকেতকে শক্তিশালী করে আউটপুট সংকেতের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

ট্রানজিস্টর
ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক সংকেত পরিবর্ধন ও সুইচিংয়ের কাজে ব্যবহৃত অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ।

লাউডস্পিকার
লাউডস্পিকার বৈদ্যুতিক সংকেতকে শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত করে।
বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র
Scientific Measuring Instruments
অ্যালটিমিটার — উচ্চতা নির্ণয়কারী যন্ত্র।

অ্যামিটার — বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপক যন্ত্র।

অ্যানিমোমিটার — বাতাসের বেগ নির্ণয়ের যন্ত্র।

অডিওমিটার — শ্রবণক্ষমতা পরীক্ষার যন্ত্র।

ওডোমিটার — যানবাহনের অতিক্রান্ত দূরত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র।

ওহমমিটার — বৈদ্যুতিক রোধ পরিমাপক যন্ত্র।

ক্যালরিমিটার — তাপের পরিমাণ নির্ণয়ের যন্ত্র।

কার্ডিওগ্রাফ — হৃদযন্ত্রের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত যন্ত্র।

ক্রোনোমিটার — অত্যন্ত নির্ভুল সময় পরিমাপক যন্ত্র।

গ্যালভানোমিটার — ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক প্রবাহ শনাক্ত বা পরিমাপের যন্ত্র।
হাইগ্রোমিটার — বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র।

হাইড্রোমিটার — তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র।

ব্যারোমিটার — বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপক যন্ত্র।

রেইনগেজ — বৃষ্টিপাত পরিমাপক যন্ত্র।

থার্মোমিটার — তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র।

স্পিডোমিটার — যানবাহনের গতি পরিমাপক যন্ত্র।

ভোল্টমিটার — দুই বিন্দুর বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য পরিমাপক যন্ত্র।

সিসমোগ্রাফ — ভূমিকম্পের কম্পন শনাক্ত ও রেকর্ডকারী যন্ত্র।

ফ্যাদোমিটার — সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত যন্ত্র।

স্টেথোস্কোপ — হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসসহ দেহের অভ্যন্তরীণ শব্দ শোনার যন্ত্র।
শক্তির রূপান্তর ও রূপান্তরক যন্ত্র
Energy Transformation
শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক যন্ত্র এই নীতির ব্যবহারিক প্রয়োগ।

ডায়নামো বা জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

বৈদ্যুতিক মোটর বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

তাপ ইঞ্জিন তাপশক্তির একটি অংশকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

সৌরকোষ সূর্যের আলোকশক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

সৌর প্যানেল অসংখ্য সৌরকোষের সমন্বয়ে তৈরি এবং সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

ব্যাটারিতে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি ব্যবহারের সময় বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বৈদ্যুতিক বাতিতে বৈদ্যুতিক শক্তি প্রধানত আলোক ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বৈদ্যুতিক ঘণ্টায় বৈদ্যুতিক শক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বৈদ্যুতিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

গ্যাসের চুলায় জ্বালানির রাসায়নিক শক্তি প্রধানত তাপশক্তিতে পরিবর্তিত হয়।

ঢেঁকির মতো যন্ত্রে মানুষের যান্ত্রিক শক্তি কাজ ও শব্দে রূপান্তরিত হয়।

মাইক্রোফোন শব্দশক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে।
শব্দ ও তরঙ্গ
Sound and Waves
তরঙ্গ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর সামগ্রিক স্থানান্তর ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি পরিবাহিত হয়।

শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। শব্দ সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যম প্রয়োজন। তাই শূন্যস্থানে শব্দ চলতে পারে না।

শব্দের উৎপত্তির প্রধান কারণ কম্পন। কোনো বস্তু কম্পিত হলে তার আশপাশের মাধ্যমেও পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয় এবং শব্দতরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে।

কম্পাঙ্ক হলো এক সেকেন্ডে সংঘটিত পূর্ণ কম্পনের সংখ্যা। এর একক হার্টজ।

কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দ সাধারণত বেশি জোরে শোনা যায়। অন্যদিকে কম্পাঙ্ক শব্দের তীক্ষ্ণতা বা Pitch নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ সাধারণত নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক সীমার শব্দ শুনতে পারে। মানুষের শ্রবণসীমার ঊর্ধ্বের শব্দকে অতিশব্দ বা Ultrasonic sound বলা হয়।

অতিশব্দ চিকিৎসাবিজ্ঞান, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র ও পানির নিচে বস্তু শনাক্তকরণে ব্যবহার করা হয়।

শব্দের বেগ মাধ্যমভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে কঠিনে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি, তারপর তরলে এবং গ্যাসে তুলনামূলক কম।

বায়ুতে শব্দের বেগ তাপমাত্রার সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তাপমাত্রা বাড়লে সাধারণত শব্দের বেগও বৃদ্ধি পায়।

শব্দ কোনো বাধায় প্রতিফলিত হয়ে কিছু সময় পরে পুনরায় শোনা গেলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে।

অতিশব্দের প্রতিফলন ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা, পানির নিচের বস্তু বা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কাঠামো শনাক্ত করা যায়।
খাদ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন এসিড
Acids Found in Foods
তেঁতুল — টারটারিক এসিড।

আঙুর — টারটারিক এসিড।

লেবু — সাইট্রিক এসিড।

কমলালেবু — সাইট্রিক এসিড।

আনারস — সাইট্রিক এসিডসহ বিভিন্ন জৈব এসিড।

আপেল — ম্যালিক এসিড।

গাজর — বিভিন্ন জৈব এসিডের অল্প পরিমাণ উপস্থিতি থাকতে পারে।
টমেটো — বিভিন্ন জৈব এসিড, বিশেষত সাইট্রিক ও ম্যালিক এসিড।

কলা — ম্যালিক এসিড ও অন্যান্য জৈব এসিড।

দুধ — ল্যাকটিক এসিডের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শসা — বিভিন্ন জৈব এসিডের অল্প পরিমাণ উপস্থিতি থাকতে পারে।

আমলকী — অ্যাসকরবিক এসিড বা ভিটামিন C সমৃদ্ধ।

পালংশাক — অক্সালিক এসিড।

ডাবের পানিতে বিভিন্ন খনিজ লবণ ও জৈব উপাদান থাকে।
আলোকশক্তি
Light Energy
আলো এমন এক ধরনের শক্তি যার সাহায্যে চোখে দর্শনের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। আলোকতরঙ্গ তড়িৎচুম্বকীয় প্রকৃতির হওয়ায় চলাচলের জন্য বস্তুগত মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।

শূন্যস্থানে আলোর বেগ অত্যন্ত বেশি। আলোর বেগ বিভিন্ন স্বচ্ছ মাধ্যমে ভিন্ন হতে পারে।

আলো সাধারণত সমসত্ব মাধ্যমে সরলরেখায় চলাচল করে। আলো বাধাপ্রাপ্ত হলে ছায়া সৃষ্টি হতে পারে।

দৃশ্যমান আলো তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির একটি ক্ষুদ্র অংশ। বিভিন্ন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন।

দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলক বেশি এবং বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম।

তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে আলোর বিচ্ছুরণ বেশি হয়। এ কারণে বেগুনি ও নীল আলো লাল আলোর তুলনায় বেশি বিচ্ছুরিত হয়।
আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ
Reflection and Refraction of Light
আলোকরশ্মি কোনো পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে একই মাধ্যমে ফিরে এলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলা হয়।

প্রতিফলনের সময় আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মধ্যে নির্দিষ্ট সম্পর্ক বজায় থাকে।

এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশের সময় আলোর দিক পরিবর্তিত হলে তাকে প্রতিসরণ বলা হয়।

পানির মধ্যে রাখা কাঠি বাঁকা মনে হওয়া আলোর প্রতিসরণের একটি পরিচিত উদাহরণ।

পানির নিচের বস্তু প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় কিছুটা উপরে দেখা যাওয়াও প্রতিসরণের ফল।

সূর্যোদয়ের কিছু আগে এবং সূর্যাস্তের কিছু পরেও সূর্য দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ ভূমিকা রাখে।

চাঁদ দিগন্তের কাছে অবস্থান করলে বড় দেখানোর ঘটনাটি দৃষ্টিভ্রম ও পরিবেশগত উপলব্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
আলোর বর্ণ ও বিচ্ছুরণ
Colour and Scattering of Light
সাদা আলো বিভিন্ন বর্ণের আলোর সমন্বয়ে গঠিত। প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো প্রবাহিত করলে তা বিভিন্ন বর্ণে বিভক্ত হতে পারে। এ ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বা Dispersion বলা হয়।

দৃশ্যমান বর্ণালিতে প্রধানত বেগুন??, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল বর্ণ দেখা যায়।

কোনো বস্তু যে বর্ণের আলো বেশি প্রতিফলিত করে, সাধারণত সেই বর্ণেই বস্তুটিকে দেখা যায়। অন্যান্য বর্ণের আলো বস্তুটি আংশিক বা অধিকাংশ শোষণ করতে পারে।

সাদা বস্তু দৃশ্যমান আলোর অধিকাংশ বর্ণ প্রতিফলিত করে। কালো বস্তু অধিকাংশ দৃশ্যমান আলো শোষণ করে বলে কালো দেখায়।

সবুজ পাতা সবুজ আলো তুলনামূলক বেশি প্রতিফলিত করে এবং অন্যান্য দৃশ্যমান বর্ণের অনেকাংশ শোষণ করে।

লাল ফুল সাদা আলোতে লাল দেখায় কারণ এটি লাল বর্ণের আলো বেশি প্রতিফলিত করে।

আকাশ নীল দেখার প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলের অণু ও ক্ষুদ্র কণার দ্বারা ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর তুলনামূলক বেশি বিচ্ছুরণ।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অধিক বিচ্ছুরিত হয়ে যাওয়ায় তুলনামূলক দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল ও কমলা আলো চোখে বেশি পৌঁছে। এজন্য সূর্যকে লালচে দেখায়।

সমুদ্র বা বৃহৎ জলরাশিকে নীল দেখার ক্ষেত্রে আলোর বিচ্ছুরণ, প্রতিফলন এবং পানির নিজস্ব শোষণ বৈশিষ্ট্য সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখে।
দর্পণ ও লেন্স
Mirrors and Lenses
মসৃণ প্রতিফলক পৃষ্ঠে আলোর নিয়মিত প্রতিফলনের সাহায্যে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। এমন প্রতিফলক পৃষ্ঠকে দর্পণ বলা হয়।

সমতল দর্পণ
সমতল দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব সাধারণত কাল্পনিক, সোজা এবং বস্তুর সমান আকারের হয়। প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে অবস্থান করছে বলে মনে হয়।

উত্তল দর্পণ
উত্তল দর্পণ বিস্তৃত এলাকার দৃশ্য দেখাতে পারে। তাই গাড়ির পিছনের দিক পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

অবতল দর্পণ
অবতল দর্পণ প্রয়োজন অনুযায়ী বড় প্রতিবিম্ব সৃষ্টি বা আলোকরশ্মি কেন্দ্রীভূত করতে পারে। দন্তচিকিৎসা, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন আলোকযন্ত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।

উত্তল লেন্স
উত্তল লেন্স আলোকরশ্মিকে অভিসারী করে। এটি আতশী কাচ, ক্যামেরা, প্রজেক্টরসহ বহু আলোকযন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

অবতল লেন্স
অবতল লেন্স আলোকরশ্মিকে অপসারী করে। নির্দিষ্ট ধরনের দৃষ্টিদোষ সংশোধনের জন্য চশমায় অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।

মানুষের চোখেও একটি প্রাকৃতিক লেন্স রয়েছে। চোখের লেন্স আলোকরশ্মিকে রেটিনায় কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করে।
  1. কোন মৌলে যোজনী বা বন্ধন গঠনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
    • কার্বন
    • হিলিয়াম
    • নিয়ন
    • আর্গন
  2. রঙের দাগ বা ময়লা পরিষ্কার করতে সাধারণত কোন রাসায়নিকটি ব্যবহার করা হয়?
    • নাইট্রিক এসিড
    • হাইড্রোক্লোরিক এসিড
    • সালফিউরিক এসিড
    • অ্যাসিটিক এসিড
  3. কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক নাম কী?
    • সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • সোডিয়াম কার্বনেট
    • সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
    • সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. খাবার সোডার রাসায়নিক নাম কোনটি?
    • সোডিয়াম কার্বনেট
    • সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
    • সোডিয়াম বাইকার্বনেট
    • ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  5. কোন ধাতুটি সবচেয়ে হালকা?
    • লোহা
    • তামা
    • লিথিয়াম
    • সীসা
  6. ‘গ্যালভানাইজিং’ বলতে কী বোঝায়?
    • লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দেওয়া
    • লোহার ওপর তামার প্রলেপ দেওয়া
    • তামার ওপর রূপার প্রলেপ দেওয়া
    • অ্যালুমিনিয়ামের ওপর লোহার প্রলেপ দেওয়া
  7. ইলেকট্রোপ্লেটিং বলতে কী বোঝায়?
    • তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়া
    • ধাতুকে উত্তপ্ত করে গলানো
    • ধাতুর ওপর রং করা
    • ধাতুকে ঠান্ডা করে কঠিন করা
  8. প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?
    • লোহা
    • হীরা
    • গ্রাফাইট
    • কাচ
  9. ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ প্রায় কত থাকে?
    • ০.১–০.৫%
    • ১–২%
    • ২–৪.৫৬%
    • ৮–১০%
  10. প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
    • ক্যালসিয়াম সালফেট
    • সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • পটাসিয়াম নাইট্রেট
    • ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  11. ‘Water gas’ মূলত কোন দুটি গ্যাসের মিশ্রণ?
    • কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন
    • কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেন
    • নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
    • হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  12. কয়লার প্রধান উপাদান কোন মৌল?
    • অক্সিজেন
    • কার্বন
    • নাইট্রোজেন
    • সালফার
  13. Laughing gas কোনটি?
    • কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • নাইট্রাস অক্সাইড
    • সালফার ডাই-অক্সাইড
    • নাইট্রিক অক্সাইড
  14. ‘অ্যাকোয়া রেজিয়া’ কী?
    • নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ
    • সালফিউরিক এসিড ও পানি
    • অ্যাসিটিক এসিড ও পানি
    • নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিডের মিশ্রণ
  15. কাগজ পরিষ্কার বা সাদা করার কাজে কোন এসিড ব্যবহারের উল্লেখ আছে?
    • সালফিউরিক এসিড
    • ফর্মিক এসিড
    • ল্যাকটিক এসিড
    • সাইট্রিক এসিড
  16. ‘Fruit of lime’ নামে কোন পদার্থ পরিচিত?
    • চুন
    • পানি
    • লবণ
    • পটাশ
  17. প্রাণীবিজ্ঞানের জনক হিসেবে কাকে ধরা হয়?
    • অ্যারিস্টটল
    • ডারউইন
    • লামার্ক
    • মেন্ডেল
  18. শরীরবিদ্যার জনক কে?
    • উইলিয়াম হার্ভে
    • অ্যারিস্টটল
    • রবার্ট হুক
    • লুই পাস্তুর
  19. এনজাইম সম্পর্কে গবেষণার জনক বা আবিষ্কারক হিসেবে কাকে উল্লেখ করা হয়েছে?
    • আদলফ ভন বেয়ার
    • এডওয়ার্ড জেনার
    • লুই পাস্তুর
    • চার্লস ডারউইন
  20. রক্ত সঞ্চালনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন কে?
    • উইলিয়াম হার্ভে
    • রবার্ট কখ
    • লুই পাস্তুর
    • জোসেফ লিস্টার
  21. রুবেলা টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • স্ট্যানলি প্লটকিন
    • এডওয়ার্ড জেনার
    • জোনাস সাল্ক
    • আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  22. আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক কে?
    • নিকোলাস কোপার্নিকাস
    • গ্যালিলিও
    • কেপলার
    • নিউটন
  23. ব্যাটারি আবিষ্কার করেন কে?
    • আলেসান্দ্রো ভোল্টা
    • মাইকেল ফ্যারাডে
    • থমাস এডিসন
    • গ্রাহাম বেল
  24. ডায়নামো আবিষ্কার করেন কে?
    • মাইকেল ফ্যারাডে
    • ভোল্টা
    • এডিসন
    • নিউটন
  25. আধুনিক মনোবিজ্ঞানের জনক হিসেবে কাকে উল্লেখ করা হয়?
    • সিগমুন্ড ফ্রয়েড
    • ওয়াটসন
    • পাভলভ
    • স্কিনার
  26. ইলেকট্রনের আবিষ্কারক কে?
    • জে. জে. থমসন
    • রাদারফোর্ড
    • চ্যাডউইক
    • বোর
  27. উদ্ভিদবিদ্যার জনক কে?
    • থিওফ্রাস্টাস
    • অ্যারিস্টটল
    • ডারউইন
    • মেন্ডেল
  28. উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার নির্ণায়ক ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ আবিষ্কার করেন কে?
    • জগদীশচন্দ্র বসু
    • আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
    • সত্যেন্দ্রনাথ বসু
    • সি. ভি. রমন
  29. জেনেটিক্স বা বংশগতিবিদ্যার জনক কে?
    • গ্রেগর মেন্ডেল
    • চার্লস ডারউইন
    • লামার্ক
    • হার্ভে
  30. বীজগণিতের জনক হিসেবে কাকে উল্লেখ করা হয়?
    • আল-খাওয়ারিজমি
    • ইউক্লিড
    • পিথাগোরাস
    • আর্কিমিডিস
  31. ম্যালেরিয়া জীবাণু আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • রোনাল্ড রস
    • রবার্ট কখ
    • লুই পাস্তুর
    • জোনাস সাল্ক
  32. বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন কে?
    • এডওয়ার্ড জেনার
    • লুই পাস্তুর
    • আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    • রবার্ট কখ
  33. রেডিও আবিষ্কার করেন কে?
    • মারকনি
    • এডিসন
    • বেল
    • টেসলা
  34. টেলিভিশন আবিষ্কার করেন কে?
    • জন লোগি বেয়ার্ড
    • গ্রাহাম বেল
    • মারকনি
    • এডিসন
  35. মোবাইল ফোন আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • মার্টিন কুপার
    • গ্রাহাম বেল
    • জন বেয়ার্ড
    • টিম বার্নার্স-লি
  36. মাইক্রোফোন আবিষ্কার করেন কে?
    • আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
    • জেমস ওয়াট
    • টমাস এডিসন
    • মারকনি
  37. টেলিফোন আবিষ্কার করেন কে?
    • আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
    • এডিসন
    • মারকনি
    • নিউটন
  38. টেলিগ্রাম আবিষ্কারের সঙ্গে কার না??? যুক্ত?
    • স্যামুয়েল মর্স
    • গ্রাহাম বেল
    • জন বেয়ার্ড
    • ফ্যারাডে
  39. ফটোগ্রাফ আবিষ্কার করেন কে?
    • নিসেফোর নিপসে
    • জেমস ওয়াট
    • মাইকেল ফ্যারাডে
    • গ্রাহাম বেল
  40. বিদ্যুৎ চুম্বক আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • উইলিয়াম স্টার্জন
    • নিউটন
    • আইনস্টাইন
    • পাস্তুর
  41. ডায়নামাইট আবিষ্কার করেন কে?
    • আলফ্রেড নোবেল
    • এডিসন
    • নিউটন
    • ফ্যারাডে
  42. বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
    • জেমস ওয়াট
    • মারকনি
    • বেল
    • ডিজেল
  43. রেফ্রিজারেটর আবিষ্কারের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • জেমস হ্যারিসন
    • জেমস ওয়াট
    • এডিসন
    • ফ্যারাডে
  44. কম্পিউটারের জনক কে?
    • চার্লস ব্যাবেজ
    • বিল গেটস
    • অ্যালান টিউরিং
    • জন ভন নিউম্যান
  45. আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসেবে কাকে উল্লেখ করা হয়েছে?
    • জন ভন নিউম্যান
    • চার্লস ব্যাবেজ
    • টিম বার্নার্স-লি
    • স্টিভ জবস
  46. ‘বুলিয়ান বীজগণিত’ ধারণার সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • জর্জ বুল
    • চার্লস ব্যাবেজ
    • অ্যালান টিউরিং
    • নিউটন
  47. লেজার রশ্মি উদ্ভাবনের সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
    • টি. এইচ. মাইম্যান
    • আইনস্টাইন
    • ফ্যারাডে
    • এডিসন
  48. মারাত্মক রোগজীবাণু ধ্বংসে ব্যবহৃত পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন কে?
    • আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    • লুই পাস্তুর
    • রবার্ট কখ
    • জেনার
  49. জীবদেহে রক্ত সঞ্চালনের ধারণা প্রথম স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন কে?
    • উইলিয়াম হার্ভে
    • রবার্ট হুক
    • ভেসালিয়াস
    • পাস্তুর
  50. আলোক শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে কোন যন্ত্রটি সম্পর্কিত?
    • ফটোসেল
    • অ্যামিটার
    • ভোল্টমিটার
    • ব্যারোমিটার