মানসিক দক্ষতা: দশমিক, ক্যালেন্ডার, ঘড়ি, আয়না, প্যাটার্ন, সংকেত ও সাদৃশ্য — BCS Cadre

মানসিক দক্ষতা: দশমিক, ক্যালেন্ডার, ঘড়ি, আয়না, প্যাটার্ন, সংকেত ও সাদৃশ্য: গণিত, BCS Cadre পাঠ ও 0টি প্রশ্নের অনুশীলন। পৃষ্ঠা 1/1।

এ অধ্যায়ের পাঠ্যসূচী
মানসিক দক্ষতা ও যুক্তিভিত্তিক সমস্যা
Mental Ability and Logical Reasoning
মানসিক দক্ষতায় সংখ্যার নিয়ম আবিষ্কার, বর্ণের অবস্থান বিচার, চিত্রের পরিবর্তন শনাক্ত, সময় ও দিন গণনা, শব্দের সাদৃশ্য এবং সহজ পদার্থবিজ্ঞানের যুক্তি প্রয়োগ করা হয়।
এই ধরনের সমস্যায় প্রথমে তথ্যের ধরন আলাদা করা দরকার—সংখ্যা, বর্ণ, চিত্র, সম্পর্ক, দিক বা সময়। তারপর একাধিক সম্ভাব্য নিয়মের মধ্যে যে নিয়মটি সব প্রদত্ত উদাহরণে খাটে সেটি নির্বাচন করতে হয়।
একটি উদাহরণের সঙ্গে মিললেই কোনো নিয়ম নিশ্চিত নয়; পরবর্তী উদাহরণগুলোতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য কি না যাচাই করতে হবে।
একাধিক দশমিক সংখ্যার গুণ
Multiplication of Decimals
দশমিক সংখ্যার গুণে প্রথমে দশমিক চিহ্ন উপেক্ষা করে পূর্ণসংখ্যার গুণফল বের করা যায়। পরে গুণনীয়কগুলোর দশমিকের পরের অঙ্কসংখ্যা যোগ করে গুণফলের ডান দিক থেকে সেই সংখ্যক স্থান গুনে দশমিক বসাতে হয়।
উদাহরণে দুটি সংখ্যার দশমিকের পরে যথাক্রমে দুই ও তিনটি অঙ্ক থাকলে গুণফলে মোট পাঁচটি দশমিক স্থান থাকবে।
যেমন, \(0.12\) এবং \(0.003\) গুণ করলে অঙ্কগুলোর গুণফল \(12\times3\) অর্থাৎ \(36\) এবং দশমিক স্থান পাঁচটি। ফলে \(0.00036\)।
গুণফলে প্রয়োজনীয় অঙ্ক কম হলে বাম দিকে শূন্য বসিয়ে স্থান পূরণ করতে হবে। কোনো সংখ্যার মান \(1\)-এর কম হলে অনেকগুলো গুণনীয়কের গুণফল আরও ছোট হতে পারে—এটি আনুমানিক যাচাইয়ের একটি উপায়।
শতকরা অংশ থেকে মূল সংখ্যা নির্ণয়
Reverse Percentage
কোনো সংখ্যার \(p\) শতাংশের মান \(q\) জানা থাকলে সম্পূর্ণ সংখ্যাটি শতকরা অনুপাত থেকে বের করা যায়।
\[\text{মূল সংখ্যা}\;\colon\;\frac{q\times100}{p}\]
এখানে \(p\) শূন্য নয়। ধরা যাক, অজানা মোট পরিমাণের \(8\%\) হচ্ছে \(24\) একক। তাহলে মোট পরিমাণ \(\frac{24\times100}{8}\), অর্থাৎ \(300\) একক।
পরীক্ষায় মূল সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট শতাংশের মানের মধ্যে কে বড় হবে তা আগেই বিবেচনা করলে দশমিক বা শূন্য বসানোর ভুল ধরা যায়।
সপ্তাহের দিন ও দিন গণনার পদ্ধতি
Days of the Week
সপ্তাহে সাতটি দিন। তাই কোনো নির্দিষ্ট দিনের বহু দিন আগে বা পরে কোন বার ছিল তা নির্ণয়ে দিনের সংখ্যাকে সাত দিয়ে ভাগ করে অবশিষ্ট ব্যবহার করা হয়।
\[\text{কার্যকর দিনের ব্যবধান}\;\colon\;n\bmod 7\]
ধরা যাক আজ সোমবার, তবে দশ দিন পরে দিন গণনায় দশের অবশিষ্ট তিন; সোমবার থেকে তিন দিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার পাওয়া যায়। দশ দিন আগে হলে বিপরীত দিকে তিন দিন যেতে হবে।
আগামী পরশু, গত পরশু, আগামী পরশুর পরদিন—এ ধরনের যৌগিক বর্ণনা প্রথমে আজ থেকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দিনের দূরত্বে লিখলে সহজ হয়।
সপ্তাহের সাত দিনের ক্রম
মাসের দিনসংখ্যা ও তারিখ পরিবর্তন
Month Lengths and Date Shifts
সাধারণ বছরে জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুলাই, আগস্ট, অক্টোবর ও ডিসেম্বর—এই সাতটি মাসের প্রতিটিতে \(31\) দিন থাকে। এপ্রিল, জুন, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরের প্রতিটিতে \(30\) দিন এবং ফেব্রুয়ারিতে সাধারণত \(28\) দিন।
তারিখ এগোনোর সময় চলতি মাসে বাকি দিনগুলো গণনা করে পরের মাসে যেতে হয়। তারিখ পিছোলে আগের মাসের শেষ তারিখ থেকে হিসাব শুরু করতে হয়।
একই বছরের প্রথম দিন ও শেষ দিন সাধারণ বছরে একই বার হয়, কারণ \(365\) দিনকে সাত দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট এক এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান \(364\) দিন। অধিবর্ষে ব্যবধান \(365\) দিন, তাই শেষ দিনের বার এক দিন এগিয়ে যায়।
অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার
Leap Year
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিতে সাধারণভাবে চার দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য বছর অধিবর্ষ হয়। তবে শতাব্দী-শেষের বছর হলে চারশ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য হতে হয়।
সুতরাং \(2000\) সাল অধিবর্ষ কিন্তু \(1900\) সাল অধিবর্ষ নয়; \(2024\) সাল অধিবর্ষ।
অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারি মাসে \(29\) দিন ও বছরে \(366\) দিন থাকে। স্বাভাবিক বছরের তুলনায় একটি অতিরিক্ত দিন থাকায় পরবর্তী বছরের শুরুর বার দুই দিন এগোয়।
বিজোড় দিন এবং দীর্ঘ সময়ের বার নির্ণয়
Odd Days
সাত দিয়ে ভাগ করার পরে যে অবশিষ্ট দিন থাকে তাকে বিজোড় দিন বা Odd Days বলা হয়। সাধারণ বছর সাত দিনের পূর্ণ সপ্তাহ ছাড়াও একটি দিন দেয়; অধিবর্ষ দুই দিন দেয়।
বহু বছরের দিনের যোগফল নির্ণয়ে প্রথমে মোট সাধারণ বছর ও অধিবর্ষ গণনা করে বিজোড় দিনগুলো যোগ করতে হবে, তারপর সাত দিয়ে ভাগের অবশিষ্ট নিতে হবে।
কেবল চার দিয়ে বিভাজ্যতার নিয়ম প্রয়োগ না করে শতাব্দী-শেষের ব্যতিক্রম পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট তারিখের বার নির্ণয় করলে পূর্ববর্তী মাসগুলোর দিনের সংখ্যাও যোগ করতে হবে।
আয়নায় ঘড়ির সময়
Mirror Image of a Clock
উল্লম্ব সমতল আয়নায় ঘড়ির ডান ও বাম দিক বিনিময় হয়। তাই বাস্তব ঘড়ির সময় ও আয়নায় দেখা সময়ের যোগফল সাধারণ বারো ঘণ্টার ডায়ালে \(11\) ঘণ্টা \(60\) মিনিটের সমতুল্য ধরা হয়।
\[\text{বাস্তব সময়}\;\colon\;11{:}60-\text{আয়নার সময়}\]
যেমন, আয়নায় সময় \(03{:}25\) দেখা গেলে প্রকৃত সময় \(08{:}35\)। সময়ের মিনিট শূন্য হলে একই নিয়ম প্রয়োগের সময় ঘণ্টার ধার নেওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে।
ঘড়ির কাঁটার কেবল অবস্থান নয়, সংখ্যাগুলোর বাম-ডান প্রতিবিম্বও মিলিয়ে দেখা উপকারী।
বাস্তব ঘড়ি ও উল্লম্ব আয়নায় প্রতিফলিত ঘড়ির উদাহরণ
ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণ
Angle Between Clock Hands
মিনিটের কাঁটা এক মিনিটে \(6^\circ\) এবং ঘণ্টার কাঁটা এক মিনিটে \(0.5^\circ\) ঘোরে। অর্থাৎ তাদের আপেক্ষিক কৌণিক বেগ প্রতি মিনিটে \(5.5^\circ\)।
ঘড়িতে \(H\) ঘণ্টা \(M\) মিনিট হলে বারো ঘণ্টার মানে প্রাথমিক কৌণিক পার্থক্য—
\[\theta\;\colon\;\left|30H-\frac{11M}{2}\right|^\circ\]
প্রয়োজনে \(\theta\) কে \(360^\circ\) দিয়ে সমন্বয় করতে হবে। ক্ষুদ্র কোণ চাইলে \(\min(\theta,360^\circ-\theta)\) নেওয়া হয়, যেখানে \(\theta\) প্রথমে \(0\) থেকে \(360\) ডিগ্রির মধ্যে রাখা হয়।
যেমন, \(2{:}30\)-এ ঘণ্টার কাঁটার অবস্থান \(75^\circ\) ও মিনিটের কাঁটার অবস্থান \(180^\circ\); ক্ষুদ্রতর কোণ \(105^\circ\)।
ঘড়ির ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটার অবস্থান
আয়নায় অক্ষর, শব্দ ও অঙ্কের প্রতিবিম্ব
Mirror Images of Letters and Digits
উল্লম্ব আয়নায় বাম-ডান অবস্থান বিপরীত হয়, কিন্তু ওপর-নিচ অপরিবর্তিত থাকে। ইংরেজি বড় হাতের কয়েকটি অক্ষর যেমন A, H, I, M, O, T, U, V, W, X, Y উল্লম্ব অক্ষে প্রতিসম থাকলে নিজেদের মতো দেখায়। ফন্টের ওপর এ বৈশিষ্ট্য কিছুটা নির্ভর করে।
পূর্ণ শব্দের ক্ষেত্রে অক্ষরের অবস্থান ডান থেকে বামে উল্টানোর পাশাপাশি প্রতিটি অক্ষরের আকৃতিও প্রতিবিম্বিত করতে হয়। শুধু শব্দের অক্ষরগুলো বিপরীত ক্রমে লিখলেই যথার্থ আয়না-ছবি হয় না।
অঙ্কের ক্ষেত্রেও \(0\) ও \(8\) সাধারণ ছাপায় উল্লম্ব প্রতিসম হতে পারে; অন্য অঙ্কের প্রতিবিম্বে চেহারা বদলায়।
উল্লম্ব আয়নায় শব্দের আকার ও অবস্থানের ধারণা
চিত্রের প্যাটার্ন বুঝে সমাধানের কৌশল
Visual Pattern Recognition
প্যাটার্নে পর্যবেক্ষণের বিষয় হলো বাইরের আকৃতি, ভেতরের আকৃতি, অবস্থান, সংখ্যা, রেখার দিক, ছায়ার রং এবং ঘূর্ণনের পরিমাণ।
প্রথম দুই বা তিনটি চিত্রের তুলনা করে কোন বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকছে ও কোনটি নিয়মমতো বদলাচ্ছে তা নির্ণয় করতে হবে। যেমন—ভেতরের চিহ্ন ঘড়ির কাঁটার দিকে এক কোণা করে সরতে পারে অথবা প্রতি ধাপে একটি রেখা যোগ হতে পারে।
উত্তরের বিকল্পগুলোর মধ্যে প্রথমেই যেগুলো বাইরের আকৃতির নিয়ম ভাঙে সেগুলো বাদ দিলে সিদ্ধান্ত সহজ হয়।
বর্গের ভেতরের চিহ্ন বিভিন্ন অবস্থানে সরে যাওয়ার প্যাটার্ন
বহিঃআকৃতি, অন্তঃআকৃতি এবং পর্যায়ক্রম
Outer and Inner Shape Sequences
একাধিক আকৃতি একে অন্যের ভেতর থাকলে বাইরের ও ভেতরের ধারাকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। একটি ধারা বৃত্ত, ত্রিভুজ, বর্গ দিয়ে চলতে পারে; অন্য ধারা প্রতি দ্বিতীয় চিত্রে ভেতরের অনুরূপ ছোট আকৃতি যুক্ত করতে পারে।
সমস্যায় বড় আকৃতিটি একই রেখে ছোট আকৃতি বদলানো হচ্ছে, নাকি বড় ও ছোট—দুটিই আবর্তিত হচ্ছে, তা আলাদা করে পরীক্ষা করতে হবে।
একবার একটি সম্ভাব্য নিয়ম বের হলে সেটি প্রথম থেকে সব চিত্রে প্রয়োগ করে দেখা জরুরি।
বৃত্ত, ত্রিভুজ ও বর্গের ভেতরে অনুরূপ ক্ষুদ্র আকৃতি
ভিন্ন চিত্র নির্বাচন
Odd Figure Out
চার বা পাঁচটি চিত্রের মধ্যে একটি ভিন্ন হলে মিলের ভিত্তিটি নির্ধারণ করতে হয়। মিল হতে পারে বাহুর সংখ্যা, বক্ররেখা, সমান্তরাল বাহু, ঘূর্ণন, প্রতিসাম্য বা ভেতরের অংশের সংখ্যা।
উদাহরণে তিনটি চিত্র চতুর্ভুজ হলেও চতুর্থটি উপবৃত্ত হলে উপবৃত্তকে পৃথক করা যায়, কারণ এতে কোনো সরল বাহু বা শীর্ষবিন্দু নেই।
কেবল চেহারায় আলাদা মনে হচ্ছে বলে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্দিষ্ট জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।
বহুভুজ ও বক্ররেখার চিত্র তুলনা
চিত্র সংযোজন, বিয়োজন ও ঘূর্ণন
Superposition and Rotation
কিছু প্যাটার্নে পরের চিত্রটি তৈরি হয় আগের দুটি চিত্রের অংশ একত্র করলে; অন্য ক্ষেত্রে একই অংশ বাদ দিলে পরের অবস্থা পাওয়া যায়। এ জন্য চিত্রে কোন রেখা নতুন এসেছে ও কোন রেখা বিলুপ্ত হয়েছে তা তুলনা করতে হবে।
ঘূর্ণন ও প্রতিবিম্ব আলাদা রূপান্তর। ঘূর্ণনে রেখা ও চিহ্ন একই কেন্দ্রের চারদিকে সরে যায়, কিন্তু প্রতিবিম্বে বাম-ডান ক্রম উল্টায়।
কালো-সাদা ঘরবিশিষ্ট প্যাটার্নে কালো ঘরের স্থান, ঘরের সংখ্যা এবং প্রতি ধাপের দিক পরিবর্তন শনাক্ত করাই প্রধান কৌশল।
ইংরেজি বর্ণমালার অবস্থান ও বিপরীত বর্ণ
Alphabet Positions and Reverse Letters
ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষরগুলোর অবস্থান A থেকে Z পর্যন্ত যথাক্রমে \(1\) থেকে \(26\)।
দুই অক্ষর বিপরীত জোড়া হলে তাদের অবস্থানের যোগফল \(27\)। যেমন A ও Z, B ও Y, C ও X।
সামনে বা পেছনে কত অক্ষর সরে যাওয়া হয়েছে তা নির্ণয় করতে প্রতিটি অক্ষরকে সংখ্যার অবস্থানে রূপান্তর করে পার্থক্য গণনা করতে হবে।
কোনো অক্ষরের পরে Z পার হয়ে আবার A-তে ফিরলে \(26\) অক্ষরের চক্র ব্যবহার করতে হয়।
বাংলা বর্ণক্রম ও স্থান নির্ণয়
Bengali Alphabetical Ordering
বাংলা বর্ণমালাভিত্তিক প্রশ্নে প্রথমেই বোঝা জরুরি যে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বর্ণের ক্রম ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোনো বর্ণের আগের বা পরের পঞ্চম বর্ণ খুঁজতে হলে সংশ্লিষ্ট ধারাটি লিখে নির্ধারিত সংখ্যক ধাপ গুনতে হবে। বর্ণটিকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না প্রশ্নের ভাষা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।
যুক্তবর্ণ বা আঞ্চলিক পাঠ্যক্রমের ক্রম আলাদা হতে পারে; তাই সমস্যা নিজেই যে ক্রম দিয়েছে সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বর্ণ পুনর্বিন্যাস ও অর্থপূর্ণ শব্দ
Anagrams and Word Formation
একগুচ্ছ অক্ষর নতুন করে সাজিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি করলে তাকে অ্যানাগ্রাম ধরনের সমস্যা বলা যায়।
সমাধানে প্রথমে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ পৃথক করে সাধারণ শব্দের গঠন মিলিয়ে দেখা হয়। একই অক্ষর কতবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোনো অক্ষর বাদ পড়েছে কি না যাচাই করা জরুরি।
যদি উত্তরটির ধরন দেশ, প্রাণী, শহর বা বস্তু জানতে চাওয়া হয়, তবে সেই অর্থগত শ্রেণিও সমাধানের দিক নির্দেশ করে।
শুধু একটি সম্ভাব্য শব্দ তৈরি হলেই যথেষ্ট নয়; তার অক্ষরসংখ্যা ও প্রতিটি অক্ষরের পুনরাবৃত্তি মূল অক্ষরসমষ্টির সঙ্গে মিলতে হবে।
অক্ষর ও সংখ্যার সাংকেতিক বিন্যাস
Coding and Decoding
কোডিংয়ে একটি শব্দ, বর্ণ বা সংখ্যাকে নির্দিষ্ট নিয়মে অন্য চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয়। নিয়ম হতে পারে প্রতিটি বর্ণ নির্দিষ্ট সংখ্যক ধাপ এগোনো, বিপরীত বর্ণ নেওয়া, অবস্থান অদলবদল, অক্ষরকে সংখ্যা দিয়ে প্রতিস্থাপন অথবা দুইটি নিয়ম একসঙ্গে প্রয়োগ।
একই অক্ষর একাধিক স্থানে এলে তার কোড একই কি না দেখে অক্ষর-সংখ্যার নির্দিষ্ট মানচিত্র অনুমান করা যায়।
কোডের দৈর্ঘ্য মূল শব্দের সমান কি না পরীক্ষা করা দরকার। সমান না হলে নতুন চিহ্ন যোগ-বিয়োগ বা যৌথ গোষ্ঠীকরণ থাকতে পারে।
যেমন প্রতিটি বর্ণ এক ধাপ সামনে সরালে CAT থেকে DBU পাওয়া যায়। এটি কেবল নিয়মটি বোঝানোর জন্য তৈরি উদাহরণ।
বর্ণজোড়া অদলবদল ও অবস্থানভিত্তিক কোড
Pair Swapping and Position Based Codes
কোনো শব্দে পাশাপাশি দুটি অক্ষরকে জোড়া ধরে অদলবদল করলে প্রথম-দ্বিতীয়, তৃতীয়-চতুর্থ এবং এভাবে পরবর্তী অক্ষরের অবস্থান বিনিময় হয়।
জোড় সংখ্যক অক্ষর থাকলে প্রতিটি অক্ষর জোড়ায় ভাগ করা যায়। বিজোড় সংখ্যক অক্ষর হলে শেষ অক্ষর অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে প্রদত্ত উদাহরণ দেখে নিয়ম নিশ্চিত করতে হবে।
অন্য ধরনের কোডে প্রথম অক্ষর শেষের সঙ্গে, দ্বিতীয় অক্ষর শেষের আগেরটির সঙ্গে বিনিময় হতে পারে। একাধিক কোড-জোড়া দিয়ে নিয়ম যাচাই ছাড়া অনুমান করা উচিত নয়।
সংখ্যা ও বর্ণের যুগ্ম ধারা
Mixed Alphanumeric Series
এ ধরনের ধারায় লবের সংখ্যা, হরের বর্ণ, প্রতিটি প্রতীকের অবস্থান—সবগুলোতে পৃথক নিয়ম থাকতে পারে।
সংখ্যাগত অংশে পার্থক্যের ধারা \(2,3,4,5\), বর্গসংখ্যা, মৌলিক সংখ্যা অথবা গুণনভিত্তিক নিয়ম পাওয়া যেতে পারে।
বর্ণের অংশে A, D, G-এর মতো নির্দিষ্ট ব্যবধান কিংবা উল্টো বর্ণক্রম থাকতে পারে।
একই সঙ্গে চলা দুটি ধারার পরবর্তী পদ বের করে তারপর তাদের নির্ধারিত বিন্যাসে যুক্ত করতে হয়।
বিশেষ সংজ্ঞায়িত গাণিতিক অপারেশন
Custom Mathematical Operations
কখনো স্বাভাবিক গুণ বা যোগচিহ্নের সঙ্গে প্রচলিত নিয়ম নয়, প্রশ্নে উদাহরণ দিয়ে নতুন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।
যেমন \(2\) এবং \(3\) দিয়ে তৈরি কোড \(812\) হলে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে প্রথম সংখ্যার চারগুণ এবং দ্বিতীয় সংখ্যার চারগুণ পাশাপাশি লেখা হয়েছে। কিন্তু একই নিয়ম আরেকটি উদাহরণেও মিলছে কি না যাচাই করতে হবে।
দুটি সংখ্যার ফলকে পাশাপাশি লিখলে তাকে সাধারণ সংখ্যা হিসেবে যোগ বা গুণ করে ফেলা যাবে না।
সম্ভাব্য নিয়ম একাধিক হলে সব প্রদত্ত উদাহরণের সঙ্গে মেলে এমন সহজতম নিয়ম গ্রহণ করতে হয়।
শব্দ ও বস্তুর সাদৃশ্য নির্ণয়
Verbal Analogies
সাদৃশ্য প্রশ্নে দুটি শব্দের সম্পর্ক একটি তৃতীয় শব্দের সঙ্গে প্রয়োগ করে চতুর্থ শব্দ খুঁজতে হয়। সম্পর্ক হতে পারে যন্ত্র ও কাজ, পদার্থ ও বৈশিষ্ট্য, কারণ ও ফল, পেশা ও কর্মক্ষেত্র, বিপরীতার্থক, সমার্থক অথবা অংশ ও সমগ্র।
যেমন থার্মোমিটার তাপমাত্রা পরিমাপ করে এবং ঘড়ি সময় নির্দেশ করে। এখানে সম্পর্ক হলো যন্ত্র ও পরিমাপযোগ্য বিষয়।
একই রকম শব্দ বা কাছাকাছি অর্থ হলেই সঠিক সাদৃশ্য হয় না। প্রশ্নের প্রথম জোড়ার নির্দিষ্ট সম্পর্কটি হুবহু দ্বিতীয় জোড়ায় বজায় থাকতে হবে।
সমার্থক, বিপরীতার্থক এবং শব্দের যুক্তি
Synonyms, Antonyms and Word Relations
বাংলা শব্দ-সাদৃশ্যে সমার্থক ও বিপরীতার্থক সম্পর্ক ছাড়াও উৎপত্তি, ফলাফল, কার্যকারণ, স্থান-সম্পর্ক ও ব্যক্তির গুণের সম্পর্ক থাকতে পারে।
যেমন ‘সাহস’ ও ‘ভীরুতা’ অর্থগতভাবে বিপরীতধর্মী; ‘প্রচেষ্টা’ থেকে ‘সাফল্য’ আসতে পারে কিন্তু সম্পর্কটি অনিবার্য নয়।
সমার্থক শব্দ নির্বাচনের সময় প্রসঙ্গ, শব্দের ব্যবহার ও অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ্য করা উচিত।
ইংরেজি analogy-তেও একইভাবে সম্পর্কের ধরন আগে একটি ছোট বাক্যে প্রকাশ করলে উপযুক্ত উত্তর বেছে নেওয়া সহজ হয়।
দাঁড়িপাল্লা ও ভরসাম্যের মূলনীতি
Lever Equilibrium
সমতলে একটি দণ্ড নির্দিষ্ট অবলম্বনের ওপর ভারসাম্যে থাকলে অবলম্বনের দুই পাশে ঘূর্ণন-প্রভাব বা মোমেন্টের মান সমান হয়। ওজনের মানকে অবলম্বন থেকে লম্ব দূরত্ব দিয়ে গুণ করে মোমেন্ট পাওয়া যায়।
\[W_1d_1\;\colon\;W_2d_2\]
এখানে কোলনের দুই পাশে রাশির মান ভারসাম্যের জন্য সমান হতে হবে। একটি পাশে ওজন বাড়লে অন্য পাশের দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়।
উদাহরণে বাম পাশে \(12\) কেজি ভর অবলম্বন থেকে \(5\) মিটার দূরে থাকলে ডান পাশে \(3\) মিটার দূরে সমতুল্য ভর \(\frac{12\times5}{3}\), অর্থাৎ \(20\) কেজি প্রয়োজন।
একাধিক ভার থাকলে একই পাশে সব মোমেন্টের যোগফল বিবেচনা করতে হয়।
অবলম্বনের দুই পাশে ওজন ও দূরত্বের ভারসাম্য
পুলি, রোলার ও বল প্রয়োগ
Pulley, Roller and Force
দুটি পৃষ্ঠের মধ্যে ভারী বস্তু সরাতে চাকার মতো রোলার ব্যবহার করলে গড়ানোর মাধ্যমে ঘর্ষণের প্রতিবন্ধকতা কমানো যায়। দড়ি দিয়ে টানা বা মসৃণ পৃষ্ঠে ঠেলার তুলনা করতে হলে বলের দিক, ঘর্ষণ এবং সংযোগস্থলের প্রকৃতি বিবেচনা করতে হবে।
ঘূর্ণায়মান হাতল বা স্ক্রু-ড্রাইভারে হাতলের ব্যাস বড় হলে একই বল প্রয়োগে ঘূর্ণন-মোমেন্ট বেশি তৈরি করা সম্ভব।
\[\tau\;\colon\;F\times r\]
এখানে \(F\) হলো স্পর্শকীয় বল এবং \(r\) হলো ঘূর্ণন অক্ষ থেকে লম্ব দূরত্ব। তাই বড় হাতল দিয়ে ঘোরানোর সময় একই টর্কের জন্য তুলনামূলক কম বল দরকার হয়।